বাড়িতে নিয়ে গিয়ে গণধর্ষণ, মুখ বন্ধ করতে বিষ খাইয়ে খুন হিন্দু মহিলাকে
Categories:

নড়াইলে এক হিন্দু নারীকে গণধর্ষণের পর বিষ প্রয়োগে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার তাঁকে বাড়িতে ডেকে নিয়ে ধর্ষণ করা হয় এবং মুখ বন্ধ করতে বিষ খাইয়ে দেওয়া হয়। বৃহস্পতিবার যশোর হাসপাতালে মৃত্যু হয় তাঁর। এর আগে নাটোর ও খাগড়াছড়িতে হিন্দু সম্প্রদায়ের উপর একাধিক হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। ধর্মীয় নেতারা এই ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং বাংলাদেশে পরিদর্শনে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন। নড়াইলের ঘটনার বিষয়ে স্থানীয় পুলিশ বিষয়টি স্বীকার করেছে এবং তদন্ত শুরু হয়েছে। (সূত্রঃ এবিপি লাইভ)
নড়াইল, ২৮ ডিসেম্বর, ২০২৪: বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকায় হিন্দু সম্প্রদায়ের উপর ধারাবাহিক নির্যাতন ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে চলেছে। সর্বশেষ ঘটনায় বাংলাদেশের নড়াইলে এক হিন্দু নারীকে গণধর্ষণের পর বিষ খাইয়ে হত্যার অভিযোগ সামনে এসেছে। নিহত ওই নারী মাইজপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ছিলেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার (২৪ ডিসেম্বর) সকালে ওই নারীকে স্থানীয় যুবকরা টিসিবির মালামাল বিতরণ শেষে বাড়ি ফেরার পথে ডেকে নেয়। তাঁকে একটি বাড়িতে নিয়ে গিয়ে গণধর্ষণ করা হয়। ঘটনার পর ধর্ষকদের নাম প্রকাশের হুমকি দিলে তাঁর মুখে বিষ ঢেলে দেওয়া হয়। গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় তাঁকে যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়, যেখানে বৃহস্পতিবার রাতে তাঁর মৃত্যু হয়।
এই ঘটনার খবর দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। “ভয়েস অফ বাংলাদেশি হিন্দুজ” নামে একটি সংগঠন দাবি করেছে, জামাতের নেতারা এই ঘটনায় জড়িত। ইসকনের কলকাতা শাখার ভাইস প্রেসিডেন্ট রাধারমণ দাস এই পোস্টটি শেয়ার করে নিন্দা জানিয়েছেন।
একই সময়ে নাটোর ও খাগড়াছড়িতে হিন্দু সম্প্রদায়ের উপর হামলা ও হত্যার ঘটনা ঘটে। নাটোরে কাশিমপুর শ্মশানকালী মন্দিরের সেবায়েতকে হত্যা করা হয় এবং খাগড়াছড়িতে ইসকনের ঘনিষ্ঠ এক ভক্তের মাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়।
এ বিষয়ে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রেস সচিব সফিকুল আলমের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের হিন্দু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বিভিন্ন ধর্মীয় গোষ্ঠী। তারা দ্রুত বাংলাদেশে গিয়ে পরিদর্শনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ধর্মীয় নেতারা মনে করছেন, ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রাখতে হলে এ ধরনের ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার জরুরি।
নড়াইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, পুলিশের পক্ষ থেকে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে এবং অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। তবে, অভিযুক্তরা এখনো পলাতক রয়েছে।
হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষেরা জানিয়েছেন, তারা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন এবং প্রশাসনের প্রতি আস্থা হারাচ্ছেন। তারা মনে করেন, দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা না নিলে এই পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে।
বাংলাদেশের বিভিন্ন সংগঠন ও মানবাধিকার কর্মীরা এই ঘটনার নিন্দা জানিয়ে বলেন, বাংলাদেশের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উপর নির্যাতন বন্ধ করতে প্রশাসনকে আরও কঠোর হতে হবে। তারা আন্তর্জাতিক মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেছেন, এই নির্যাতনের বিরুদ্ধে জোরালো পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।
এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ সরকারের প্রতি সুরক্ষা বাড়ানোর আহ্বান জানিয়ে বলেন, “আমাদের জীবন আজ হুমকির মুখে। আমরা নিরাপত্তা চাই এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।”
বাংলাদেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠনও এই ঘটনার নিন্দা জানিয়ে বিচার দাবি করেছে। তারা বলছে, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট হলে দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হবে।
নড়াইলের এই ঘটনা বাংলাদেশসহ পুরো উপমহাদেশে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। মানুষ আশা করছে, দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে এবং হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষেরা নিরাপদে বসবাস করতে পারবেন।