আইনজীবী হত্যার তদন্ত কমিটি থেকে পাঁচ সদস্যেরই পদত্যাগ
Categories:

চট্টগ্রাম আদালতে সংঘর্ষে নিহত আইনজীবী সাইফুল ইসলাম হত্যার ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটি থেকে পাঁচ সদস্যের সবাই সরে দাঁড়িয়েছেন। কমিটির প্রধান আবদুস সাত্তারসহ সদস্যরা নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠার আশঙ্কায় পদত্যাগ করেছেন। সাইফুল হত্যার ঘটনায় ছয়টি মামলা হয়েছে এবং ১১ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আইনজীবীরা মনে করেন, বিচারকের নেতৃত্বে তদন্ত কমিটি গঠন করা উচিত। চিন্ময়কৃষ্ণ দাসের জামিন নামঞ্জুরের পর আদালত চত্বর উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং সংঘর্ষের সময় সাইফুল নিহত হন। এ ঘটনায় আরও ৪০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
চট্টগ্রাম, ২২ ডিসেম্বর, ২০২৪: চট্টগ্রামের আইনজীবী সাইফুল ইসলাম হত্যার ঘটনায় গঠিত পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি থেকে সকল সদস্য সরে দাঁড়িয়েছেন। কমিটির সদস্যদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আদালত চত্বরে সংঘর্ষ এবং আইনজীবী হত্যার বিষয়টি অত্যন্ত স্পর্শকাতর এবং এই ঘটনায় বেশ কয়েকটি মামলা হয়েছে। আইনজীবীরা এই তদন্ত পরিচালনা করলে নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে বলে মনে করেন তারা।
গত শনিবার বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। কমিটির প্রধান আইনজীবী মহম্মদ আবদুস সাত্তার বলেন, “আদালত চত্বরে সংঘর্ষ, ভাঙচুর এবং আইনজীবী সাইফুল হত্যার ঘটনা অত্যন্ত স্পর্শকাতর। পুলিশ, প্রশাসন এবং আদালতের কর্মকর্তাদের এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। ইতিমধ্যে ছয়টি মামলা দায়ের হয়েছে এবং পুলিশসহ বিভিন্ন সংস্থা তদন্ত করছে। আইনজীবীরা যদি এই ঘটনার তদন্ত করেন, তবে নিরপেক্ষতা প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে।”
আবদুস সাত্তার আরও বলেন, “আমরা মনে করি, আইনজীবী হত্যার মতো গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার তদন্ত বিচারকের নেতৃত্বে হওয়া উচিত। তাই আমরা সবাই পদত্যাগ করেছি।”
সাইফুল হত্যার তদন্তের জন্য চট্টগ্রাম আইনজীবী সমিতির পক্ষ থেকে পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছিল। কমিটির প্রধান ছিলেন আবদুস সাত্তার। গত বুধবার তিনি পদত্যাগপত্র জমা দেন এবং তার দুদিন আগেই কমিটির বাকি চারজন সদস্য পদত্যাগ করেন।
উল্লেখ্য, চিন্ময়কৃষ্ণ দাস নামে এক ব্যক্তির জামিন নামঞ্জুর হওয়ার পর চট্টগ্রাম আদালত চত্বরে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সে সময় আইনজীবী সাইফুল পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যার শিকার হন। চিন্ময়কৃষ্ণ রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় অভিযুক্ত ছিলেন এবং গত ২৬ নভেম্বর তার জামিন আবেদন খারিজ হয়। জামিন খারিজের পর আদালত চত্বরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং এই সংঘর্ষের মধ্যেই সাইফুল নিহত হন।
সাইফুল চিন্ময়কৃষ্ণ দাস বা সরকারের কোনো পক্ষের আইনজীবী ছিলেন না। তিনি আইনজীবী সমিতির সদস্য হিসেবে সেখানে উপস্থিত ছিলেন বলে জানিয়েছে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম।
সাইফুল হত্যার ঘটনায় তার বাবা ও ভাই দুটি মামলা করেছেন। পুলিশ তিনটি মামলা দায়ের করেছে এবং আরও একটি মামলা অন্য পক্ষ থেকে হয়েছে। মোট ছয়টি মামলা দায়ের হয়েছে।
এই ঘটনায় পুলিশ এখন পর্যন্ত ১১ জনকে গ্রেফতার করেছে। পাশাপাশি আদালত চত্বরে সংঘর্ষ ও ভাঙচুরের ঘটনায় আরও ৪০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
আইনজীবী সাইফুল হত্যার ঘটনায় চট্টগ্রামের আইনজীবী মহল ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। তারা জানিয়েছেন, আদালত চত্বরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এবং আইনজীবী হত্যার ঘটনায় দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।
চট্টগ্রাম আদালতে চিন্ময়কৃষ্ণ দাসের জামিন আবেদনের পরবর্তী শুনানি আগামী ২ জানুয়ারি নির্ধারিত রয়েছে। আইনজীবীরা এই শুনানির দিকে বিশেষ নজর রাখছেন।
চট্টগ্রাম আদালতে সংঘর্ষ এবং আইনজীবী হত্যার এই ঘটনা বাংলাদেশের বিচার বিভাগের নিরপেক্ষতা এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর প্রশ্ন তুলেছে। আইনজীবীরা মনে করেন, আদালত চত্বরে এমন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা বিচার প্রক্রিয়ার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
চট্টগ্রাম আইনজীবী সমিতির নেতারা দাবি করেছেন, এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং বিচার নিশ্চিত করতে বিচারকের নেতৃত্বে উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা প্রয়োজন। তারা আরও বলেন, এই ধরনের ঘটনা ভবিষ্যতে যাতে না ঘটে সে বিষয়ে প্রশাসনকে সতর্ক হতে হবে।
সাইফুল হত্যার ঘটনায় তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া চলছে। আইনজীবী মহলের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে প্রশাসন ও বিচার বিভাগ এই ঘটনার দ্রুত তদন্তের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।