বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি: সন্ত্রস্ত ও ব্যথিত

বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘আর কত সইতে হবে’ প্রবন্ধে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের উপর অত্যাচারের বাড়বাড়ন্ত এবং বাংলাদেশের ইতিহাসের অন্ধকার দিকগুলি তুলে ধরা হয়েছে, যা জাতীয়ভাবে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি: সন্ত্রস্ত ও ব্যথিত

বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রবন্ধ ‘আর কত সইতে হবে’ বাংলাদেশে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের উপর চলমান অত্যাচারের পরিস্থিতি তুলে ধরেছে। তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাস থেকে শুরু করে, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যে মৌলবাদী শক্তির উত্থান এবং তার ফলে সংখ্যালঘুদের উপর নির্যাতনের কথা উল্লেখ করেছেন। বিশেষত, হিন্দু, বৌদ্ধ এবং অন্যান্য সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উপর যে নৃশংসতা চলছে, তা উদ্বেগজনক বলে মনে করছেন অনেক বিশ্লেষক। বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতে, এই পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে, যদি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এর প্রতিকার না করা হয়। (সূত্রঃ আনন্দবাজার)

ঢাকা, ২৪ ডিসেম্বর, ২০২৪: বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রবন্ধ ‘আর কত সইতে হবে’ একটি অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক এবং উদ্বেগজনক আলোচনা। তিনি বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন, যেখানে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের উপর অত্যাচার বেড়েই চলেছে। প্রবন্ধের মধ্যে তিনি বাংলাদেশের ইতিহাস এবং বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোকপাত করেছেন, যেখানে মৌলবাদী গোষ্ঠীগুলোর শক্তি বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং এই গোষ্ঠীগুলি ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের উপর নির্যাতন চালাচ্ছে। তিনি ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় বাংলাদেশে হিন্দু এবং বৌদ্ধদের উপর পাকিস্তানিদের দ্বারা চালানো অত্যাচারের প্রসঙ্গও উল্লেখ করেছেন। সেখানে ৩০ লক্ষ মানুষের প্রাণহানি এবং লক্ষ লক্ষ মানুষকে দেশছাড়া করা হয়েছিল।

বন্দ্যোপাধ্যায় আরও উল্লেখ করেন, ১৯৭২ সালে নজরুল ইসলামকে জাতীয় কবি হিসেবে সম্মানিত করার পরেও, বাংলাদেশে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের প্রতি অবিচারের ঘটনা বৃদ্ধি পেয়েছে। তিনি উদাহরণ হিসেবে বাংলাদেশে হিন্দু এবং অন্যান্য সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উপর চালানো আক্রমণগুলির কথা উল্লেখ করেছেন, যা সম্প্রতি আরও তীব্র হয়ে উঠেছে। এই পরিস্থিতি বিশেষ করে ২০২৪ সালে শেখ হাসিনার দেশত্যাগের পর আরও খারাপ হয়ে উঠেছে, যখন বাংলাদেশের মৌলবাদী গোষ্ঠীগুলি তাদের আগ্রাসী কৌশলগুলি বাস্তবায়ন করতে শুরু করেছে।

বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের উপর অত্যাচারের ঘটনাগুলি অতীতের তুলনায় অনেক বেড়েছে। বিশেষ করে, হিন্দুদের উপর আক্রমণ, মন্দিরের ভাঙচুর, এবং ধর্মীয় স্থানগুলির প্রতি অবমাননা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রবন্ধে বন্দ্যোপাধ্যায় মনে করেন যে, এই ধরনের ঘটনার পেছনে মৌলবাদী শক্তির ষড়যন্ত্র রয়েছে, যারা বাংলাদেশের ভবিষ্যৎকে অন্ধকারে ঠেলে দিতে চাইছে। এর সঙ্গে সংযুক্ত হচ্ছে দেশটির রাজনৈতিক সংকট, যেখানে রাজনৈতিক ক্ষমতা চিরস্থায়ী করতে মৌলবাদী গোষ্ঠীগুলি ধর্মকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করছে।

তিনি আরও মন্তব্য করেছেন যে, যদি এই পরিস্থিতির প্রতিকার না করা হয়, তাহলে বাংলাদেশে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের জন্য ভয়াবহ পরিণতি অপেক্ষা করছে। জাতীয় সঙ্গীত হিসেবে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘আমার সোনার বাংলা’ এবং নজরুল ইসলামের কবিতার প্রতি বিদ্বেষ এবং এগুলির বিরুদ্ধে কট্টরপন্থী কার্যক্রম বাংলাদেশে সাম্প্রতিক সময়ে লক্ষ্য করা গেছে। এই বিষয়গুলি জাতীয় ঐতিহ্য এবং সংস্কৃতির প্রতি অবমাননা, যা দেশের জনগণের মধ্যে বিভাজন সৃষ্টি করতে পারে।

বাংলাদেশের ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের প্রতি সহিংসতা এবং অত্যাচারের পেছনে রাজনৈতিক এবং ধর্মীয় লক্ষ্যগুলির অবস্থানও উল্লেখযোগ্য। মুসলিম মৌলবাদীরা মনে করছেন, বাংলাদেশ যদি একটি ইসলামিক রাষ্ট্রে পরিণত হয়, তবে দেশটি ধর্মীয় আদর্শ অনুযায়ী পরিচালিত হবে এবং এর ফলে আরব দেশগুলির সাহায্যও আসবে। তবে, বন্দ্যোপাধ্যায় মনে করেন, এই মতবাদটি ভুল এবং বাংলাদেশের সামাজিক-অর্থনৈতিক পরিস্থিতির সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, পাকিস্তান ইসলামী দেশ হওয়া সত্ত্বেও, আরব দেশগুলি থেকে উপযুক্ত মূল্য ছাড়া তেল প্রাপ্তি অসম্ভব।

এছাড়া, প্রবন্ধে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের উপরও সমালোচনা করা হয়েছে। তিনি মনে করেন যে, মুহাম্মদ ইউনূস, যিনি এখন বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা, দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি সঠিকভাবে বুঝতে পারছেন না এবং তার ভুল ধারণার কারণে দেশের ভবিষ্যত অন্ধকারে পড়তে পারে। তিনি পরামর্শ দেন যে, ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের উপর অত্যাচার বন্ধ করার জন্য সরকারকে তৎপর হতে হবে এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহায়তায় সঠিক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

বন্দ্যোপাধ্যায় এই প্রবন্ধের মাধ্যমে একটি দৃঢ় বার্তা দিয়েছেন যে, বাংলাদেশে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের উপর অত্যাচারের বিরুদ্ধে সারা বিশ্বে প্রতিবাদ হতে হবে এবং এই সমস্যা সমাধানে আন্তর্জাতিক শক্তির সম্মিলিত ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, “যে দেশের জনগণ নিজেদের ধর্মীয় স্বাধীনতা ও অধিকার রক্ষা করতে পারবে না, সেই দেশ কখনোই সুস্থ হতে পারে না।”

এই প্রবন্ধে বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরার পাশাপাশি, প্রবন্ধকার এই অত্যাচারের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার জন্য সরকারের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কেও আহ্বান করেছেন। তিনি মনে করেন, যদি এই অত্যাচার বন্ধ না হয়, তবে বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের অবস্থান আরও অবনতির দিকে যাবে এবং জাতীয় ঐক্য ও শান্তির সম্ভাবনা ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

তারিখ: ২৪.১২.২০২৪