আইনি প্রহসনে এখনও বন্দি প্রভু, ঢাকাকে দিল্লির কড়া বার্তা, ‘সুবিচার করুন’

চট্টগ্রাম আদালত ইসকনের সন্ন্যাসী চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের জামিন খারিজ করেছে। রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় অভিযুক্ত চিন্ময়ের পক্ষে ১১ জন আইনজীবী সওয়াল করলেও জামিন মঞ্জুর হয়নি। ভারত দ্রুত সুবিচার দাবি করেছে।
আইনি প্রহসনে এখনও বন্দি প্রভু, ঢাকাকে দিল্লির কড়া বার্তা, ‘সুবিচার করুন’

চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ আদালত ইসকনের সন্ন্যাসী চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের জামিন আবেদন খারিজ করেছে। রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় অভিযুক্ত চিন্ময়ের পক্ষে সুপ্রিম কোর্টের ১১ আইনজীবী সওয়াল করলেও আদালত নিরাপত্তার দোহাই দিয়ে চিন্ময়কে হাজির করেনি। ভার্চুয়াল শুনানিতে জামিন নামঞ্জুর হয়। ভারত সরকার দ্রুত সুবিচারের দাবি জানিয়েছে। ২৫ নভেম্বর ঢাকার বিমানবন্দর এলাকা থেকে চিন্ময়কে গ্রেপ্তার করা হয় এবং ২৬ তারিখ চট্টগ্রাম আদালতে তোলা হয়। রাষ্ট্রদ্রোহ মামলার শুনানিতে জামিন খারিজ হয়।

চট্টগ্রাম, ০৩ জানুয়ারি, ২০২৫: গতকাল চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ সাইফুল ইসলাম ইসকনের সন্ন্যাসী চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের জামিন আবেদন খারিজ করেছেন। সকাল সোয়া ১০টায় ভার্চুয়াল শুনানিতে চিন্ময়ের পক্ষে সুপ্রিম কোর্টের ১১ জন আইনজীবীর দল সওয়াল করে। তবে নিরাপত্তার কারণে চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে আদালতে হাজির করা হয়নি। আদালতে আইনজীবীদের উপস্থিতিতে ভার্চুয়াল শুনানিতেই জামিন আবেদন খারিজ হয়।

শুক্রবার বিদেশমন্ত্রকের সাপ্তাহিক সাংবাদিক সম্মেলনে মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, “ইসকনের সন্ন্যাসী চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের জামিনের আবেদন খারিজ হয়েছে। আমরা দ্রুত সুবিচারের দাবি জানাচ্ছি।” বাংলাদেশে সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময়ের বিরুদ্ধে ইউনুস সরকারের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা দায়ের করা হয়েছে। রাষ্ট্রদ্রোহের এই মামলায় দোষী সাব্যস্ত হলে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের সাজা হতে পারে।

চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি নাজিমউদ্দিন চৌধুরী জানিয়েছেন, রাষ্ট্রপক্ষ জামিনের বিরোধিতা করে বলেছে, এটি রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা এবং এর সর্বোচ্চ সাজা যাবজ্জীবন। আদালত এই যুক্তি মেনে নিয়ে চিন্ময়ের জামিন আবেদন খারিজ করেছে। আইনগতভাবে কেউ ক্ষুব্ধ হলে উচ্চ আদালতে আপিলের সুযোগ রয়েছে।

গত ২৫ নভেম্বর বিকেলে ইসকনের সন্ন্যাসী চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে ঢাকার বিমানবন্দর এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। পরের দিন, ২৬ নভেম্বর তাঁকে চট্টগ্রামের আদালতে তোলা হয় এবং রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা দায়ের করা হয়। শুনানির পর আদালত চিন্ময়ের জামিন আবেদন খারিজ করে। এই গ্রেপ্তারের পর বাংলাদেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। ভারত সরকারও এই বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে এবং বাংলাদেশ সরকারের কাছে দ্রুত সুবিচারের আবেদন জানায়।

তবে, চিন্ময়ের গ্রেপ্তারির পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ৩ ডিসেম্বর চট্টগ্রাম আদালতে আরেকটি শুনানির তারিখ নির্ধারিত ছিল, কিন্তু চিন্ময়ের আইনজীবীদের উপর হামলার হুমকি পাওয়ার কারণে ৫১ জন আইনজীবীর কেউই আদালতে সওয়াল করতে আসেননি। ফলে সেই শুনানি পিছিয়ে ২ জানুয়ারি নির্ধারণ করা হয়।

এরই মধ্যে, বাংলাদেশে ইউনুস সরকারের অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসন চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে দীর্ঘদিন ধরে কারাগারে রাখার নানা পরিকল্পনা করছে বলে অভিযোগ করেছে বাংলাদেশ সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোট।

ভারতের পক্ষ থেকে এই বিষয়ে একাধিকবার উদ্বেগ প্রকাশ করা হলেও, বাংলাদেশ সরকার এখনও চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের মুক্তির কোনও পদক্ষেপ নেয়নি। প্রায় দেড় মাস ধরে চিন্ময় প্রভু কারাগারে রয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে ভারত আরও একবার চিন্ময়ের দ্রুত সুবিচারের দাবি জানিয়েছে।

বাংলাদেশে হিন্দুদের উপর চলমান নিপীড়ন এবং চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের গ্রেপ্তারি দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভারত সরকার এই বিষয়ে কঠোর বার্তা দিয়েছে এবং বাংলাদেশের প্রশাসনের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখে চলেছে।

তারিখ: ০৪.০১.২০২৫