বাংলাদেশে সংখ্যালঘু আক্রমণের বিরুদ্ধে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন ভীণা সিক্রী
Categories:

বাংলাদেশে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর আক্রমণের পরিস্থিতি উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন ভারতের প্রাক্তন হাইকমিশনার ভীণা সিক্রী। তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মনোযোগ আকর্ষণের জন্য একটি চিঠি লিখেছেন, যেখানে উল্লেখ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট-নির্বাচিত ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ব্রিটিশ পার্লামেন্টের আলোচনা। সিক্রী এই আক্রমণগুলিকে ‘জাতিগত নির্মূল’ এবং ‘বিপজ্জনক’ বলে বর্ণনা করেছেন। তিনি বাংলাদেশের জনগণের বর্তমান প্রশাসনের প্রতি অসন্তোষের কথা তুলে ধরে দ্রুত ও সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনের দাবি জানান। এছাড়া, বাংলাদেশের রাজনৈতিক অস্থিরতা সম্পর্কে সতর্ক করে দেন তিনি, যা দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি সৃষ্টি করতে পারে।
ঢাকা, ২৩ ডিসেম্বর, ২০২৪: ভীণা সিক্রী, বাংলাদেশের জন্য ভারতের প্রাক্তন হাইকমিশনার, বাংলাদেশের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর চলমান আক্রমণ ও নির্যাতন সম্পর্কে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, এই ঘটনা আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করেছে এবং এর বিরুদ্ধে বিভিন্ন দেশ থেকে প্রতিবাদও উঠেছে। বিশেষত, ট্রাম্পের নির্বাচনী বক্তব্য ও ব্রিটিশ পার্লামেন্টের আলোচনা উল্লেখযোগ্যভাবে বাংলাদেশের পরিস্থিতিকে ‘জাতিগত নির্মূল’ এবং ‘বিপজ্জনক’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে।
একটি সাক্ষাৎকারে, সিক্রী বলেছিলেন, “বিশ্বব্যাপী সম্প্রদায়ের সদস্যরা, বিশেষ করে ভারত ও বাংলাদেশের প্রবাসীরা, এ বিষয়ে তাদের উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।” তিনি আরও জানান যে, একাধিক আন্তর্জাতিক রিপোর্ট এবং সংস্থা বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের ওপর আক্রমণ এবং অত্যাচারের বিষয়টি তুলে ধরেছে। তার মতে, এটি আর একটি চুপচাপ থাকতে পারে না এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।
সিক্রী আরও দাবি করেছেন যে, এই ধরনের পরিস্থিতির মধ্যে বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক নির্বাচন আয়োজন করা অত্যন্ত জরুরি। বাংলাদেশের বর্তমান প্রশাসনকে এই বিষয়ে সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনের জন্য তাড়াহুড়ো করা উচিত, যেহেতু দেশটির নাগরিকদের মধ্যে বর্তমান সরকার সম্পর্কে অসন্তোষ বৃদ্ধি পাচ্ছে। তিনি বলেছিলেন, “বাংলাদেশে যদি অতি শীঘ্রই কার্যকর নির্বাচন না হয়, তবে দেশটি রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং অর্থনৈতিক সংকটে পড়তে পারে।”
তিনি বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়েও সতর্কতা প্রকাশ করেছেন। তার মতে, দেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার অভাবের কারণে অর্থনৈতিক মন্দার ঝুঁকি অনেকটাই বেড়ে যেতে পারে। “যদি এই সংকট চলতে থাকে, তবে বাংলাদেশে সামাজিক ও অর্থনৈতিক অস্থিরতা তৈরি হতে পারে, যা দেশের উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করবে,” সিক্রী যোগ করেন।
এছাড়া, সিক্রী মন্তব্য করেছেন যে, বাংলাদেশের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়, বিশেষত হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান এবং আদিবাসী সম্প্রদায়ের উপর আক্রমণ বাড়ানোর কারণে দেশটির আন্তর্জাতিক ইমেজও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তিনি আন্তর্জাতিক মহলে বাংলাদেশে মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে আরও আলোচনার আহ্বান জানিয়েছেন।
বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক, সামাজিক আন্দোলনকারী এবং সাধারণ জনগণের পক্ষ থেকেও এই পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তৃত প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। বিশেষ করে ভারত ও বাংলাদেশে যারা বসবাস করেন, তারা তাদের দেশীয় সরকারের কাছে এই আক্রমণের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন।
এখন, ভীণা সিক্রী আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে এবং বাংলাদেশে একটি সুষ্ঠু, অবাধ ও স্বচ্ছ নির্বাচন আয়োজনের আহ্বান জানিয়েছেন। বাংলাদেশের জনগণ দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে জীবনযাপন করছে এবং সময় এসেছে, তাদের জন্য একটি স্থিতিশীল এবং গণতান্ত্রিক ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করার।
তিনি আরও বলেছেন, “যদি বাংলাদেশের জনগণ তাদের ভোটাধিকার ব্যবহার করতে না পারে, তবে তাদের ভবিষ্যত অনিশ্চিত হয়ে পড়বে।” সিক্রী মনে করেন, একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে বাংলাদেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা সম্ভব। তাছাড়া, নির্বাচন উপলক্ষে একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ নির্বাচনী কমিশনের প্রয়োজনীয়তা এবং সেই নির্বাচনের ফলাফল যাতে সবার কাছে গ্রহণযোগ্য হয়, সে বিষয়ে তিনি জোর দিয়েছেন।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক অস্থিরতার পাশাপাশি, দেশের মানুষের জন্য রাজনৈতিক স্বাধীনতা ও মানবাধিকারও প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে উঠেছে। সিক্রী আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, “এই সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধান না হলে, সেখানকার জনগণ আরও ভয়াবহ পরিস্থিতির শিকার হতে পারে।”
সিক্রী এমন এক সময়ে এই মন্তব্য করেছেন যখন বাংলাদেশে রাজনৈতিক অস্থিরতার পাশাপাশি সংখ্যালঘুদের ওপর অত্যাচারও বাড়ছে। তাদের প্রতিদিনের জীবন এবং নিরাপত্তা হুমকির মুখে। এই পরিস্থিতি শুধু বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ সমস্যা নয়, বরং এটি আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বিষয়েও পরিণত হয়েছে।
এভাবে, ভীণা সিক্রী একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিয়েছেন, যা বাংলাদেশের রাজনৈতিক এবং মানবাধিকার পরিস্থিতি উন্নত করার জন্য আন্তর্জাতিক মহলের প্রতি একটি গুরুতর আহ্বান।