ঢাকায় লঞ্চে বিষপ্রয়োগে হিন্দু মা-মেয়ের মৃত্যু, অভিযুক্ত গ্রেপ্তার

ঢাকার সদরঘাটে বিষক্রিয়ায় মা-মেয়ের মৃত্যু হয়। পুলিশ বিধান দাশকে গ্রেপ্তার করে, যিনি আদালতে হত্যার দায় স্বীকার করেন। নিহত মাধুরী বিশ্বাসের স্বামী পিংকু মজুমদার হত্যার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন। তদন্তে উঠে আসে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের তথ্য।
ঢাকায় লঞ্চে বিষপ্রয়োগে হিন্দু মা-মেয়ের মৃত্যু, অভিযুক্ত গ্রেপ্তার

ঢাকার সদরঘাটে বিষক্রিয়ায় মা-মেয়ের মৃত্যু হয়। মাধুরী বিশ্বাস ও তাঁর মেয়ে শ্রেষ্ঠা ৫ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় সদরঘাটে অচেতন অবস্থায় পাওয়া যান। হাসপাতালে নেওয়ার পর মাধুরীর মৃত্যু হয়। পুলিশ তদন্তে বিধান দাশের সন্ধান পায়, যিনি আদালতে হত্যার দায় স্বীকার করেন। জানা যায়, মাধুরীর সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে ওঠে বিধানের, যা পরে বিয়ের চাপের মুখে তাকে ক্ষিপ্ত করে তোলে। ৪ ডিসেম্বর লঞ্চে বিষপ্রয়োগের মাধ্যমে মা-মেয়েকে হত্যা করেন বিধান। মাধুরীর স্বামী পিংকু মজুমদার হত্যার কঠোর শাস্তি দাবি করেন।

ঢাকা, ২৫ ডিসেম্বর, ২০২৪: ঢাকার সদরঘাটে ঘটে যাওয়া একটি মর্মান্তিক ঘটনার পর তদন্তে উঠে এসেছে বিষক্রিয়ার মাধ্যমে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের চাঞ্চল্যকর তথ্য। ৫ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালের ৪ নম্বর গেটের সামনে অচেতন অবস্থায় পড়ে ছিলেন ৩৪ বছর বয়সী মাধুরী বিশ্বাস এবং তাঁর ছয় বছর বয়সী মেয়ে শ্রেষ্ঠা। স্থানীয় এক ব্যক্তি তাঁদের উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেই রাতেই মাধুরীকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা। মেয়েটি চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৪ ডিসেম্বর মারা যায়।

পুলিশের তদন্তে উঠে আসে যে, পটুয়াখালীর বিধান দাশের সঙ্গে মাধুরীর পরিচয় হয়েছিল মুঠোফোনে। সম্পর্ক গড়ে ওঠার পর তাঁরা বরিশালে দেখা করেন এবং পরে ঢাকায় আসেন। ৪ ডিসেম্বর লঞ্চে ওঠার আগে বিধান বরিশাল থেকে কীটনাশক কিনে নিয়ে আসেন। রাতের মধ্যেই লঞ্চে মাধুরী ও শ্রেষ্ঠার মুখে বিষ ঢেলে দেন এবং তাঁদের অচেতন অবস্থায় সদরঘাটে রেখে পালিয়ে যান। পুলিশ বিধানকে গ্রেপ্তার করে এবং তিনি ১৬৪ ধারায় আদালতে হত্যার দায় স্বীকার করেন।

কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইয়াসিন শিকদার জানান, পুলিশ প্রথমে মাধুরীর পরিচয় শনাক্ত করতে পারেনি। পরে তাঁর আঙুলের ছাপ নিয়ে জাতীয় পরিচয়পত্রের মাধ্যমে পরিচয় নিশ্চিত করা হয়। মাধুরীর স্বামী পিংকু মজুমদার জানান, স্ত্রী ও মেয়ে ২৮ নভেম্বর বাড়ি থেকে বেরিয়ে চিকিৎসার জন্য খুলনায় গিয়েছিলেন। তাঁরা রাতে বাড়ি ফেরার কথা ছিল, কিন্তু ফেরেননি। পরে স্ত্রীর মৃত্যুর খবর পেয়ে তিনি ঢাকায় ছুটে আসেন এবং স্ত্রীর মরদেহ গ্রহণ করেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ওসমান গনি জানান, বিধান দাশ এবং মাধুরী বিশ্বাসের মধ্যে সম্পর্কের জেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটে। বিধান জানান, মাধুরী তাঁকে বিয়ের জন্য চাপ দিচ্ছিলেন এবং এতে ক্ষিপ্ত হয়ে তিনি পরিকল্পনা করেন তাঁদের হত্যার। ৪ ডিসেম্বর লঞ্চে উঠার আগে বরিশালের একটি দোকান থেকে কীটনাশক কেনেন বিধান। লঞ্চে মধ্যরাতে মাধুরী ও শ্রেষ্ঠার মুখে বিষ ঢেলে দেন এবং সদরঘাটে অচেতন অবস্থায় ফেলে রেখে পালিয়ে যান।

তারিখ: ২৯.১২.২০২৪