বাংলাদেশে সংখ্যালঘুরা নিশানায়, শঙ্কা

চলতি মাসের শেষ থেকে আগামী বছরের শুরু পর্যন্ত বাংলাদেশে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উপর হামলার পরিকল্পনা করেছে জঙ্গি সংগঠনগুলি। গোয়েন্দা রিপোর্টে ২৫টি নির্দিষ্ট এলাকায় হামলার পরিকল্পনার কথা উল্লেখ রয়েছে, যেখানে আতঙ্ক সৃষ্টির লক্ষ্য রয়েছে।
বাংলাদেশে সংখ্যালঘুরা নিশানায়, শঙ্কা

বাংলাদেশে চলতি মাসের শেষ থেকে আগামী বছরের শুরু পর্যন্ত সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উপর হামলার পরিকল্পনা করেছে জঙ্গি সংগঠনগুলি, এমন তথ্য দিয়েছে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা। গোয়েন্দা রিপোর্ট অনুযায়ী, ২৫টি নির্দিষ্ট এলাকাকে হামলার জন্য চিহ্নিত করা হয়েছে, যেখানে আতঙ্ক সৃষ্টির উদ্দেশ্যে আক্রমণ হতে পারে। হামলার পরিকল্পনাকারী সংগঠনগুলির মধ্যে রয়েছে জেএমবি এবং হিযবুত তাহরীর। পাকিস্তান থেকে আনা অস্ত্র বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে মজুত করা হয়েছে। গোয়েন্দা রিপোর্টে এসব হামলা প্রতিহত করতে প্রশাসনের জন্য পরামর্শও দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে সন্ত্রাসবিরোধী কার্যক্রমের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। (সূত্রঃ আনন্দবাজার)

ঢাকা, ২৮ ডিসেম্বর, ২০২৪: চলতি মাসের শেষ থেকে আগামী বছরের শুরু পর্যন্ত বাংলাদেশের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উপর কিছু জঙ্গি সংগঠন আক্রমণের পরিকল্পনা করেছে, এমন তথ্য পাওয়া গেছে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার মাধ্যমে। গোয়েন্দা রিপোর্টে জানানো হয়েছে যে, দেশের ২৫টি নির্দিষ্ট এলাকাকে হামলার লক্ষ্য হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এই হামলার উদ্দেশ্য মূলত আতঙ্ক সৃষ্টি এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ভেঙে দেওয়া। হামলার সম্ভাব্য স্থানগুলি এবং সেখানে কতটা ঝুঁকি রয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত মূল্যায়নও করা হয়েছে।

গোয়েন্দা রিপোর্টে বলা হয়েছে, এসব হামলার পেছনে থাকা প্রধান সংগঠনগুলি হল জামাতুল মুজাহিদিন (জেএমবি), হিযবুত তাহরীর এবং অন্যান্য উগ্রপন্থী সংগঠন। পাকিস্তান থেকে আনা অস্ত্র দেশের বিশেষ কিছু জায়গায় মজুত করা হয়েছে। এসব অস্ত্র বাংলাদেশের পার্বত্য অঞ্চলে এবং সীমান্তবর্তী এলাকাগুলিতে জমা রাখা হয়েছে। সুনির্দিষ্টভাবে বলা হয়েছে যে, খুলনা জেলার কোয়রা উপজেলা, চট্টগ্রামের বাঁশখালি, চট্টগ্রাম সদর, খাগড়াছড়ি পার্বত্য অঞ্চলের দীঘিনালা, লালমণিরহাট জেলার রামগড়, গুলমারা, হাতিবান্ধা, কালীগঞ্জ, যশোরের মণিরামপুর এবং কুমিল্লা ডিভিশনের সোনাগাজি, দাগানভুঁইয়া, দেবীদ্বার, চৌদ্দগ্রাম, চান্দিনাসহ বেশ কিছু এলাকায় হামলার পরিকল্পনা রয়েছে।

গোয়েন্দা রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে, এসব অঞ্চলে হামলার পূর্ব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে এবং পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে সংশ্লিষ্ট স্থানগুলিতে সজাগ থাকতে হবে। বিশেষভাবে যশোর জেলার মণিরামপুর, যা ইতিমধ্যেই সাম্প্রদায়িক অশান্তির জন্য পরিচিত, সেখানে হামলার জন্য উর্বর স্থান হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। সুনামগঞ্জের জামাইগঞ্জে হামলা হলে সেখানে প্রতিবাদ হতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে, তবে, অন্যান্য এলাকাগুলিতে হামলা করা হলে কোনও বড় বাধা আসবে না।

জঙ্গি সংগঠনগুলির মধ্যে জামাতুল মুজাহিদিন (জেএমবি) এবং হিযবুত তাহরীর মূলত সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উপর আক্রমণ করে তাদের ভীতি সৃষ্টির চেষ্টা করছে। পাকিস্তান এবং মায়ানমারের আরাকান ভিত্তিক জঙ্গি সংগঠনের সমর্থনে এগুলি সংগঠিত হচ্ছে। স্থানীয় জঙ্গি সংগঠনগুলির অস্ত্র সরবরাহ এবং প্রশিক্ষণের কাজ বাংলাদেশ থেকে বাইরে থেকে করা হচ্ছে।

গোয়েন্দা রিপোর্টে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, যে অস্ত্রগুলো পাকিস্তান থেকে আনা হয়েছে, তা বাংলাদেশে কয়েকটি স্থানে মজুত করা হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য এলাকা হল লালমণিরহাটের হাতিবান্ধা, কালীগঞ্জ, ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গি, সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ, বিশ্বম্ভরপুর এবং চট্টগ্রাম পার্বত্য অঞ্চলের দীঘিনালা ও মহাছড়ি। এসব অঞ্চলের কাছে মায়ানমার সীমান্ত থাকায় অস্ত্র আমদানির সুবিধা রয়েছে এবং প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে এখানেই।

এ ধরনের হামলা প্রতিহত করার জন্য গোয়েন্দা রিপোর্টে কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শও দেওয়া হয়েছে। প্রথমত, দেশের ভিতরে এবং বাইরের রাষ্ট্রের সঙ্গে গোয়েন্দা তথ্যের সমন্বয় বাড়ানোর কথা বলা হচ্ছে, যাতে জঙ্গিদের অস্ত্র এবং অন্যান্য সরবরাহের লাইনটিকে কেটে দেওয়া যায়। দ্বিতীয়ত, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বিশেষত দুর্গাপুজোর মতো স্পর্শকাতর সময়ে একত্রে অনেক লোকের সমাবেশ না করার বিষয়ে সাবধানতা অবলম্বন করতে বলা হয়েছে।

বাংলাদেশ প্রশাসন, পুলিশ এবং গোয়েন্দা সংস্থার মধ্যে সহযোগিতা ও সমন্বয় বাড়ানোর উপরও জোর দেওয়া হয়েছে। রিপোর্টের শেষে বলা হয়েছে, সকল সম্প্রদায়ের নেতাদের মধ্যে সমন্বয় এবং একযোগে কাজ করলে এই ধরনের পূর্বপরিকল্পিত হামলা ঠেকানো সম্ভব হবে।

গোয়েন্দা রিপোর্টে আরও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে যে, সন্ত্রাসবিরোধী কার্যক্রমে অর্থনৈতিক পুঁজি তৈরি করতে হবে এবং এ বিষয়ে সকলের এগিয়ে আসা প্রয়োজন। এছাড়া, বিশেষ করে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের জন্য স্থানীয় পর্যায়ে সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে যাতে তারা আত্মবিশ্বাসী এবং নিরাপদ বোধ করতে পারে।

এই ধরনের জঙ্গি হামলা এবং তাদের পরিকল্পনা বাংলাদেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির জন্য বড় ধরনের বিপদ হতে পারে, তবে সরকারের সঠিক পদক্ষেপ এবং গোয়েন্দা সংস্থাগুলির সক্রিয় মনিটরিংয়ের মাধ্যমে এগুলি প্রতিহত করা সম্ভব হবে।

তারিখ: ২৯.১২.২০২৪