ছোট্ট একটা দেশ, এত ভাগ কিসের আবার: শফিকুর রহমান

জাতীয় ঐক্যের আহ্বান জানিয়ে জামায়াত আমির শফিকুর রহমান বলেছেন, দেশ বাঁচলে সবাই বাঁচবে। তিনি সংখ্যালঘু নির্যাতনের অপপ্রচার বলে দাবি করেন এবং শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। তিনি সকল সম্প্রদায়কে জাতীয় স্বার্থে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।
ছোট্ট একটা দেশ, এত ভাগ কিসের আবার: শফিকুর রহমান

জামায়াত আমির শফিকুর রহমান বলেছেন, দেশে কোনো অশান্তি হলে সবাইকে তার প্রভাব ভোগ করতে হবে। তিনি জাতীয় ঐক্যের ওপর গুরুত্ব দিয়ে বলেন, বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতনের বিষয়টি ভারতীয় মিডিয়ার অপপ্রচার। তিনি সকল সম্প্রদায়ের মানুষকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান। সিলেটে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন। তিনি আরও বলেন, জামায়াত ইসলামী অতীতে সবচেয়ে বেশি নির্যাতিত হয়েছে এবং আগামীতে শান্তিপূর্ণ মানবিক বাংলাদেশ গড়তে চায়। সভায় বিভিন্ন ধর্মীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন এবং ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার বার্তা দেন।

ঢাকা, ২২ ডিসেম্বর, ২০২৪: জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান জাতীয় ঐক্যের আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, বাংলাদেশে কেউ নিরাপদ নয় যদি দেশে অশান্তি বিরাজ করে। তিনি বলেন, “আমরা সাফ বলেছি, আমরা মেজরিটি-মাইনোরিটি মানি না। এ দেশের যারা নাগরিক, তারা সবাই সমমর্যাদাবান গর্বিত নাগরিক।” তিনি আরও বলেন, “ছোট্ট একটা দেশ, এত ভাগ কিসের? জাতীয় স্বার্থে আমরা সবাই এক। কারণ, দেশ বাঁচলে আমিও বাঁচব, সবাই বাঁচবে। অশান্তি হলে সবাইকে তা ভোগ করতে হবে।”

গতকাল শনিবার রাতে সিলেট নগরের জিন্দাবাজার এলাকার একটি অভিজাত রেস্তোরাঁর মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এই মন্তব্য করেন। বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের নেতাদের সঙ্গে এই সভার আয়োজন করে সিলেট মহানগর জামায়াত। সভায় বিভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

শফিকুর রহমান বলেন, “বিগত সরকারের আমলে জামায়াত ইসলামী সবচেয়ে বেশি নির্যাতিত হয়েছে। ১৩ বছর ধরে সারা দেশে আমাদের অফিস সিলগালা ছিল, আমাদের দলের প্রতীক ও নিবন্ধন কেড়ে নেওয়া হয়েছে এবং শেষ পর্যন্ত দলটিকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এমন চাপ আর কোনো দল পায়নি।”

তিনি আরও বলেন, “৫ আগস্টের আগে দেশে দখলদারি ও চাঁদাবাজি হয়েছে এবং এখনো হচ্ছে। শুধু ফ্ল্যাগ বদল হয়েছে; ডান হাত থেকে বাম হাতে গেছে।”

শফিকুর রহমান বলেন, “আমরা সব সম্প্রদায়ের মানুষকে নিয়ে জাতীয় স্বার্থে কাজ করব এবং শান্তির বাংলাদেশ গড়ব। আমরা দায়িত্ব পেলে মালিক হিসেবে নয়, পাহারাদার হিসেবে কাজ করব। আমাদের নেতা-কর্মীদের সম্পদ নির্বাচনের আগে যেমন ছিল, নির্বাচনের পরও তেমনই থাকবে। জনগণের স্বার্থের দিকে তাকিয়ে কাজ করতে হবে। কর্মীদের স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে, কারও সম্পদের দিকে নজর দেওয়া যাবে না। যদি এর ব্যতিক্রম ঘটে, আমরা কঠোর ব্যবস্থা নেব।”

বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতনের ঘটনা অধিকাংশ ভারতীয় মিডিয়ার অপপ্রচার বলে মন্তব্য করেন জামায়াত আমির। তিনি বলেন, “বিগত সময়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল সম্প্রদায়গুলোকে পক্ষ-বিপক্ষে উপস্থাপন করে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করেছে। আমরা বৈষম্যহীন সমাজ গড়তে চাই।”

তিনি আরও বলেন, “কিছু ঘটনা রাজনৈতিক কারণে ঘটেছে, তবে আমরা তাও সমর্থন করি না। আইন মেনে সবাইকে চলতে হবে।”

সভায় জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও সিলেট মহানগরের আমির মুহাম্মদ ফখরুল ইসলাম সভাপতিত্ব করেন। মহানগর সেক্রেটারি মোহাম্মদ শাহজাহান আলীর সঞ্চালনায় এই সভায় জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন।

সভায় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন সিলেট রামকৃষ্ণ মিশন আশ্রমের অধ্যক্ষ শ্রীমৎ স্বামী চন্দ্রনাথানন্দজি মহারাজ, সিলেট বৌদ্ধবিহারের অধ্যক্ষ শ্রীমৎ সংঘ্যানন্দ মহাথের, সিলেট প্রেসবিটারিয়ান মিশনমণ্ডলীর সভাপতি ডিকন নিঝুম সাংমা, বাংলাদেশ পূজা উদ্‌যাপন পরিষদ সিলেট জেলার সভাপতি গোপীকা শ্যাম পুরকায়স্থ, কেন্দ্রীয় সহসভাপতি মৃত্যুঞ্জয় ধর, বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মলয় পুরকায়স্থ, জেলার ভারপ্রাপ্ত সভাপতি বিজয় কৃষ্ণ বিশ্বাস, বাংলাদেশ পূজা উদ্‌যাপন পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক রজত কান্তি ভট্টাচার্য এবং মহানগরের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি প্রদীপ দেব।

সভায় উপস্থিত নেতারা ধর্মীয় সম্প্রীতি ও জাতীয় ঐক্যের ওপর জোর দেন এবং বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক সহিংসতা রোধে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

তারিখ: ২৩.১২.২০২৪