জ্যাক সুলিভান এবং ইউনুসের আলোচনায় মানবাধিকার ও সহায়তার প্রতিশ্রুতি
Categories:

যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জ্যাক সুলিভান সোমবার বাংলাদেশের অন্তবর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনুসের সঙ্গে কথা বলেছেন। উভয়ে মানবাধিকার রক্ষার এবং সকল ধর্মের মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। সুলিভান ইউনুসকে বাংলাদেশের কঠিন সময়ের নেতৃত্বের জন্য ধন্যবাদ জানান এবং জাতির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি একটি উন্নত, স্থিতিশীল এবং গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ণ সমর্থন পুনঃব্যক্ত করেন। ৮৪ বছর বয়সী ইউনুস গত ৮ আগস্ট বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে শপথ নেন, যখন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদত্যাগ করেন এবং ভারতে পালিয়ে যান।
যুক্তরাষ্ট্র, ২৪ ডিসেম্বর, ২০২৪: যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জ্যাক সুলিভান সোমবার বাংলাদেশের অন্তবর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনুসের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেন। এই আলোচনায় উভয়ে মানবাধিকার রক্ষা এবং সকল ধর্মের মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়ে একমত হন।
সুলিভান আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের স্থিতিশীলতা এবং গণতন্ত্রের জন্য তার সমর্থন অব্যাহত রাখবে। “যুক্তরাষ্ট্র একটি উন্নত, স্থিতিশীল এবং গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ দেখতে চায়,” সুলিভান বলেছেন। তিনি বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং বাংলাদেশের জনগণের জন্য সুদৃঢ় ভবিষ্যৎ গড়তে সাহায্য করার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তার প্রতিশ্রুতি দেন। সুলিভান জানান, যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশকে ঐতিহাসিক এবং আর্থিক চ্যালেঞ্জগুলির মোকাবিলায় সমর্থন অব্যাহত রাখবে।
এদিকে, বাংলাদেশের ৮৪ বছর বয়সী প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনুস ৮ আগস্ট শপথ নিয়েছেন। এর পরের দিন, ৫ আগস্ট, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদত্যাগ করেন এবং ভারতে পালিয়ে যান, এই সময় দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরো অস্থির হয়ে ওঠে। বাংলাদেশের জনগণ ওই সময় বিক্ষোভ ও আন্দোলনে যোগ দেয়, যা হাসিনার সরকারের পতনের দিকে নিয়ে যায়।
বাংলাদেশে সরকার পতনের পর সংখ্যালঘু সম্প্রদায়, বিশেষত হিন্দুদের বিরুদ্ধে সহিংসতা বেড়ে যায়। মন্দিরগুলোতে আক্রমণ এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর নানা ধরনের নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে। এই সহিংসতা আন্তর্জাতিক মহলেও উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ১৩ ডিসেম্বর হোয়াইট হাউস জানায়, প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বাংলাদেশে পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন। বাইডেন প্রশাসন বাংলাদেশের অন্তবর্তী সরকারকে সংখ্যালঘুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার জন্য কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানায়।
হোয়াইট হাউসের জাতীয় নিরাপত্তা বিষয়ক যোগাযোগ উপদেষ্টা জন কিরবি বলেছেন, “বাংলাদেশে রাজনৈতিক অস্থিরতার পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে, যা দেশের নিরাপত্তা এবং সামাজিক শান্তির জন্য বড় হুমকি সৃষ্টি করছে।” তিনি আরও যোগ করেন, “যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশে জনগণের মৌলিক মানবাধিকার রক্ষার জন্য বাংলাদেশের অন্তবর্তী সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টির জন্য ব্যবস্থা নেবে।”
বিশ্লেষকদের মতে, এই সময় বাংলাদেশের রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সাম্প্রদায়িক সহিংসতা কেবল দেশের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি নয়, বরং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ওপরও এর বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে। এই সংকটের সমাধান না হলে, বাংলাদেশকে রাজনৈতিক ও সামাজিক সংকটের মোকাবিলা করতে হবে, যা ভবিষ্যতে দেশের অর্থনীতি এবং গণতন্ত্রের উপর মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে।
এমন পরিস্থিতিতে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র, বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। সুলিভানের মন্তব্য এবং যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে প্রতিশ্রুতি বাংলাদেশের জনগণের জন্য একটি সমৃদ্ধ ভবিষ্যতের পথ নির্দেশ করতে সহায়তা করতে পারে, তবে সঠিক পদক্ষেপ এবং স্থিতিশীল নির্বাচনের আয়োজন খুবই জরুরি।
এছাড়া, ইউনুসের নেতৃত্বে বাংলাদেশের অন্তবর্তী সরকার যদি সুষ্ঠু নির্বাচনের আয়োজন করতে পারে এবং জনগণের সমর্থন অর্জন করতে সক্ষম হয়, তবে রাজনৈতিক অস্থিরতা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হতে পারে। তবে, বর্তমানে বাংলাদেশে যেসব ঘটনা ঘটছে, তা দেশটির দীর্ঘমেয়াদী নিরাপত্তা এবং মানবাধিকার রক্ষার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এভাবে, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে সুলিভান এবং ইউনুসের মধ্যে হওয়া এই আলোচনাটি বাংলাদেশের ভবিষ্যতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক প্রভাব ফেলতে পারে।