৪৩তম বিসিএসে সংখ্যালঘু ৭১ জনের নিয়োগ বাতিল বিতর্ক

৪৩তম বিসিএসে নিয়োগের গ্যাজেট বাতিল করে নতুন গ্যাজেটে সংখ্যালঘু ৭১ জনের নাম বাদ পড়েছে। ‘বাংলাদেশ হিন্দু সমাজ’ এই পদক্ষেপের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে অবিলম্বে গ্যাজেট সংশোধনের দাবি জানিয়েছে।
৪৩তম বিসিএসে সংখ্যালঘু ৭১ জনের নিয়োগ বাতিল বিতর্ক

৪৩তম বিসিএসে ২৬৭ জন প্রার্থীকে বাদ দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে ৭১ জন সংখ্যালঘু। ‘বাংলাদেশ হিন্দু সমাজ’ এই ঘটনায় ধর্মীয় বৈষম্যের অভিযোগ তুলেছে। ৩০ ডিসেম্বর প্রকাশিত দ্বিতীয় গ্যাজেটে আগে সুপারিশ পাওয়া ১৬৮ জনের নাম বাদ যায়, যা প্রথম গ্যাজেটে ছিল। সংগঠনটি দ্রুত নতুন গ্যাজেট প্রকাশের দাবি জানায়, যাতে বাদ পড়া সংখ্যালঘুদের নাম অন্তর্ভুক্ত হয়। প্রার্থীরা জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে গিয়েও সুস্পষ্ট জবাব পাননি।

ঢাকা, ০২ জানুয়ারি, ২০২৫: গত ৩০ ডিসেম্বর বাংলাদেশ সরকারের প্রকাশিত দ্বিতীয় গ্যাজেটে ৪৩তম বিসিএসে সুপারিশপ্রাপ্ত ১৬৮ জন প্রার্থীর নাম বাদ পড়েছে। এর মধ্যে ৭১ জন সংখ্যালঘু প্রার্থী। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এই সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে সরব হয়েছে ‘বাংলাদেশ হিন্দু সমাজ’। সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই সিদ্ধান্ত ধর্মীয় বিভেদকে প্রতিফলিত করে এবং এটি সাম্প্রতিক সময়ের বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তারা অবিলম্বে এই গ্যাজেট বাতিল করে নতুন একটি গ্যাজেট প্রকাশের দাবি জানিয়েছে, যাতে বাদ পড়া সংখ্যালঘুদের নাম পুনরায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

প্রথম গ্যাজেটটি প্রকাশিত হয়েছিল গত বছরের ১৫ অক্টোবর। এতে সরকারি কর্ম কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী ১,৮৯৬ জন প্রার্থীকে বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসে বিভিন্ন ক্যাডারে নিয়োগের ঘোষণা করা হয়। প্রার্থীদের আগামী ১৫ জানুয়ারির মধ্যে যোগদান করতে বলা হয়। তবে ৩০ ডিসেম্বরের গ্যাজেটে দেখা যায়, প্রথম গ্যাজেটে নাম থাকা ১৬৮ জনের নাম বাদ পড়েছে।

সংখ্যালঘু সংগঠনটির দাবি, এই ১৬৮ জনের মধ্যে ৭১ জনই হিন্দু, বৌদ্ধ বা খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের। এই ঘটনায় ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। বাদ পড়া প্রার্থীদের অনেকেই সরাসরি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে গিয়েছেন এবং তাদের নাম কেন বাদ পড়েছে তা জানতে চেয়েছেন। কিন্তু তারা সুস্পষ্ট কোনো জবাব পাননি।

এই বিতর্কের সূত্রপাত হয় যখন ২৬ ডিসেম্বর ২০২২ সালে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন ৪৩তম বিসিএস থেকে ২,১৬৩ জন প্রার্থীকে ক্যাডার পদে নিয়োগের সুপারিশ করে। প্রায় ১০ মাস পরে ১৫ অক্টোবর প্রথম গ্যাজেট প্রকাশিত হয়, তবে সেই গ্যাজেটে ৯৯ জন প্রার্থীর নাম বাদ যায়। এরপর ডিসেম্বরের গ্যাজেটে আরও ১৬৮ জনের নাম বাদ যায়, ফলে মোট বাদ পড়া প্রার্থীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৬৭ জন।

বিসিএস গ্যাজেট থেকে এত সংখ্যক প্রার্থী আগে কখনও বাদ পড়েননি। তথ্য অনুসারে, ৪১তম বিসিএসে ৬৭ জন, ৪০তম বিসিএসে ৩৪ জন, ৩৭তম বিসিএসে ৬১ জন, ৩৮তম বিসিএসে ৭৫ জন এবং ৩৬তম বিসিএসে ৩৮ জন প্রার্থী বাদ পড়েছিলেন। তবে এবার সেই সংখ্যা ২৬৭-এ পৌঁছেছে, যা নিয়ে প্রার্থীদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ রয়েছে।

‘বাংলাদেশ হিন্দু সমাজ’ মনে করে, সংখ্যালঘু প্রার্থীদের বাদ দেওয়ার মাধ্যমে বৈষম্য সৃষ্টি হয়েছে এবং এটি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিতে আঘাত হানবে। তারা আশা প্রকাশ করেছে যে, সরকার দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে এই গ্যাজেট সংশোধন করবে এবং সংখ্যালঘু প্রার্থীদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করবে।

তারিখ: ০২.০১.২০২৫