চিন্ময় কৃষ্ণ দাস - বিচারের বাণী নীরবে নিভৃতে কাঁদে
Categories:

রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় গ্রেপ্তার চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের ঘটনায় ইসকনের ২৪০ কোটি টাকার সন্ধান পেয়েছে বলে জানিয়েছে বিএফআইইউ। ২০২টি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ২৩৬ কোটি ৪২ লাখ টাকা জমা ছিল এবং ২৯ নভেম্বর পর্যন্ত ২২ কোটি ৭৩ লাখ টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। চিন্ময় দাসের নামে তিন কোটি ৯২ লাখ টাকা পাওয়া গেছে। ইসকন এই তথ্য অস্বীকার করেছে। গত ২৫ অক্টোবর পতাকা অবমাননার অভিযোগে মামলা দায়ের হয় এবং ২৫ নভেম্বর চিন্ময় কৃষ্ণ দাস গ্রেপ্তার হন। এই ঘটনায় বাংলাদেশে উত্তেজনা বিরাজ করছে। (সূত্রঃ আজতক)
ঢাকা, ০২ জানুয়ারি, ২০২৫: বাংলাদেশে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া সাবেক ইসকন সন্ন্যাসী চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছে কোটি কোটি টাকার আর্থিক লেনদেনের ঘটনা। বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) জানিয়েছে, ইন্টারন্যাশনাল সোসাইটি ফর কৃষ্ণ কনশাসনেস (ইসকন) এবং চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের নামে থাকা ব্যাংক হিসাব থেকে ২৪০ কোটি টাকার সন্ধান মিলেছে।
বিএফআইইউ-এর তথ্য অনুযায়ী, ইসকনের নামে ২০২টি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ২৩৬ কোটি ৪২ লাখ টাকা জমা ছিল এবং এর মধ্যে ২৯ নভেম্বর পর্যন্ত ২২ কোটি ৭৩ লাখ টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। বর্তমানে ব্যাংকে জমা রয়েছে ১২ কোটি ৯৪ লাখ টাকা। পাশাপাশি চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে তিন কোটি ৯২ লাখ টাকা জমা ছিল, যার প্রায় পুরো অর্থই ইতোমধ্যে উত্তোলন করা হয়েছে।
এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে বিএফআইইউ বিভিন্ন ব্যাংক এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানে চিঠি দিয়ে ইসকন এবং চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের ব্যাংক হিসাবের তথ্য চেয়েছিল। তদন্ত শুরু হয়েছে এই বিপুল পরিমাণ অর্থের উৎস ও ব্যয় সংক্রান্ত বিষয়ে। কারা এই অর্থ জমা দিয়েছে এবং কোন কোন খাতে তা ব্যয় হয়েছে, তা খতিয়ে দেখছে আর্থিক গোয়েন্দা সংস্থাগুলি।
এদিকে যাঁদের ব্যাংক হিসাব তদন্তের আওতায় এসেছে তাঁদের মধ্যে রয়েছেন চিন্ময় কৃষ্ণ দাস, কার্ত্তিকচন্দ্র দে, অনিক পাল, সরোজ রায়, সুশান্ত দাস, বিশ্ব কুমার সিংহ, চণ্ডীদাস বালা, জয়দেব কর্মকার, লিপিরানী কর্মকার, সুধামা গৌর দাস, লক্ষণ কান্তি দাশ, প্রিয়তোষ দাশ, রূপন দাস, রূপন কুমার ধর, আশিস সন্ন্যাসী, জগদীশ চন্দ্র অধিকারী ও সজল দাস।
তবে ইসকনের সহ-সভাপতি রাধারমণ দাস এই তথ্যকে ভুল বলে দাবি করেছেন। তিনি বলেছেন, “বাংলাদেশে ইসকনের এত সংখ্যক অ্যাকাউন্ট নেই এবং রিপোর্টে সময়কাল সম্পর্কেও স্পষ্ট কিছু উল্লেখ নেই। ইসকনের ব্যাংক হিসাব আলাদা এবং ভক্তদের ব্যক্তিগত ব্যাংক হিসাব আলাদা।”
এই ঘটনা শুরু হয় গত ২৫ অক্টোবর, যখন চট্টগ্রামে বাংলাদেশ সনাতন জাগরণ মঞ্চের এক সমাবেশে চিন্ময় কৃষ্ণ দাস বক্তৃতা দেন। অভিযোগ ওঠে, সেই সমাবেশে তিনি বাংলাদেশের জাতীয় পতাকার অবমাননা করেছেন। এই অভিযোগের ভিত্তিতে বিএনপি নেতা ফিরোজ খান চট্টগ্রামে একটি রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা করেন এবং ৩১ অক্টোবর তিনি চিন্ময় কৃষ্ণ দাসসহ ১৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।
২৫ নভেম্বর ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা শাখা এবং তাঁকে চট্টগ্রামে নিয়ে যাওয়া হয়। ২৬ নভেম্বর চট্টগ্রাম আদালতে চিন্ময়ের জামিন আবেদন করার সময় আদালতের বাইরে প্রচুর মানুষ জড়ো হন এবং চিন্ময়ের মুক্তির দাবিতে বিক্ষোভ করেন। এই বিক্ষোভে পুলিশ লাঠিচার্জ করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
বিক্ষোভ দমনে পুলিশের কড়া পদক্ষেপে একজন আইনজীবীর মৃত্যু হয় এবং আরও কয়েকজন আহত হন। এরপর থেকেই বাংলাদেশে পরিস্থিতি অশান্ত হয়ে ওঠে এবং বিভিন্ন জায়গায় বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।
ইসকনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের গ্রেপ্তার এবং তাঁকে কেন্দ্র করে ছড়ানো তথ্যের অনেকটাই বিভ্রান্তিকর এবং এটি ইসকনের ভাবমূর্তি নষ্ট করার উদ্দেশ্যে করা হচ্ছে। সংগঠনটি দাবি করেছে, তারা সব সময় আইন মেনে চলে এবং তাদের অর্থ লেনদেনও স্বচ্ছ।
তবে সরকারি সংস্থাগুলি জানিয়েছে, তারা নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করছে এবং সকল তথ্য ও প্রমাণ বিশ্লেষণ করেই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। ইতিমধ্যে বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং ব্যাংক থেকে আরও বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।
বাংলাদেশের সনাতন সম্প্রদায়ের অনেকেই এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং ন্যায্য বিচার দাবি করেছেন। দেশের বিভিন্ন জায়গায় চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের মুক্তির দাবিতে সমাবেশ চলছে এবং জনগণের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা ও মতামত দেখা যাচ্ছে।