'সভ্য সমাজে এসব চলে না', বাংলাদেশে হিন্দু নির্যাতন রুখতে সর্বধর্ম সিদ্ধান্ত এপারে

বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দুদের উপর নির্যাতনের ঘটনায় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ভারতের ধর্মীয় প্রতিনিধিরা বাংলাদেশে গিয়ে সরকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করবেন এবং নির্যাতনের প্রতিবাদ জানাবেন। তাদের উদ্দেশ্য সংখ্যালঘুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা।
'সভ্য সমাজে এসব চলে না', বাংলাদেশে হিন্দু নির্যাতন রুখতে সর্বধর্ম সিদ্ধান্ত এপারে

বাংলাদেশে একের পর এক হিন্দু নির্যাতনের ঘটনার বিরুদ্ধে ভারতীয় ধর্মীয় নেতারা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। এই পরিস্থিতিতে, ভারতীয় ধর্মীয় প্রতিনিধিরা একত্রিত হয়ে বাংলাদেশে সফরের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তারা সেখানে সরকারের সঙ্গে আলোচনা করবেন এবং কেন হিন্দুদের উপর বারবার নির্যাতন করা হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলবেন। ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে এই নির্যাতনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ শোনা যাচ্ছে, তবে নির্যাতন থামছে না। ধর্মীয় নেতারা বলেন, সংখ্যালঘু নারীদের ধর্ষণ, জোর করে ধর্মান্তরিত করা এবং হত্যা সহ একাধিক অপরাধের ঘটনায় তারা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তারা বাংলাদেশ সরকারের কাছে শান্তি ও সংখ্যালঘুদের সুরক্ষা চেয়ে আবেদন করবেন।

কলকাতা, ২৮ ডিসেম্বর, ২০২৪: বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দুদের ওপর নির্যাতনের একাধিক ঘটনা সামনে আসার পর, উদ্বেগ ক্রমশ বাড়ছে। সংখ্যালঘু হিন্দুদের প্রতি অত্যাচারের অভিযোগটি এই মুহূর্তে শুধু বাংলাদেশে নয়, ভারতের পশ্চিমবঙ্গসহ অন্যান্য জায়গায়ও তীব্র প্রতিবাদের সৃষ্টি করেছে। এই পরিস্থিতিতে, ভারতীয় ধর্মীয় নেতারা একত্রিত হয়ে বাংলাদেশের দিকে নজর দিচ্ছেন। তারা সেখানে সরকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠক করতে এবং নির্যাতনের বিরুদ্ধে সুস্পষ্ট পদক্ষেপের দাবি জানাতে চান।

এছাড়া, বাংলাদেশের মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরাও এই ঘটনার বিরুদ্ধে তাদের উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। অল ইন্ডিয়া ইমাম অর্গানাইজেশন সহ বেশ কিছু ধর্মীয় সংগঠন ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে এই নির্যাতনের প্রতিবাদ করেছে এবং বাংলাদেশ সরকারকে শান্তি বজায় রাখার এবং সংখ্যালঘুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে। এর আগে, মহানির্বানী আখড়ার স্বামী পরমাত্মানন্দ মহারাজও এই ধরনের ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন এবং বলেন, “নিরীহ সংখ্যালঘুদের ওপর অত্যাচার এবং ধর্ষণের মতো অপরাধের ঘটনা আমাদের সভ্যতার পরিপন্থী।” তিনি আরও বলেন, “মৌলবাদী শক্তি মানুষের কল্যাণ করতে পারে না, বরং এই ধরনের সহিংসতা সমাজে অশান্তি সৃষ্টি করে।”

এই সমস্ত ধর্মীয় নেতারা এখন একত্রিত হয়ে একটি সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তারা বাংলাদেশে গিয়ে সরাসরি সরকারের সঙ্গে কথা বলবেন। তাদের উদ্দেশ্য হলো, বাংলাদেশের সংখ্যালঘু হিন্দুদের এই ভয়াবহ পরিস্থিতি থেকে মুক্তি পাওয়া এবং এই ধরনের নির্যাতন থামানো। তারা বলেন, “এতদিন ধরে যে নির্যাতন চলছে তা আর সহ্য করা যায় না।” এছাড়াও, তারা বাংলাদেশ সরকারের কাছে আবেদন জানিয়ে বলেছেন, “এটি একটি সভ্য দেশ, যেখানে মৌলবাদী শক্তির বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।”

এদিকে, স্বামী পরমাত্মানন্দ মহারাজ সংবাদমাধ্যমে এই ঘটনা নিয়ে আরও বলেন, “আমরা একের পর এক শুনছি, নারীদের ধর্ষণ করা হচ্ছে, তাদের ধর্মান্তরিত করা হচ্ছে। এগুলো সহ্য করা যায় না। আমরা বাংলাদেশ সরকারের কাছে আমাদের দাবী পৌঁছাতে চাই।” তিনি আরও বলেন, “এভাবে সভ্য দেশে একে একে হিন্দুদের হত্যা করা, নারীদের ওপর নির্যাতন করা—এটা মোটেই কাম্য নয়।”

এছাড়া, অল ইন্ডিয়া ইমাম অর্গানাইজেশনও এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে এবং তাদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে। সংগঠনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, “আমরা ধর্মগত ভিন্নতা থাকতে পারে, কিন্তু এই ধরনের অত্যাচার মেনে নেওয়া যায় না।” তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, “আমরা বাংলাদেশ সরকারের কাছে আবেদন জানাই, দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করুন এবং সেখানে শান্তি বজায় রাখুন। এই ধরনের সহিংসতা বন্ধ করুন।”

প্রসঙ্গত, ভারতের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বারবার এই অত্যাচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ উঠে এসেছে। তবুও, একের পর এক নতুন ঘটনা সামনে আসছে। এর মধ্যে, পশ্চিমবঙ্গের হিন্দু প্রতিনিধিরাও এই ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তাঁদের মধ্যে অন্যতম, কলকাতার ইসকন মন্দিরের উপ-সভাপতি রাধারামন দাস বলেছেন, “আমরা নিয়মিত এই পরিস্থিতির সমাধানে প্রার্থনা করছি এবং শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের জন্য দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি করার চেষ্টা করছি।” এমনকি, তিনি সরকারের কাছে একটি স্পষ্ট বার্তা দিতে চেয়েছেন যে, সরকার দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিক, যাতে এই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি না হয়।

ভারতের ধর্মীয় নেতারা যে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তা নিঃসন্দেহে গুরুত্বপূর্ণ। তারা ঘোষণা করেছেন যে, তারা বাংলাদেশে যাবেন এবং সেখানে গিয়ে সরকারের সঙ্গে আলোচনা করবেন। তারা আরও বলেছেন, “আমরা বাংলাদেশে গিয়ে সরকারের কাছে প্রশ্ন তুলব কেন হিন্দুদের বিরুদ্ধে বারবার নির্যাতন হচ্ছে, কেন সংখ্যালঘুদের এই ভয়াবহ পরিস্থিতি থেকে পরিত্রাণ পাওয়া যাচ্ছে না।”

এমনকি, একাধিক ভারতীয় নেতার মতে, “বাংলাদেশের সংখ্যালঘুদের ওপর এমন অত্যাচারের ঘটনা অনেকদিন ধরে ঘটছে এবং সরকার তেমন কোন পদক্ষেপ নেয়নি। এই ধরনের সহিংসতা থামানো খুবই জরুরি।” ধর্মীয় নেতা এবং সংগঠনগুলো এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে জানিয়েছেন যে, তাদের প্রতিবাদ বন্ধ হবে না, যতদিন না নির্যাতন বন্ধ হবে এবং সংখ্যালঘুদের সুরক্ষা নিশ্চিত হবে।

তারিখ: ২৯.১২.২০২৪