জামায়াতে ইসলামী - আমরা মেজরিটি মাইনোরিটি মানি না
Categories:

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী আমির শফিকুর রহমান রংপুরের পাগলাপীর বাজারে এক পথসভায় বলেন, জামায়াতে ইসলামী জনগণের সমমর্যাদা নিশ্চিত করতে চায় এবং কোনও সম্প্রদায়ের মধ্যে বিভাজন করতে চায় না। তিনি আরও বলেন, জামায়াত শান্তিপূর্ণ, মানবিক বাংলাদেশ গঠনে কাজ করবে, যেখানে সকলের অধিকার সুরক্ষিত থাকবে। এছাড়া, তিনি জামায়াতের ওপর অতীত সরকারের নির্যাতনের কথা তুলে ধরে আওয়ামী লীগকে তীব্র সমালোচনা করেন। শফিকুর রহমান দাবি করেন যে, ১৩ বছর জামায়াতে ইসলামীকে দলীয় কর্মকাণ্ড থেকে বিরত রাখা হয়েছিল এবং দলের নিবন্ধন পর্যন্ত বাতিল করা হয়েছিল। আওয়ামী লীগের শাসনকে তিনি দেশের জন্য ক্ষতিকর হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
রংপুর, ২৪ ডিসেম্বর, ২০২৪: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী আমির ডা. শফিকুর রহমান রংপুরের পাগলাপীর বাজারে অনুষ্ঠিত এক পথসভায় বক্তৃতা দেন। এ সময় তিনি বলেন, “আমরা মেজরিটি-মাইনোরিটি মানি না।” তার মতে, বাংলাদেশের সকল নাগরিকের মধ্যে সমমর্যাদা থাকা উচিত এবং দেশের জন্য সবাই এক হয়ে কাজ করা জরুরি। তিনি মন্তব্য করেন, “ছোট্ট একটা দেশ, এত ভাগ কিসের আবার? জাতীয় স্বার্থে আমরা সবাই এক। কারণ, দেশ বাঁচলে আমিও বাঁচব, সবাই বাঁচবে। অশান্তি হলে সবাইকে তা ভোগ করতে হবে।” তার এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি দেশের সব সম্প্রদায়কে একত্রে কাজ করার আহ্বান জানান এবং শান্তিপূর্ণ, মানবিক বাংলাদেশ গড়ার প্রতিশ্রুতি দেন।
শফিকুর রহমান আরও বলেন, জামায়াতে ইসলামী নির্বাচনে দায়িত্ব পেলে তা মালিক হিসেবে নয়, পাহারাদার হিসেবে পালন করবে। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, তার নেতাকর্মীরা জনগণের দিকে তাকাবেন, নিজেদের দিকে নয়। তিনি জানিয়ে দেন, যদি তার কর্মীরা কারও ব্যক্তিগত সম্পদে নজর দেয়, তবে তিনি কঠোর ব্যবস্থা নেবেন। এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি দলের কর্মীদের সতর্ক করেন যে, দলের রাজনৈতিক কাজকর্মে স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচার বজায় রাখতে হবে।
তিনি পূর্ববর্তী সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন যে, জামায়াতে ইসলামীকে অত্যন্ত নির্যাতন করা হয়েছে। শফিকুর রহমান বলেন, “বিগত ১৩ বছর সারা দেশে আমাদের অফিস সিলগালা ছিল। আমাদের দলকে নির্বাচন কমিশন থেকে দূরে সরিয়ে রাখা হয়েছিল এবং প্রতীক ও নিবন্ধন কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত নিষিদ্ধ করা হয়েছিল।” তিনি আরও বলেন, এই সময়কালে, “দেশে দখলদারি-চাঁদাবাজি হয়েছে। এখনো হচ্ছে। শুধু ফ্ল্যাগ বদল হয়েছে; ডান হাত থেকে বাম হাতে গেছে।” এর মাধ্যমে তিনি দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির অবনতি এবং তার দলের প্রতি অত্যাচারের কথা তুলে ধরেন।
আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনা করেন শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ গত সাড়ে ১৫ বছর ধরে “বাংলাদেশকে শোষণ করেছে” এবং বিচার বিভাগসহ সকল প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংস করে দিয়েছে। শফিকুর রহমান মন্তব্য করেন, “দেশটাকে ধ্বংস করে দিয়েছে। সেনাবাহিনীকে শেষ করে দিল, বিডিআর ধ্বংস করে দিল।” তার মতে, এই পরিস্থিতি বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর এবং তাকে ক্ষমা করার অধিকার আওয়ামী লীগকে কেউ দিতে পারে না।
পথসভায় উপস্থিত জামায়াতের অন্যান্য নেতারা, যেমন রংপুর সদর উপজেলার আমির মো. মাজহারুল ইসলাম, সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা আবুল হাসনাত মো. আব্দুল হালিম এবং কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সদস্য অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান বেলাল, শফিকুর রহমানের সঙ্গে একমত পোষণ করে বক্তব্য রাখেন। তারা শফিকুর রহমানের শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান সমর্থন করেন এবং দেশের রাজনৈতিক সংকটের সমাধান একসঙ্গে কাজ করার মধ্যেই দেখতে পান।
এদিকে, জামায়াতে ইসলামী কর্তৃপক্ষ বারবার এই দাবি করেছে যে, তাদের দলের নেতাকর্মীরা জনগণের সেবায় নিবেদিত। তারা শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে দলের সদস্যদের আরও উন্নত ও স্বচ্ছ আচরণে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ, যাতে জনগণের বিশ্বাস অর্জন করা যায় এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশে দেশের কল্যাণে কাজ করা যায়। জামায়াতের নেতারা দাবি করেছেন, একমাত্র শান্তি এবং ঐক্যের মাধ্যমে বাংলাদেশকে সঠিক পথে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব।
শফিকুর রহমানের বক্তব্যটি জামায়াতের জন্য একটি শক্তিশালী বার্তা হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে, যেখানে দলের রাজনৈতিক অবস্থান, উদ্দেশ্য ও ভবিষ্যত পরিকল্পনা স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছে। তার কথায়, দেশের সকল জনগণকে একত্রে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়েছে, যা শুধু ধর্মীয় গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে নয়, বরং সকল নাগরিকের মধ্যে ঐক্যের আহ্বান।