[আষাঢ়ে গল্প] মেঘনায় সারবাহী জাহাজে সাত খুন
Categories:
![[আষাঢ়ে গল্প] মেঘনায় সারবাহী জাহাজে সাত খুন](/images/blog/2024/12/25-murders-on-the-ship-in-meghna-how-the-only-murdere.webp)
[আষাঢ়ে গল্প] চাঁদপুরের মেঘনায় সারবাহী জাহাজে সাত খুনের ঘটনায় লস্কর আকাশ মণ্ডলকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। নিয়মিত বেতন ও ছুটি না পাওয়ায় ক্ষোভ থেকে তিনি প্রথমে মাস্টারকে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে হত্যা করেন। পরে ধরা পড়ার ভয়ে বাকি ছয়জনকেও হত্যা করেন। ঘটনার পর পালিয়ে গিয়ে আত্মীয়ের বাড়িতে লুকিয়ে ছিলেন তিনি। নিহত ব্যক্তিদের ফোন নিজের সঙ্গে নিয়ে যাওয়ায় প্রযুক্তির মাধ্যমে র্যাব তাঁর অবস্থান শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আকাশ হত্যার দায় স্বীকার করেন। তাঁর কাছ থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত গ্লাভস, ফোন ও রক্তমাখা পোশাক উদ্ধার করা হয়।
চাঁদপুর, ২৫ ডিসেম্বর, ২০২৪: চাঁদপুরের হাইমচরে মেঘনা নদীর ইশানবালা খালের মুখে নোঙর করা সারবাহী এমভি আল-বাখেরা জাহাজে সাতজনকে হত্যার ঘটনায় ওই জাহাজের লস্কর আকাশ মণ্ডল ওরফে ইরফানকে (২৬) গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। মঙ্গলবার রাতে র্যাব সদর দপ্তরের গোয়েন্দা শাখা, র্যাব-১১ ও র্যাব-৬-এর যৌথ অভিযানে বাগেরহাটের চিতলমারী এলাকায় এক আত্মীয়ের বাড়ি থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
র্যাবের পক্ষ থেকে জানানো হয়, গ্রেপ্তার আকাশ মণ্ডল বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলার মূলঘর গ্রামের জগদীশ মণ্ডলের ছেলে। হত্যাকাণ্ডের পর পালানোর সময় নিহত ব্যক্তিদের পাঁচটি মুঠোফোন নিজের ব্যাগে নিয়ে যান আকাশ। এর মধ্যে জাহাজের মাস্টার গোলাম কিবরিয়ার ও গুরুতর আহত সুকানি জুয়েলের ফোনও ছিল। ফোন ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে র্যাব তাঁর অবস্থান শনাক্ত করে এবং চিতলমারীতে অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করে।
প্রাথমিকভাবে আকাশ পুরো ঘটনা অস্বীকার করলেও পরে নিহতদের মুঠোফোন তাঁর ব্যাগ থেকে উদ্ধার করার পর তিনি হত্যার দায় স্বীকার করেন। আকাশ মণ্ডল জানান, নিয়মিত বেতন–ভাতা ও ছুটি না পাওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে প্রথমে মাস্টারকে খাবারের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে হত্যা করেন। এরপর অন্য কর্মচারীরা জীবিত থাকলে ঘটনা প্রকাশ পেয়ে যাবে বলে বাকি সবাইকে হত্যা করেন তিনি।
র্যাবের ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, আকাশকে অন্তত ১২ বার জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে এবং প্রতিবারই তিনি একই তথ্য দিয়েছেন। আকাশ জানান, তিনি বরিশালের একটি দোকান থেকে ঘুমের ওষুধ কিনেছিলেন এবং বাজার করার কথা বলে ট্রলারে করে পালিয়েছিলেন। র্যাব তাঁর দেওয়া প্রতিটি তথ্য যাচাই করে সত্যতা নিশ্চিত করে।
ঘটনার রাতে আকাশ জাহাজের সব কর্মচারীকে হত্যার পরিকল্পনা করেন এবং পরিকল্পনা অনুযায়ী একে একে ছয়জনকে হত্যা করেন। কিন্তু একজন আহত অবস্থায় বেঁচে যান, যা পরে তদন্তের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
র্যাব জানায়, গ্রেপ্তারের সময় আকাশের কাছ থেকে একটি গ্লাভস, একটি ব্যাগ, ঘুমের ওষুধের খালি পাতা, নিহত ব্যক্তিদের ব্যবহৃত পাঁচটি ফোন, আকাশের ব্যবহৃত দুটিসহ মোট সাতটি মুঠোফোন এবং বিভিন্ন জায়গায় রক্তমাখা নীল রঙের একটি জিনস প্যান্ট উদ্ধার করা হয়।
র্যাব-১১-এর উপ-অধিনায়ক মেজর মোহাম্মদ সাকিব হোসেন কুমিল্লা কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে জানান, গত সোমবার এমভি আল-বাখেরা জাহাজ থেকে পাঁচজনের রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করা হয়। গুরুতর আহত তিনজনকে হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক দুজনকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার পর নিহতদের স্বজনরা শোকে মুহ্যমান হয়ে পড়েন। জাহাজের মালিক মাহবুব মোর্শেদ বাদী হয়ে চাঁদপুরের হাইমচর থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। মামলার তদন্তের অংশ হিসেবে প্রযুক্তির মাধ্যমে আকাশের অবস্থান শনাক্ত করা হয়। গ্রেপ্তারের পর আকাশ হত্যাকাণ্ডে সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেন এবং হত্যাকাণ্ডের বিস্তারিত বর্ণনা দেন।
র্যাবের কর্মকর্তারা জানান, আকাশ মণ্ডল হিন্দু সম্প্রদায়ের হলেও তিনি নিজের পরিচয় গোপন রাখতেন। জাহাজের অন্যান্য কর্মচারীরা তাঁকে ইরফান নামে চিনতেন। নিজের পরিচয় লুকিয়ে তিনি এই হত্যাকাণ্ড সম্পন্ন করেন।
মেজর সাকিব হোসেন বলেন, “আমরাও অবাক হয়েছি যে আকাশ একাই সাতজনকে হত্যা করেছেন। এমন ঘটনা খুবই বিরল। তবে তিনি যা বলেছেন, তার সবকিছুই আমরা যাচাই করে সত্যতা পেয়েছি। তদন্ত চলমান রয়েছে এবং বিস্তারিত তদন্ত প্রতিবেদন শিগগিরই জমা দেওয়া হবে।”