অফিসের চাপে মহিলার আত্মহত্যা, সংস্থার কর্মীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ

চট্টগ্রামের বোয়ালখালিতে শুক্লা দে অফিসের চাপে আত্মহত্যা, ৪ কর্মীকে অভিযোগ।
অফিসের চাপে মহিলার আত্মহত্যা, সংস্থার কর্মীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ

চট্টগ্রামের বোয়ালখালিতে অফিসের কাজের চাপে আত্মহত্যা করেন শুক্লা দে (৩৮), এক বেসরকারি ঋণ প্রদানকারী সংস্থার কর্মী। শুক্লার বেতন থেকে অনৈতিকভাবে টাকা কাটা হওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এই চাপে তিনি আত্মহত্যার পথ বেছে নেন। তার স্বামী সিদুল পাল সংস্থার ৪ জন কর্মীকে অভিযোগ দায়ের করেছেন।

চট্টগ্রাম, ০৬ জানুয়ারি, ২০২৫: চট্টগ্রামের বোয়ালখালির শুক্লা দে নামের এক মহিলা আত্মহত্যা করেছেন অফিসের চাপে। মৃত মহিলার বয়স ৩৮ বছর, তিনি বিবাহিত এবং দুই সন্তানের মা। শুক্লা দে একটি বেসরকারি ঋণ প্রদানকারী সংস্থা, ‘রূপসা সার্বিক গ্রাম উন্নয়ন সমবায় সমিতি লিমিটেড’ নামে একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানে কাজ করতেন।

অভিযোগ, শুক্লার বেতন থেকে অনৈতিকভাবে টাকা কাটা হচ্ছিল সংস্থার দ্বারা। এই প্রক্রিয়ায় তিনি মানসিক চাপের শিকার হন। শুক্লা ঋণের কিস্তি আদায়ের দায়িত্বে ছিলেন, কিন্তু ঋণের কিস্তি সময়মতো আদায় করতে ব্যর্থ হলে তাঁর ওপর অফিস থেকে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছিল। এই চাপের কারণে তিনি আত্মহত্যার পথ বেছে নেন।

শুক্লার স্বামী সিদুল পাল এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সংস্থার ৪ জন কর্মীর বিরুদ্ধে পুলিশে অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগে বলা হয়েছে, শুক্লা এই চাপের কারণে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। তার অভিযোগ অনুযায়ী, শুক্লা বেতন থেকে যে টাকা কাটা হচ্ছিল, তা ঋণের কিস্তি আদায় না করতে পারার জন্য। এরপর গত শনিবার সন্ধ্যায় তিনি রান্নাঘরে আত্মঘাতী হন।

অভিযুক্ত চারজন কর্মী হলেন কাঞ্চন দেবনাথ (৪৫ বছর), নন্দন (৪০ বছর), চিনু বিশ্বাস (৪২ বছর) এবং পলাশ নাথ (৪৩ বছর)। সিদুল পালের অভিযোগ থেকে জানা যায়, শুক্লা ২০২৩ সালের মে মাসে এই সংস্থায় কাজ শুরু করেন। তবে ৫ অগস্টের পর থেকে ঋণের কিস্তি আদায়ের কাজের গতি কমতে থাকে। এই সময় ঋণ গ্রাহকদের সঙ্গে কঠিন মোকাবিলা করতে হলে শুক্লা বাধ্য হন, যা তাঁর কাজকে আরও জটিল করে তোলে।

অপরদিকে, ঋণের কিস্তি আদায় করতে না পারার কারণে অফিস থেকে শুক্লার ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছিল। তাঁর মাসিক বেতন থেকে অনাদায় ঋণের সমপরিমাণ টাকা কেটে রাখা হচ্ছিল এবং শেষ পর্যন্ত তাকে দূরের একটি ব্রাঞ্চে বদলি করা হয়। এই সকল ঘটনা শুক্লাকে মানসিকভাবে প্রবলভাবে প্রভাবিত করেছিল।

গত শনিবার সন্ধ্যায় শুক্লা আত্মঘাতী হন। তার স্বামী সিদুল পাল এই ঘটনার পরে পুলিশে অভিযোগ দায়ের করেন। তিনি অভিযোগ করেছেন যে, এই ৪ জন কর্মী আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়ার জন্য দায়ী। তবে পুলিশ মামলা গ্রহণ করলেও এখনো কাউকে গ্রেফতার করেনি, বলে জানা গেছে।

এই ঘটনা শ্রমিকদের কাজের পরিবেশ ও মানসিক স্বাস্থ্যের বিষয়ে ব্যাপক প্রশ্ন তুলে ধরেছে। শ্রম আইনের প্রয়োগ ও কর্মসংস্থানের মানসিক স্বাস্থ্যের বিষয়ে আরও বেশি দৃষ্টি দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা উল্লেখযোগ্য হয়ে উঠেছে।

তারিখ: ০৭.০১.২০২৫