চিন্ময় কৃষ্ণের মুক্তি চেয়ে হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের বিবৃতি

বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের দ্রুত মুক্তির দাবি জানিয়েছে। তাঁকে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় গ্রেফতার করা হয়, যা পরিষদ মিথ্যা ও হয়রানিমূলক বলে দাবি করেছে। পরিষদ ১৯ জন আসামির বিরুদ্ধে মামলা প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছে।
চিন্ময় কৃষ্ণের মুক্তি চেয়ে হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের বিবৃতি

বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ আজ একটি বিবৃতিতে সনাতনী নেতা চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীর দ্রুত মুক্তির দাবি জানিয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রদ্রোহের মামলাটি ভিত্তিহীন ও হয়রানিমূলক, যা বিএনপি নেতা ফিরোজ খান দায়ের করেছিলেন। গত ২৫ নভেম্বর তাঁকে গ্রেফতার করা হয় এবং ২৬ নভেম্বর জামিন আবেদন খারিজ হয়। চিন্ময় কৃষ্ণ দাসসহ ১৯ জন আসামির অব্যাহতি দাবি করেছে পরিষদ।

ঢাকা, ২৯ ডিসেম্বর, ২০২৪: বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ রবিবার একটি বিবৃতিতে বাংলাদেশ সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীর মুক্তির জন্য জোরালো দাবি জানিয়েছে। পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মনীন্দ্র কুমার নাথের স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, চিন্ময় কৃষ্ণ দাসসহ ১৯ জনের বিরুদ্ধে দায়ের করা রাষ্ট্রদ্রোহের মামলাটি মিথ্যা এবং হয়রানিমূলক। পরিষদ দাবি করেছে যে, এই মামলা অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে এবং চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে দ্রুত মুক্তি দিতে হবে।

গত ২৫ অক্টোবর চট্টগ্রামে চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের নেতৃত্বে সনাতনী সম্প্রদায়ের একটি বড় সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে জাতীয় পতাকা অবমাননার অভিযোগে বিএনপি নেতা ফিরোজ খান রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা দায়ের করেন। তবে, পরবর্তীতে ফিরোজ খানকে বিএনপি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হলেও মামলা এখনও চলমান রয়েছে।

এরপর গত ২২ নভেম্বর রংপুরে চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের নেতৃত্বে আরও একটি বড় সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। ২৫ নভেম্বর তাঁকে ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে গ্রেফতার করা হয় এবং ২৬ নভেম্বর চট্টগ্রাম আদালতে তাঁর জামিন আবেদন খারিজ করা হয়। আদালতের নির্দেশে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয় এবং সেই থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন।

ঐক্য পরিষদের বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে যে, চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের বিরুদ্ধে দায়ের করা রাষ্ট্রদ্রোহের মামলাটি সনাতনী সম্প্রদায়কে হয়রানি এবং দমন করার জন্য করা হয়েছে। পরিষদ সরকারের কাছে আবেদন করেছে, এই ধরনের হয়রানিমূলক মামলার অবসান ঘটিয়ে চিন্ময় কৃষ্ণ দাস এবং অন্যান্য ১৮ জনকে অবিলম্বে মুক্তি দেওয়া হোক।

এদিকে, চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের মুক্তির দাবিতে বিভিন্ন হিন্দু সংগঠন এবং মানবাধিকার সংগঠনগুলো আন্দোলনে নেমেছে। ইসকনসহ অন্যান্য ধর্মীয় সংগঠন চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের আরোগ্যের জন্য প্রার্থনার আয়োজন করছে। কলকাতা ইসকন মন্দিরে আগামী ১ জানুয়ারি বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন করা হয়েছে, যেখানে চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের মুক্তির জন্য সমবেত প্রার্থনা করা হবে।

আইনজীবী রবীন্দ্র ঘোষ, যিনি চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের পক্ষে মামলা পরিচালনা করছেন, সম্প্রতি অসুস্থ হয়ে পড়েছেন এবং বর্তমানে কলকাতার এসএসকেএম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। রবীন্দ্র ঘোষের অসুস্থতার কারণে চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের জামিন শুনানি প্রভাবিত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

বাংলাদেশের হিন্দু সম্প্রদায়ের সদস্যরা চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের গ্রেফতার ও কারাবাস নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। সম্প্রদায়ের দাবি, চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের বিরুদ্ধে অভিযোগ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং এর মাধ্যমে সনাতনী সম্প্রদায়কে দুর্বল করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

সরকারি সূত্র জানিয়েছে, বিষয়টি নিয়ে উচ্চ পর্যায়ে আলোচনা চলছে এবং সরকার বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখছে। চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের মুক্তি প্রসঙ্গে বাংলাদেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতারাও মতামত দিয়েছেন।

ঐক্য পরিষদের বিবৃতি অনুযায়ী, চিন্ময় কৃষ্ণ দাস একজন বিশিষ্ট ধর্মীয় নেতা এবং তাঁর গ্রেফতার ও কারাবাস সনাতনী সম্প্রদায়ের ওপর চাপ সৃষ্টির প্রচেষ্টা। পরিষদ এই ঘটনাকে সনাতনী সম্প্রদায়ের ধর্মীয় অধিকার ও স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ বলে মনে করছে।

এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের একাধিক সংগঠন একত্র হয়ে আন্দোলনে নেমেছে। তাঁরা বলছে, এই ধরনের মামলা ও হয়রানি বন্ধ করতে না পারলে দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের জামিন শুনানির দিন ২ জানুয়ারি চট্টগ্রাম আদালতে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। তাঁর মুক্তি প্রসঙ্গে বাংলাদেশ এবং আন্তর্জাতিক মহলে আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

তারিখ: ৩০.১২.২০২৪