ফরিদপুরে হিন্দু সাংবাদিকের মা এবং মুক্তিযোদ্ধা বাবাকে ধারাল অস্ত্রের কোপ

ফরিদপুরে দুষ্কৃতীদের হামলায় হিন্দু মুক্তিযোদ্ধা শ্যামলেন্দু বসু ও তার স্ত্রী আহত হয়েছেন। চুরি করতে গিয়ে বাধা পেয়ে তারা ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে। আহতদের ফরিদপুর মেডিক্যালে স্থানান্তর করা হয়েছে। পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।
ফরিদপুরে হিন্দু সাংবাদিকের মা এবং মুক্তিযোদ্ধা বাবাকে ধারাল অস্ত্রের কোপ

ফরিদপুরের মধুখালি উপজেলার মাইন গ্রামে শুক্রবার রাত সাড়ে ৮টায় শ্যামলেন্দু বসু (৬৮) এবং তার স্ত্রী কাকলী বসু (৬০) দুষ্কৃতীদের হামলায় গুরুতর আহত হন। চুরি করতে গিয়ে বাধা পেয়ে দুষ্কৃতীরা তাদের ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে। স্থানীয়দের চিৎকারে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। আহতদের মধুখালি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়, পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে ফরিদপুর মেডিক্যালে স্থানান্তর করা হয়। পুলিশ ঘটনার তদন্ত করছে।

ফরিদপুর, ০৪ জানুয়ারি, ২০২৫: ফরিদপুরের মধুখালি উপজেলার মাইন গ্রামে শুক্রবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে দুর্বৃত্তদের হামলায় হিন্দু মুক্তিযোদ্ধা শ্যামলেন্দু বসু (৬৮) এবং তার স্ত্রী কাকলী বসু (৬০) গুরুতর আহত হন। জানা যায়, শ্যামলেন্দু বসু এবং তার স্ত্রী গ্রামের বাড়িতে অবস্থান করছিলেন যখন দুর্বৃত্তরা তাদের বাড়িতে প্রবেশ করে। দুর্বৃত্তরা চুরি করতে এসেছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।

শ্যামলেন্দু বসুর ছেলে সৌগত বসু একজন সাংবাদিক এবং তিনি ঢাকায় থাকেন। ঘটনার সময় তিনি বাড়িতে ছিলেন না। শ্যামলেন্দু বসু এবং কাকলী বসু তাদের দৈনন্দিন কাজ শেষে বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। রাত সাড়ে ৮টার দিকে ৮-১০ জন দুর্বৃত্ত মুখোশ পরে তাদের বাড়িতে প্রবেশ করে। চুরি করতে গিয়ে শ্যামলেন্দু বসু এবং তার স্ত্রী বাধা দিলে দুর্বৃত্তরা তাদের ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে।

শ্যামলেন্দু বসুর মাথায় গুরুতর আঘাত লাগে, এবং তার মাথার হাড় ভেঙে যায়। তার স্ত্রী কাকলী বসুও গুরুতর আহত হন। এ সময় বাড়িতে থাকা এক নাবালিকা তরুণীও হামলায় সামান্য আহত হয়। শ্যামলেন্দু বসু এবং কাকলী বসুর চিৎকার শুনে এলাকাবাসীরা সেখানে জড়ো হন, কিন্তু ততক্ষণে দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যায়।

স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে মধুখালি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। কিন্তু সেখানে তাদের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে দ্রুত ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। বর্তমানে তারা সেখানেই চিকিৎসাধীন আছেন। চিকিৎসক অর্ণব জানান, শ্যামলেন্দু বসুর মাথায় গুরুতর আঘাত রয়েছে, এবং প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়েছে। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে ঢাকায় স্থানান্তর করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

স্থানীয় ডুমাইন ইউনিয়ন পরিষদের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য জীবন কুমার মন্ডল জানান, হামলার সময় শ্যামলেন্দু বসু এবং কাকলী বসু অজ্ঞান হয়ে পড়েন। প্রতিবেশীরাই তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান।

ফরিদপুর জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শৈলেন চাকমা আহতদের দেখতে হাসপাতালে যান এবং পুলিশের পক্ষ থেকে ঘটনার তদন্ত শুরু করা হয়েছে বলে জানান। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এবং আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করেছে।

সাংবাদিক সৌগত বসু বলেন, গ্রামে তাদের কারো সঙ্গে কোনো শত্রুতা নেই। তার বাবা-মা ছাড়া বাড়িতে আর কেউ থাকেন না। তার মা আগে থেকেই অসুস্থ ছিলেন এবং এই ঘটনায় তারা আরও শঙ্কিত হয়ে পড়েছেন।

স্থানীয়রা জানান, মধুখালি এলাকায় সাম্প্রতিক সময়ে সন্ত্রাসী কার্যক্রম বেড়েছে। তারা প্রশাসনের কাছে নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন। এই ঘটনার পর থেকে গ্রামবাসীরা আতঙ্কে রয়েছেন।

পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, হামলাকারীদের শনাক্ত করতে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হবে এবং দোষীদের আইনের আওতায় আনা হবে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে গ্রামবাসীদের নিরাপত্তা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।

তারিখ: ০৪.০১.২০২৫