বাউফলে ব্যবসায়ী শিবু বনিককে অস্ত্রের মুখে অপহরণ, কর্মচারীদের বেঁধে টাকা লুট

পটুয়াখালীর বাউফলে শিবু বনিক নামের এক ব্যবসায়ীকে অস্ত্রের মুখে অপহরণ করেছে দুর্বৃত্তরা। দোকান থেকে পাঁচ লক্ষাধিক টাকা লুটপাটের অভিযোগ পাওয়া গেছে। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযানে নেমেছে। বন্দরের ব্যবসায়ীরা আতঙ্কিত হয়ে দ্রুত উদ্ধারের দাবি জানান।
বাউফলে ব্যবসায়ী শিবু বনিককে অস্ত্রের মুখে অপহরণ, কর্মচারীদের বেঁধে টাকা লুট

পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার কালাইয়া বন্দরে শিবু বনিক নামের এক ব্যবসায়ীকে শুক্রবার রাতে অস্ত্রের মুখে অপহরণ করে দুর্বৃত্তরা। রাত সোয়া ১০টার দিকে দোকান বন্ধের প্রস্তুতিকালে ৮-১০ জনের একটি মুখোশধারী দল তার দোকানে হামলা চালায়। তারা শিবু বনিক ও দুই কর্মচারীকে বেঁধে ফেলে এবং দোকানের ক্যাশ থেকে পাঁচ লক্ষাধিক টাকা লুট করে নেয়। পরে শিবু বনিককে বেঁধে ট্রলারে করে নিয়ে যায়। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করেছে এবং ব্যবসায়ীরা দ্রুত উদ্ধারের দাবি জানিয়েছেন।

পটুয়াখালী, ০৪ জানুয়ারি, ২০২৫: পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার কালাইয়া বন্দরের মার্চেন্টপট্টি এলাকায় শুক্রবার রাত সোয়া ১০টার দিকে এক ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটে। শিবু বনিক (৬৫) নামের এক বিশিষ্ট ব্যবসায়ীকে অস্ত্রের মুখে অপহরণ করে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শিবু বনিক দীর্ঘদিন ধরে বন্দরের একজন বড় পাইকারি ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত। তিনি চাল, ডাল, আটা এবং অন্যান্য খাদ্যপণ্য পাইকারি বিক্রয় করে থাকেন।

শুক্রবার রাতে, দোকান বন্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন শিবু বনিক। সারাদিনের লেনদেনের হিসাব শেষে কর্মচারীদের সঙ্গে তিনি দোকানে অবস্থান করছিলেন। রাত সোয়া ১০টার দিকে হঠাৎ করে ৮-১০ জনের একটি মুখোশধারী সশস্ত্র দল দোকানে ঢোকে। তারা শিবু বনিকসহ তার দুই কর্মচারী শংকর (৩৪) এবং তাপস (৩৫) কে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ফেলে।

সন্ত্রাসীরা শংকর ও তাপসকে হাত পা বেঁধে ফেলে এবং দোকানের ক্যাশ থেকে পাঁচ লক্ষাধিক টাকা লুট করে। এরপর তারা শিবু বনিককে বেঁধে একটি ট্রলারে উঠিয়ে অপহরণ করে দ্রুত স্থান ত্যাগ করে।

এ ঘটনা মুহূর্তেই বন্দরে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়। পাঁচ শতাধিক ব্যবসায়ী দ্রুত ঘটনাস্থলে এসে জড়ো হন এবং শিবু বনিককে দ্রুত উদ্ধারের দাবি জানাতে থাকেন। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা আতঙ্কে পড়ে যান এবং রাতভর তারা দোকানপাট বন্ধ রেখে নিরাপত্তার জন্য অবস্থান নেন।

বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামাল হোসেন বলেন, “আমরা বিষয়টি শুনে দ্রুত ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়েছি। অপহৃত ব্যবসায়ীকে উদ্ধারের জন্য অভিযান চালানো হচ্ছে এবং ঘটনাটি গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে।”

তিনি আরও বলেন, “দোকানে থাকা সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে এবং তদন্ত চলছে। আশা করি দ্রুতই আমরা অপহরণকারীদের শনাক্ত করতে সক্ষম হব।”

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, কালাইয়া বন্দরে দীর্ঘদিন ধরে সন্ত্রাসী কার্যক্রমের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, পুলিশের টহল ব্যবস্থা যথাযথ নয় এবং নিরাপত্তার অভাবেই এমন ঘটনা ঘটছে।

বন্দরের ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি বলেন, “আমরা পুলিশ প্রশাসনের কাছে অনুরোধ করছি, দ্রুত শিবু বনিককে উদ্ধার করতে এবং অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। এ ধরনের ঘটনা ব্যবসায়ীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়াচ্ছে।”

স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাও বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। উপজেলা চেয়ারম্যান জানান, “এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে প্রশাসনকে আরও কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। আমরা চাই দ্রুত অপহৃত ব্যবসায়ীকে ফিরিয়ে আনা হোক।”

পটুয়াখালী জেলা প্রশাসক বলেন, “আমরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছি দ্রুত ব্যবস্থা নিতে। ঘটনাটি খুবই উদ্বেগজনক এবং আমরা এটি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখছি।”

এ ঘটনার পর থেকে কালাইয়া বন্দরের ব্যবসায়ীরা নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন। অনেক ব্যবসায়ী রাতের বেলা দোকান খোলা রাখার বিষয়ে ভাবছেন এবং স্থানীয় প্রশাসনের কাছে আরও নিরাপত্তার দাবি জানাচ্ছেন।

তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং পুলিশ আশা করছে শিগগিরই অপহরণকারীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে।

তারিখ: ০৪.০১.২০২৫