'এমনটা নয় যে বাংলাদেশের সব হিন্দুকে ভারতে নিয়ে আসতে হবে…', মত তথাগত রায়ের

বাংলাদেশে হিন্দু নির্যাতন নিয়ে বিজেপি নেতা তথাগত রায় মন্তব্য করেছেন, নির্যাতিত হিন্দুদের ভারতে আনা উচিত নয় বরং বাংলাদেশকে চাপে রাখা প্রয়োজন। তিনি কূটনৈতিক সম্পর্ক ডাউনগ্রেড, বাণিজ্য বন্ধ ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য রফতানি নিষিদ্ধের পরামর্শ দিয়েছেন।
'এমনটা নয় যে বাংলাদেশের সব হিন্দুকে ভারতে নিয়ে আসতে হবে…', মত তথাগত রায়ের

বাংলাদেশে হিন্দু নির্যাতন প্রসঙ্গে বিজেপি নেতা তথাগত রায় মন্তব্য করেছেন, নির্যাতিত হিন্দুদের ভারতে আশ্রয় দেওয়া উচিত নয়। তিনি মনে করেন, ভারতকে এমন চাপ সৃষ্টি করতে হবে যাতে বাংলাদেশ নির্যাতন বন্ধে বাধ্য হয়। সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্টে তিনি জানান, ভারত ইজরায়েল নয় যে সব হিন্দুর দায়িত্ব নিতে পারবে। তিনি কূটনৈতিক সম্পর্ক ডাউনগ্রেড, আকাশ ও সমুদ্রসীমা বন্ধ এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য রফতানি নিষিদ্ধ করার পরামর্শ দিয়েছেন।

কলকাতা, ২২ ডিসেম্বর, ২০২৪: বাংলাদেশে হিন্দু নির্যাতনের বিষয়ে ভারতের বিজেপি নেতারা সাম্প্রতিক সময়ে সরব হয়েছেন। বিজেপির শীর্ষস্থানীয় নেতা শুভেন্দু অধিকারী বলেছেন, বাংলাদেশ থেকে প্রায় ১ কোটি শরণার্থী ভারতে প্রবেশ করতে পারে। সীমান্তে বিএসএফ কড়া নজরদারি চালাচ্ছে এবং বাংলাদেশ থেকে পালিয়ে আসা হিন্দুদের গ্রেফতার করা হচ্ছে।

মেঘালয় ও ত্রিপুরার প্রাক্তন রাজ্যপাল তথাগত রায় এই বিষয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় সরব হয়েছেন। তবে তিনি বলেছেন, পৃথিবীর সব নির্যাতিত হিন্দুদের ভারতে নিয়ে আসা সম্ভব নয়। গতকাল এক সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে তথাগত রায় লিখেছেন, “পৃথিবীতে হিন্দুর উপর অত্যাচার শুধু পাকিস্তান বা বাংলাদেশেই হয়, তার মানে এই নয় যে সমস্ত হিন্দুকে ভারতে নিয়ে আসতে হবে।”

তিনি বিবিসি বাংলার একটি প্রতিবেদন শেয়ার করেছেন যেখানে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে হিন্দু নির্যাতন বিষয়ে ভারত কিভাবে চাপে রাখতে পারে সে বিষয়ে তিনি মতামত দিয়েছেন। দিল্লির স্ট্র্যাটেজিক থিঙ্কট্যাঙ্ক মনোহর পারিকর আইডিএসএ-র সিনিয়র ফেলো স্মৃতি এস পট্টনায়কের বক্তব্যও ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

স্মৃতি পট্টনায়ক বলেছেন, “ভারত ইজরায়েল নয়। তারা যেমন সব ইহুদির দায়িত্ব নিয়েছে, ভারত তেমন সব হিন্দুর দায়িত্ব নিতে পারে না।” এই মন্তব্যের জবাবে তথাগত রায় লেখেন, “তাহলে যেখানে হিন্দুর উপর অত্যাচার হচ্ছে ভারতের কর্তব্য কি সেটাকে চুপ করে দেখা?”

তথাগত রায় আরও বলেন, “পৃথিবীর বহু দেশে হিন্দুরা শান্তিতে বসবাস করছে, কিন্তু পাকিস্তান ও বাংলাদেশে হিন্দুদের উপর অত্যাচার হচ্ছে। ভারতকে সেখানেই সক্রিয় হতে হবে। তবে তার মানে এই নয় যে সমস্ত হিন্দুকে ভারতে আনতে হবে। বরং এমন চাপ সৃষ্টি করতে হবে যাতে তারা নির্যাতন বন্ধ করতে বাধ্য হয়। আজকের ভারত সেই শক্তি রাখে।”

তিনি আরও বলেছেন, “বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের কূটনৈতিক সম্পর্ক ডাউনগ্রেড করা যেতে পারে। বাংলাদেশের জন্য ভারতের আকাশসীমা বন্ধ করা যেতে পারে। বাংলাদেশগামী জাহাজের জন্য ভারতের সমুদ্রসীমাও নিষিদ্ধ করা যেতে পারে। বাংলাদেশের প্রধান বৈদেশিক মুদ্রা আয় হয় তৈরি পোশাক শিল্প থেকে, সেই খাতে কাঁচামাল রফতানি বন্ধ করা যেতে পারে। এছাড়া আলু, পেঁয়াজ, চাল, ডিমের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের রফতানিও বন্ধ করা হতে পারে।”

তিনি বলেন, “বাংলাদেশের নদীগুলোর জল আটকে দেওয়ার বিষয়েও ভাবা যেতে পারে, যা বাংলাদেশকে কঠিন পরিস্থিতিতে ফেলবে এবং হিন্দু নির্যাতন বন্ধ করতে বাধ্য করবে।”

তথাগত রায়ের এই মন্তব্য সোশ্যাল মিডিয়ায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। কেউ কেউ তার বক্তব্যকে সমর্থন করেছেন, আবার কেউ কেউ বলেছেন, এই ধরনের পদক্ষেপ ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ককে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।

বাংলাদেশ সরকার এখনও এই বিষয়ে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি। তবে বাংলাদেশের সামাজিক ও রাজনৈতিক মহলে এই ধরনের মন্তব্য নিয়ে আলোচনা চলছে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ভারত যদি এই ধরনের পদক্ষেপ নেয় তাহলে তা কেবল কূটনৈতিক সম্পর্কের অবনতি ঘটাবে না, বরং অর্থনৈতিক সম্পর্কেও বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে। ভারতের বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে, যা দুই দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

তথাগত রায়ের এই মন্তব্য ভারত ও বাংলাদেশের রাজনৈতিক সম্পর্ককে নতুন এক মাত্রায় নিয়ে যেতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে ভারত সরকারের পক্ষ থেকে এখনও এই বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়নি।

তারিখ: ২৩.১২.২০২৪