মৌলভীবাজারের সীমান্তে হিন্দু দিনমজুরের লাশ উদ্ধার, রহস্যময় মৃত্যু

মৌলভীবাজারের পাথারিয়া পাহাড়ের সীমান্তে নিখোঁজের একদিন পর হিন্দু দিনমজুর গোপাল ভাগতির লাশ উদ্ধার করা হয়। তাঁর শরীরে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেলেও মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত নয়। স্থানীয় চা-শ্রমিকরা লাশ দেখতে পায়। পুলিশ ও বিজিবি তদন্ত করছে।
মৌলভীবাজারের সীমান্তে হিন্দু দিনমজুরের লাশ উদ্ধার, রহস্যময় মৃত্যু

মৌলভীবাজারের বড়লেখার পাথারিয়া পাহাড়ের সীমান্ত থেকে নিখোঁজ হিন্দু দিনমজুর গোপাল ভাগতির লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গোপাল শনিবার বাঁশ কাটতে গিয়ে আর ফেরেননি। রোববার সকালে সীমান্তের কাছে লাশ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয় চা-শ্রমিকরা পরিবারকে খবর দেয়। তাঁর শরীরে আঘাতের চিহ্ন থাকলেও মৃত্যুর কারণ এখনো জানা যায়নি। বিজিবি ও পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে। বিজিবি জানায়, কোনো গোলাগুলির শব্দ শোনা যায়নি। লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি হলে মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যাবে।

মৌলভীবাজার, ২২ ডিসেম্বর, ২০২৪: মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার পাথারিয়া পাহাড়ের সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে এক হিন্দু দিনমজুরের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গোপাল ভাগতি (৩৫) নামে ওই দিনমজুর শনিবার সকাল থেকে নিখোঁজ ছিলেন। রোববার দুপুরে স্থানীয় চা-শ্রমিকদের মাধ্যমে তাঁর লাশের খোঁজ মেলে। গোপাল ভাগতি স্থানীয় সমনভাগ চা-বাগানের বাসিন্দা এবং অখিল ভাগতির ছেলে। তাঁর শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে, তবে কীভাবে মৃত্যু হয়েছে, তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গোপাল শনিবার সকালে সীমান্ত সংলগ্ন পাহাড়ি এলাকায় বাঁশ কাটতে যান। সেদিন রাতে তিনি বাড়ি না ফিরলে পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। কিন্তু কোথাও তাঁর সন্ধান মেলেনি।

রোববার সকালে স্থানীয় কিছু চা-শ্রমিক বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের ১৩৯১ ও ১৩৯২ নম্বর সীমান্তখুঁটির মধ্যে শূন্য রেখার ২০০ গজ অভ্যন্তরে একটি লাশ পড়ে থাকতে দেখেন। তাঁরা বিষয়টি গোপালের পরিবারকে জানালে, পরিবার গিয়ে লাশটি শনাক্ত করে।

খবর পেয়ে বিজিবি এবং বড়লেখা থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। বিজিবির ৫২ ব্যাটালিয়নের আওতায় থাকা ওই সীমান্ত এলাকা থেকে লাশ উদ্ধার করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

বিজিবির ৫২ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. মেহেদী হাসান জানিয়েছেন, গোপালের শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তবে সেটি কী ধরনের আঘাত, তা এখনও পরিষ্কার নয়। পুলিশের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি হলে বিস্তারিত জানা যাবে।

তিনি আরও জানান, সীমান্তে টহলরত বিজিবির দল কোনো ধরনের গোলাগুলির শব্দ শোনেনি। তাই ঘটনাটি রহস্যজনক। এ ঘটনার কারণ জানতে তদন্ত চলছে।

গোপালের পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, গোপাল প্রতিদিনই বাঁশ কাটার জন্য পাহাড়ি এলাকায় যেতেন। তবে তিনি কখনো এত গভীরে সীমান্তের কাছে যাননি বলে দাবি করেন তাঁরা।

পুলিশ জানিয়েছে, লাশের ময়নাতদন্তের জন্য মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানা যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

স্থানীয়রা মনে করছেন, এটি কোনো দুর্ঘটনা না হলে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডও হতে পারে। তবে এ বিষয়ে এখনই নিশ্চিত কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি পুলিশ বা বিজিবি।

গোপাল ভাগতির লাশ উদ্ধারের ঘটনা এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা সীমান্তবর্তী এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন। বিজিবি ইতিমধ্যে সীমান্ত এলাকায় নজরদারি বাড়িয়েছে এবং স্থানীয়দের নিরাপত্তার বিষয়ে সচেতন থাকতে বলা হয়েছে।

এ ঘটনায় বড়লেখা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানিয়েছেন, সীমান্তের এই অংশে মাঝে মাঝে চোরাচালানের ঘটনা ঘটে। তবে গোপালের মৃত্যু এর সঙ্গে সম্পর্কিত কিনা তা তদন্তের পর জানা যাবে।

পরিবারের সদস্যরা গোপালের অকাল মৃত্যুতে শোকাহত এবং দ্রুত তদন্ত শেষ করে প্রকৃত কারণ উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন।

তারিখ: ২৩.১২.২০২৪