বাউফলে ১৪ ঘণ্টা পরও অপহৃত শিবু বণিককে উদ্ধার করা যায়নি, অন্যদের ধর্মঘট

পটুয়াখালীর বাউফলে ব্যবসায়ী শিবু বণিক অপহরণের ১৪ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও তাঁর খোঁজ মেলেনি। দুর্বৃত্তরা অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে পাঁচ লক্ষাধিক টাকা লুট করে তাঁকে ট্রলারে তুলে অপহরণ করে। পরিবার ও ব্যবসায়ীরা আতঙ্কে আছেন। পুলিশ উদ্ধার তৎপরতা চালাচ্ছে।
বাউফলে ১৪ ঘণ্টা পরও অপহৃত শিবু বণিককে উদ্ধার করা যায়নি, অন্যদের ধর্মঘট

পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার কালাইয়া বন্দরে শুক্রবার রাত সোয়া ১০টায় ব্যবসায়ী শিবু বণিককে মুখোশধারী দুর্বৃত্তরা অস্ত্রের মুখে অপহরণ করে। দুর্বৃত্তরা দোকানের দুই কর্মচারীকে বেঁধে পাঁচ লক্ষাধিক টাকা লুট করে। ১৪ ঘণ্টা পরও শিবু বণিকের সন্ধান মেলেনি। ঘটনার প্রতিবাদে ব্যবসায়ীরা ধর্মঘট পালন করছেন। পরিবার ও স্থানীয় ব্যবসায়ীরা উদ্বিগ্ন। পুলিশ নদী ও আশপাশের এলাকায় উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছে। পুলিশের দাবি, প্রচণ্ড শীত ও কুয়াশার কারণে অভিযানে অসুবিধা হচ্ছে।

পটুয়াখালী, ০৪ জানুয়ারি, ২০২৫: পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার কালাইয়া বন্দরে শুক্রবার রাত সোয়া ১০টার দিকে দুর্বৃত্তরা ব্যবসায়ী শিবু বণিককে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে অপহরণ করে। অপহরণের ১৪ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও তাঁর কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। শিবু বণিকের পরিবারের পাশাপাশি স্থানীয় ব্যবসায়ীরা এই ঘটনায় চরম উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

শিবু বণিক কালাইয়া বন্দরের একজন পরিচিত ব্যবসায়ী। তিনি চাল, ডাল, আটা সহ বিভিন্ন পণ্যের পাইকারি বিক্রেতা এবং কয়েকটি কোম্পানির পরিবেশক। ঘটনার সময় তিনি দোকান বন্ধ করার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। দোকানের কর্মচারী শংকর দাস জানান, রাত সোয়া ১০টার দিকে ৮-১০ জন মুখোশধারী দুর্বৃত্ত দোকানে ঢুকে সিসি ক্যামেরা ভেঙে ফেলে এবং শিবু বণিক ও দুই কর্মচারীকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে।

দুর্বৃত্তরা দোকানের ক্যাশে থাকা পাঁচ লক্ষাধিক টাকা লুট করে এবং এক পর্যায়ে শিবু বণিককে বেঁধে ট্রলারে করে অপহরণ করে নিয়ে যায়। ঘটনার সময় শিবু বণিকের বাসায় অন্য কোনো স্বজন উপস্থিত ছিলেন না।

এই ঘটনার প্রতিবাদে শনিবার সকাল থেকে কালাইয়া বন্দরের পাঁচ শতাধিক ব্যবসায়ী দোকান বন্ধ রেখে ধর্মঘট পালন করছেন। ব্যবসায়ীরা শিবু বণিককে দ্রুত উদ্ধারের দাবি জানান। ব্যবসায়ী সমিতির সাবেক সভাপতি মো. নূরুল আমিন বলেন, “এমন ঘটনা বাউফলে আগে কখনো ঘটেনি। ১৩ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও পুলিশ শিবু বণিককে উদ্ধার করতে পারেনি, এটি হতাশাজনক।”

এদিকে, শিবু বণিকের স্বজন সনজিৎ বণিক বলেন, “তাঁর ডায়াবেটিক ও হৃদ্‌রোগ আছে। সময়মতো ওষুধ না খেলে বড় ধরনের সমস্যা হতে পারে। আমরা তাঁর দ্রুত উদ্ধারের অনুরোধ জানাচ্ছি।”

ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, ঘটনার পরপরই তাঁরা কালাইয়া নৌ পুলিশ ফাঁড়িতে বিষয়টি জানান। কিন্তু নৌ পুলিশ কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি। কালাইয়া নৌ পুলিশের পরিদর্শক গাজী সালাউদ্দিন এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আমরা খবর পাওয়ার পরই বাউফল থানা পুলিশের সহযোগিতায় ট্রলার নিয়ে অভিযান চালাই। সারা রাত নদীতে খুঁজেছি, কিন্তু প্রচণ্ড শীত ও কুয়াশার কারণে স্পিডবোট চালানো সম্ভব হয়নি।”

বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. কামাল হোসেন বলেন, “ঘটনার খবর পেয়ে আমি রাতেই ঘটনাস্থলে ছুটে আসি। আশপাশের থানাগুলোতে বার্তা পাঠানো হয়েছে এবং পুলিশের একাধিক দল নদীতে তল্লাশি চালাচ্ছে। সিসি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ করা হচ্ছে।”

এই ঘটনায় এলাকায় চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। ব্যবসায়ীরা নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। কালাইয়া বন্দরের ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, তারা পুলিশের তৎপরতায় সন্তুষ্ট নন এবং শিবু বণিককে দ্রুত উদ্ধারের দাবি জানিয়েছেন।

অপরদিকে, স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, এই ঘটনায় দুর্বৃত্তদের চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সর্বোচ্চ তৎপর রয়েছে। তবে কুয়াশা ও প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে অভিযান চালাতে অসুবিধা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন নৌ পুলিশের কর্মকর্তারা।

বাউফলের বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠন শিবু বণিকের নিরাপদ উদ্ধারের জন্য প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানিয়েছে। তারা বলেছেন, এই ধরনের ঘটনা যদি দ্রুত সমাধান না করা হয়, তাহলে ব্যবসায়ীদের মধ্যে আতঙ্ক আরও বাড়বে এবং স্থানীয় অর্থনীতিতেও প্রভাব পড়তে পারে।

পুলিশ জানিয়েছে, তারা সব ধরনের প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন এবং শিবু বণিকের খোঁজ না পাওয়া পর্যন্ত উদ্ধার অভিযান অব্যাহত থাকবে।

তারিখ: ০৪.০১.২০২৫