শ্রীপুরে ব্যবসায়ীকে হাতকড়া পরিয়ে টাকা ছিনতাই, এসআই প্রত্যাহার
Categories:

গাজীপুরের শ্রীপুরের হানু মার্কেট এলাকায় এক ব্যবসায়ীকে হাতকড়া পরিয়ে দুই লাখ টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগে মাওনা পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ, এসআই আবদুল কুদ্দুসকে থানা থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। ভুক্তভোগী সবুজ সরকার মুঠোফোন ব্যবসা করেন। তিনি ফেসবুকে সেলফি শেয়ার করে ঘটনার প্রমাণ দেন।
গাজীপুর, ০৬ জানুয়ারি, ২০২৫: গাজীপুরের শ্রীপুরের হানু মার্কেট এলাকায় এক ব্যবসায়ীকে হাতকড়া পরিয়ে টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় শ্রীপুর থানার মাওনা পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ, উপপরিদর্শক (এসআই) আবদুল কুদ্দুসকে থানা থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। এই ঘটনার পটভূমিতে শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জয়নাল আবেদীন আজ সোমবার বেলা ১১টার দিকে বলেন, “ব্যবসায়ীকে হাতকড়া পড়ানো সংক্রান্ত ঘটনায় কর্তৃপক্ষ ওই এসআইকে ক্লোজড (প্রত্যাহার) করে গাজীপুর পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করেছে।”
ঘটনার কেন্দ্রীয় ব্যক্তি হচ্ছেন সবুজ সরকার, যিনি মুঠোফোন সরঞ্জামের ব্যবসা করেন। তাঁকে হাতকড়া পরিয়ে আটক করে তাঁর কাছ থেকে দুই লাখ টাকা ছিনতাই করার অভিযোগ উঠেছে এসআই আবদুল কুদ্দুসের বিরুদ্ধে। সবুজ সরকার জানান, গত শুক্রবার তাঁকে হানু মার্কেট এলাকা থেকে আটক করেন এসআই আবদুল কুদ্দুস। সেই সময় তিনি মুঠোফোনে সেলফি তুলে ফেসবুকে শেয়ার করেছিলেন। গতকাল রোববার ওই ছবি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ার পর এই ঘটনা জনসমক্ষে আসে।
সবুজ সরকার বিস্তৃত বিবরণ দেন, “আমাকে এক স্বজনের কথায় গত শুক্রবার হানু মার্কেট এলাকা থেকে আটক করেন এসআই আবদুল কুদ্দুস। আটক করে তিনি আমাকে হাতকড়া পরিয়ে পুলিশ ফাঁড়ির পাশের একটি লোহার পাইপের সঙ্গে আটকে রাখেন। আটক করে তার কাছ থেকে দুই লাখ টাকা ছিনিয়ে নেন। আটক থাকা অবস্থায় আমি সেলফি তুলে রাখি। টাকা নেওয়ার পর ওই পুলিশ সদস্য আমাকে ছেড়ে দেন।”
সবুজ সরকার আরও বলেন যে, তাঁর বিরুদ্ধে কোনো মামলা নেই। তিনি উল্লেখ করেন, “পারিবারিক জমি নিয়ে এক স্বজনের সঙ্গে বিরোধের জেরে তাঁকে এইভাবে হেয়ানি করে টাকা ছিনিয়ে নিয়েছেন ওই পুলিশ সদস্য।” তবে এসআই আবদুল কুদ্দুস এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
পুলিশ প্রশাসনের এই কার্যক্রম সম্পর্কে জয়নাল আবেদীন বলেন, “এই ধরনের ঘটনা আমাদের প্রতি জনগণের বিশ্বাসকে ক্ষুণ্ণ করতে পারে। আমরা এই বিষয়ে গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করব এবং দোষী প্রমাণিত হলে আইনসম্মত ব্যবস্থা নিতে হবে।”
এই ঘটনা শ্রীপুর এবং গাজীপুরের স্থানীয় জনগণের মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। ব্যক্তিগত ক্ষতি এবং বিশ্বাসঘাতকতার এই ঘটনা পুলিশের প্রতি জনগণের বিশ্বাসকে আহত করেছে। সবুজ সরকারের সেলফি এবং তার ফেসবুক পোস্ট সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক প্রচার পেয়েছে।
এই ঘটনায় পুলিশ বাহিনী কী ধরনের বৈধানিক এবং আন্তঃনির্বাহী ব্যবস্থা নেবে এবং কতটা দ্রুত এই বিষয়টি সমাধান করতে পারে, তা নিয়ে অপেক্ষায় আছে জনসাধারণ। পুলিশ বাহিনীর পক্ষ থেকে জয়নাল আবেদীন আশ্বাস দিয়েছেন যে, তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতে উপযুক্ত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।