নড়াইলে হিন্দু নারীকে দলবদ্ধ ধর্ষণের পর বিষপ্রয়োগের ঘটনায় আটক ১

নড়াইলে সংরক্ষিত ওয়ার্ডের নারী হিন্দু ইউপি সদস্যকে দলবদ্ধ ধর্ষণের পর বিষপ্রয়োগে হত্যার অভিযোগে ফারুক মোল্যা নামে একজনকে আটক করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার ধর্ষণের পর বিষ প্রয়োগ করা হয়। ভুক্তভোগী হাসপাতালে মৃত্যুর আগে ছেলেকে নির্যাতনের বর্ণনা দেন।
নড়াইলে হিন্দু নারীকে দলবদ্ধ ধর্ষণের পর বিষপ্রয়োগের ঘটনায় আটক ১

নড়াইল সদর উপজেলায় সংরক্ষিত ওয়ার্ডের এক নারী হিন্দু ইউপি সদস্যকে দলবদ্ধ ধর্ষণ ও বিষপ্রয়োগে হত্যার অভিযোগে একজনকে আটক করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার টিসিবির পণ্য বিতরণ শেষে বাড়ি ফেরার পথে স্থানীয় যুবক রাজিবুল পাওনা টাকার অজুহাতে তাঁকে ডেকে নেন। এরপর কয়েকজন মিলে তাঁকে ধর্ষণ করে এবং বিষ খাইয়ে দেয়। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার তিনি মারা যান। পুলিশ ইতিমধ্যে একজনকে আটক করেছে এবং তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। নিহতের পরিবার দোষীদের ফাঁসি দাবি করেছেন।

নড়াইল, ২৮ ডিসেম্বর, ২০২৪: নড়াইল সদর উপজেলায় সংরক্ষিত ওয়ার্ডের এক নারী হিন্দু ইউপি সদস্যকে দলবদ্ধ ধর্ষণের পর বিষপ্রয়োগে হত্যার ঘটনায় পুলিশ একজনকে আটক করেছে। আজ শনিবার ভোরে মাগুরার শালিখা উপজেলার হরিশপুর এলাকা থেকে অভিযুক্ত ফারুক মোল্যাকে আটক করা হয়। ফারুক মোল্যা (৫০) নড়াইল সদর উপজেলার দৌলতপুর এলাকার ওসমান মোল্যার ছেলে।

নড়াইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাজেদুল ইসলাম প্রথম আলোকে জানান, ঘটনার পর থেকেই পুলিশ বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করছে। তিনি বলেন, ‘পরিবারের অভিযোগ আমরা অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখছি। ঘটনার পর থেকেই আমরা তদন্ত শুরু করেছি এবং একজনকে ইতিমধ্যে আটক করা হয়েছে। তদন্তের ভিত্তিতে অন্যান্য অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করা হবে।’

নিহত নারী ইউপি সদস্যের পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গত মঙ্গলবার (২৪ ডিসেম্বর) সকালে তিনি টিসিবির মালামাল বিতরণ শেষে বাড়ি ফিরছিলেন। পথে স্থানীয় যুবক রাজিবুল পাওনা টাকা দেওয়ার অজুহাতে তাঁকে ফোন করেন। পরে তিনি টাকা নিয়ে ইউনিয়নের এক ব্যক্তির বাড়িতে গেলে রাজিবুলসহ আরও কয়েকজন মিলে তাঁকে ধর্ষণ করে এবং দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে।

বাড়িতে ফেরার পর তিনি ঘটনার ভয়ে কাউকে কিছু জানাননি। তবে শারীরিক অসুস্থতা বাড়লে পরদিন বুধবার সকালে তাঁকে যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি ছেলের কাছে তাঁর ওপর হওয়া নির্যাতনের কথা জানান এবং দোষীদের নাম উল্লেখ করেন।

বৃহস্পতিবার রাতে ওই নারী চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর ছেলে বলেন, ‘মা মৃত্যুর আগে আমার হাতে ঘটনার বর্ণনা দিয়েছেন। মা যখন ঘটনার কথা বলছিলেন, তখনই তিনি আমার হাতের ওপর মারা যান। আমি মায়ের হত্যাকারীদের কঠিন শাস্তি চাই, তাঁদের ফাঁসি চাই। আমার মায়ের ন্যায়বিচার ছাড়া আমার আর কিছু চাওয়ার নেই।’

যশোর জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা বজলুর রশীদ জানিয়েছেন, ময়নাতদন্তে ধর্ষণের আলামত পাওয়া গেছে। তিনি বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ধর্ষণের পর তাঁকে বিষ খাওয়ানো হয়েছে। তাঁর শরীরে ধর্ষণের ক্ষত ছিল এবং পেটে বিষের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। প্রয়োজনীয় আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে এবং ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। ভিসেরা প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর আরও বিস্তারিত জানা যাবে।’

এ ঘটনায় নিহত নারীর পরিবার মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। ওসি সাজেদুল ইসলাম বলেন, ‘পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা দায়ের প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। আমরা পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত করছি এবং দ্রুত ঘটনার রহস্য উন্মোচন করা হবে।’

এদিকে, অভিযুক্ত অন্যান্য ব্যক্তিদের ধরতে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে। অভিযুক্তরা পলাতক থাকায় তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। পুলিশ জানায়, দ্রুত অভিযুক্তদের আইনের আওতায় আনা হবে।

নড়াইলের এই ঘটনাটি বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নারীদের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। পরিবার ও স্থানীয়রা দোষীদের শাস্তির দাবিতে সোচ্চার হয়েছেন। তাঁরা দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন।

এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে স্থানীয় প্রশাসন ও নিরাপত্তা বাহিনীর ভূমিকা আরও জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছেন মানবাধিকার সংগঠনগুলো।

তারিখ: ২৯.১২.২০২৪