বছরশেষে চট্টগ্রামের জেলে কেমন আছেন চিন্ময় প্রভু?

বাংলাদেশের কারাবন্দি হিন্দু সন্ন্যাসী চিন্ময় কৃষ্ণ দাস গুরুতর অসুস্থ। ইসকন তাঁর আরোগ্যের জন্য ১ জানুয়ারি প্রার্থনার আয়োজন করছে। ২ জানুয়ারি জামিন শুনানির আগে বর্ষীয়ান আইনজীবী রবীন্দ্র ঘোষ তাঁর জামিনের জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করছেন।
বছরশেষে চট্টগ্রামের জেলে কেমন আছেন চিন্ময় প্রভু?

বাংলাদেশের হিন্দু সন্ন্যাসী চিন্ময় কৃষ্ণ দাস গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় কারাবন্দি রয়েছেন। অভিযোগ উঠেছে, তাঁকে যথাযথ চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে না। ১ জানুয়ারি ইসকন কলকাতা মন্দিরে তাঁর আরোগ্যের জন্য বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন করেছে। বর্ষীয়ান আইনজীবী রবীন্দ্র ঘোষ ২ জানুয়ারি তাঁর জামিন শুনানির আগে মুক্তির জন্য চেষ্টা চালাচ্ছেন। চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের বিরুদ্ধে চট্টগ্রামে একটি রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা দায়ের করা হয়েছে, যা তাঁর গ্রেফতারের কারণ।

চট্টগ্রাম, ৩০ ডিসেম্বর, ২০২৪: হিন্দু সন্ন্যাসী চিন্ময় কৃষ্ণ দাস বর্তমানে কারাগারে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় রয়েছেন। বাংলাদেশের হিন্দু সংগঠনগুলি অভিযোগ করেছে যে, তাঁকে পর্যাপ্ত চিকিৎসা পরিষেবা থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের আরোগ্য কামনায় ইসকন কলকাতা মন্দিরে আগামী ১ জানুয়ারি একটি বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন করা হয়েছে। ইসকনের মুখপাত্র রাধারমন দাস জানিয়েছেন, এই প্রার্থনার উদ্দেশ্য হল চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের সুস্থতা কামনা করা এবং তাঁর জামিন নিশ্চিত করা।

২০২৪ সালের ২৫ অক্টোবর বাংলাদেশ সনাতন জাগরণ মঞ্চ চট্টগ্রামে একটি সমাবেশের আয়োজন করেছিল, যেখানে চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ভাষণ দেন। সমাবেশে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকার অবমাননার অভিযোগ ওঠে তাঁর বিরুদ্ধে। বিএনপি নেতা ফিরোজ খান রাষ্ট্রদ্রোহিতার মামলা দায়ের করেন এবং ৩১ অক্টোবর ১৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। এই মামলার প্রেক্ষিতেই ২৫ নভেম্বর ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে গ্রেফতার করা হয় এবং চট্টগ্রামে নিয়ে যাওয়া হয়।

২৬ নভেম্বর চট্টগ্রামের আদালতের বাইরে হিন্দু সম্প্রদায়ের সদস্যরা চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের মুক্তির দাবিতে বিক্ষোভ দেখান। পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে এক আইনজীবী নিহত হন এবং ১০ জন হিন্দুকে গ্রেফতার করা হয়।

এদিকে, চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের পক্ষে কোনো আইনজীবী যাতে মামলা না লড়েন, তার জন্য হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে বর্ষীয়ান আইনজীবী রবীন্দ্র ঘোষ এই মামলায় চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের পক্ষে দাঁড়িয়ে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন। ২ জানুয়ারি তাঁর জামিন শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।

এছাড়া, আইনজীবী সাইফুল ইসলামকে হত্যা করার ঘটনায় অভিযুক্ত চন্দন দাসকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, চন্দন দাস কিরিচ দিয়ে সাইফুল ইসলামকে কুপিয়েছিলেন এবং তাঁকে গ্রেফতার করা হয় কিশোরগঞ্জের ভৈরব রেল স্টেশনের কাছ থেকে। পুলিশ জানিয়েছে, খুনের সময় চন্দন দাসের পরনে কমলা রঙের গেঞ্জি এবং কালো প্যান্ট ছিল। পুলিশের মতে, প্রাপ্ত ভিডিয়ো ফুটেজ থেকে চন্দন দাসকে শনাক্ত করা হয়েছে এবং আরও ১৫-২০ জন ব্যক্তি আইনজীবী সাইফুল ইসলামকে মারধর করেছিলেন। ভিডিয়োতে দেখা গিয়েছে, দুইজন হেলমেট পরা ব্যক্তি ধারালো অস্ত্র নিয়ে সাইফুলকে কুপিয়ে হত্যা করেন।

চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের মুক্তির দাবি এবং তাঁর আরোগ্য কামনায় ইসকনের আয়োজন করা প্রার্থনা সভা বাংলাদেশ ও ভারতের বিভিন্ন মহলে গুরুত্ব পাচ্ছে। সারা বিশ্ব থেকে হিন্দু সম্প্রদায় এই বিষয়ে সংহতি প্রকাশ করছে।

তারিখ: ৩০.১২.২০২৪