চুরির সময় দেখে ফেলায় সাংবাদিকের মা–বাবাকে পিটিয়ে জখম: ফরিদপুরের পুলিশ সুপার
Categories:

ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলায় সাংবাদিক সৌগত বসুর বাবা-মাকে লাঠি দিয়ে আক্রমণ করা হয়, যার ফলে তারা আহত হয়। পুলিশ সুপার আব্দুল জলিল জানান, পল্লব কুমার রায় (১৯) নামের এক তরুণকে এই অপরাধে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি আদালতে চুরির এবং আক্রমণের অপরাধ স্বীকার করেছেন।
ফরিদপুর, ০৬ জানুয়ারি, ২০২৫: ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলায় সাংবাদিক সৌগত বসুর মা-বাবাসহ তিনজনকে লাঠি দিয়ে পিটিয়ে আহত করার ঘটনায় পল্লব কুমার রায় (১৯) নামের এক তরুণকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এই তথ্য আজ সোমবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে জেলা পুলিশ সুপার মো. আব্দুল জলিল নিজ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে জানান।
পুলিশ সুপার বলেন, “এই তিনজনকে পিটিয়ে আহত করেছেন পল্লব কুমার রায়। তাঁদের কোপ দেওয়ার কোনো ঘটনা ঘটেনি। এটি কোনো ডাকাতির ঘটনা নয়, কিংবা এ ঘটনার পেছনে বিশেষ কোনো উদ্দেশ্য ছিল না।” পল্লব গতকাল রোববার আদালতে এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন।
গত শুক্রবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে মধুখালী উপজেলার ডুমাইন ইউনিয়নের পূর্বপাড়া গ্রামে আজকের পত্রিকা-এর ঢাকার নিজস্ব প্রতিবেদক সৌগত বসুর বাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটে। এই হামলায় সৌগত বসুর বাবা বীর মুক্তিযোদ্ধা শ্যামলেন্দু বসু (৬৫), মা কাকলী বসু (৬০) এবং প্রতিবেশী কিশোরী প্রীতি মালো (১৫) আহত হন। শনিবার সৌগত বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে চুরির অভিযোগে একটি মামলা করেন।
সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার মো. আব্দুল জলিল জানান, মামলা হওয়ার পর শনিবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে পল্লব কুমার রায়কে ডুমাইন খেয়াঘাট এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। রোববার আদালতে পল্লব স্বীকার করেন, তিনি নেশা করার টাকা সংগ্রহ করার জন্য চুরির উদ্দেশ্যে ওই বাড়িতে প্রবেশ করেন। বাড়ির মালিক শ্যামলেন্দু বসু তাঁকে দেখে ফেলায় তিনি ওই তিনজনকে একটি স্টিলের লাঠি দিয়ে পিটিয়ে পালিয়ে যান। আদালতের নির্দেশে গতকাল রাতে পল্লবকে কারাগারে পাঠানো হয়।
পল্লব মধুখালীর ডুমাইন ইউনিয়নের বটপাড়া গ্রামের বাসিন্দা, যিনি গাঁজা সেবন করেন, তবে তাঁর বিরুদ্ধে আগে চুরির কোনো অভিযোগ ছিল না বলে জানা যায়।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) শৈলেন চাকমা, সহকারী পুলিশ সুপার (মধুখালী সার্কেল) ইমরুল হাসান, মধুখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নুরুজ্জামান এবং মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক মোক্তার হোসেনসহ পুলিশের অন্যান্য কর্মকর্তারা।
আহত শ্যামলেন্দু বসু এবং কাকলী বসু বর্তমানে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সার্জারি ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন। সংবাদ সম্মেলনে সৌগত বসু প্রথম আলোকে পুলিশের কাজে প্রশ্ন তুলেন। তিনি বলেন, “গ্রেপ্তার হওয়া পল্লব এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত নয়। এ ঘটনার সঙ্গে যারা জড়িত তাঁদের নাম পুলিশকে দেওয়া হয়েছিল। তাঁরা বর্তমানে সপরিবার আত্মগোপনে আছেন। কিন্তু পুলিশ তা আমলে নেয়নি।” তিনি আরো বলেন, “প্রথম দিকে পুলিশ আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করলেও পরের দিকে যোগাযোগ করেনি।”
পুলিশ সুপার মো. আব্দুল জলিল সৌগত বসুর বক্তব্যের প্রতিবাদে বলেন, “বাদী অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা করেছেন। পুলিশ তদন্ত করে যা পেয়েছে, তার ভিত্তিতেই আসামি শনাক্ত করা হয়েছে। আলামতও উদ্ধার করা হয়েছে। আসামি দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দিও দিয়েছেন।”
এই ঘটনা প্রকাশে সাংবাদিক সমাজ এবং সাধারণ জনগণের মধ্যে সতর্কতা বৃদ্ধি পেয়েছে, যারা এই ধরনের আক্রমণের বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার ও শাস্তির দাবি জানাচ্ছে।