সন্ন্যাসী চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের জামিন আবেদন খারিজ

আদালত হিন্দু সন্ন্যাসী চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের জামিন আবেদন খারিজ করেছে। চট্টগ্রাম আদালতে নিরাপত্তা জোরদারের মধ্যে ৩০ মিনিটের শুনানি শেষে বিচারক এমদাদুল ইসলাম এই সিদ্ধান্ত নেন। দাসের গ্রেফতার নিয়ে বিভিন্ন মহলে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
সন্ন্যাসী চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের জামিন আবেদন খারিজ

বাংলাদেশের চট্টগ্রাম আদালত বৃহস্পতিবার হিন্দু সন্ন্যাসী ও বাংলাদেশ সম্মিলিত সনাতন জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের জামিন আবেদন খারিজ করেছে। আদালত ৩০ মিনিটের শুনানি শেষে জামিন মঞ্জুর না করার সিদ্ধান্ত নেন। চিন্ময় কৃষ্ণ দাস, যিনি আন্তর্জাতিক কৃষ্ণভাবনামৃত সংঘের (ISKCON) প্রাক্তন সন্ন্যাসী, তাঁকে রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগে ঢাকা বিমানবন্দর এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়। তাঁর গ্রেফতার নিয়ে বাংলাদেশ এবং আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। কলকাতা ISKCON-এর সহ-সভাপতি রাধা রমন দাস বাংলাদেশ সরকারকে ন্যায়বিচারের আহ্বান জানিয়েছেন।

চট্টগ্রাম, ০২ জানুয়ারি, ২০২৫: বাংলাদেশের চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা আদালত বৃহস্পতিবার হিন্দু সন্ন্যাসী এবং বাংলাদেশ সম্মিলিত সনাতন জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের জামিন আবেদন খারিজ করেছেন। রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগে গ্রেফতার হওয়া এই সন্ন্যাসীর বিরুদ্ধে করা মামলায় ৩০ মিনিটের শুনানি শেষে বিচারক মো. সাইফুল ইসলাম জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন।

শুনানির সময় আদালত প্রাঙ্গণে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছিল এবং এই শুনানিতে ১১ জন আইনজীবী অংশ নেন। চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের পক্ষে দাখিল করা জামিন আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছিল যে, দাস দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন শারীরিক সমস্যায় ভুগছেন, যার মধ্যে রয়েছে ডায়াবেটিস এবং শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যা। তাঁর আইনজীবীরা দাবি করেন যে, দাসকে একটি মিথ্যা ও সাজানো মামলায় ফাঁসানো হয়েছে।

চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে গত ২৫ নভেম্বর চট্টগ্রামে করা রাষ্ট্রদ্রোহিতার মামলায় গ্রেফতার করা হয়। তাঁকে ঢাকা শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি ২৫ অক্টোবর চট্টগ্রামের একটি স্থানে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকার উপরে গেরুয়া পতাকা উত্তোলন করেছিলেন, যা বাংলাদেশে রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে।

চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের গ্রেফতার বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভের সূত্রপাত করে। চট্টগ্রাম আদালত ভবনের সামনে ২৭ নভেম্বর দাসের অনুসারীদের সাথে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংঘর্ষে একজন আইনজীবীর মৃত্যু ঘটে। এর পর থেকেই এই বিষয়টি বাংলাদেশে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে।

এর আগে ১১ ডিসেম্বর চট্টগ্রামের একটি আদালত চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের জামিন আবেদন খারিজ করে। সেই সময় আদালত জানিয়েছিল, দাসের পক্ষে কোনো আইনজীবীর পত্র বা আইনগত চিঠি আদালতে জমা পড়েনি, যা জামিন পেতে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। তবে বৃহস্পতিবারের শুনানিতে এই বিষয়টি মীমাংসিত হওয়া সত্ত্বেও জামিন মঞ্জুর করা হয়নি।

চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের মুক্তির দাবিতে ভারতের কলকাতার ISKCON সহ-সভাপতি রাধা রমন দাস বাংলাদেশ সরকারকে বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখার আহ্বান জানিয়েছেন। ANI সংবাদ সংস্থাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “এই খবর অত্যন্ত দুঃখজনক। গোটা বিশ্ব এই ঘটনাটি পর্যবেক্ষণ করছে এবং প্রত্যাশা করছিল যে চিন্ময় প্রভু নতুন বছরে মুক্তি পাবেন। কিন্তু ৪২ দিন পরেও তাঁর জামিন আবেদন খারিজ হয়েছে। বাংলাদেশ সরকারকে অবশ্যই বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করতে হবে।”

বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা এবং হিন্দু সংগঠন চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের দ্রুত মুক্তির জন্য প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তাঁর গ্রেফতার এবং জামিন খারিজের ঘটনায় ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের সমর্থকেরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, এটি একটি পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র এবং দাসের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ ভিত্তিহীন।

বাংলাদেশ সরকার এই বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি। তবে বিশ্লেষকদের মতে, রাষ্ট্রদ্রোহিতা মামলাগুলি সাধারণত বাংলাদেশে কঠোরভাবে পরিচালিত হয় এবং জামিন পেতে দীর্ঘ সময় লাগে। চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের অনুসারীরা আশা প্রকাশ করেছেন যে, উচ্চ আদালতে আপিলের মাধ্যমে দাসের মুক্তি সম্ভব হবে।

তারিখ: ০২.০১.২০২৫