বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের হামলার সংখ্যা নিয়ে ভারত-বাংলাদেশ মতবিরোধ

ভারতের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী দাবি করেছেন, ২০২৪ সালে বাংলাদেশে ২২০০টি সংখ্যালঘুদের উপর হামলা হয়েছে। তবে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার জানিয়েছে, এই সংখ্যা মাত্র ১৩৮। এই পরিসংখ্যান বিভ্রান্তিকর ও অতিরঞ্জিত বলে দাবি করেছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং।
বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের হামলার সংখ্যা নিয়ে ভারত-বাংলাদেশ মতবিরোধ

ভারতের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লোকসভায় জানিয়েছেন, ২০২৪ সালে বাংলাদেশে ২২০০টি সংখ্যালঘুদের উপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। তবে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের মতে, এই সংখ্যা ১৩৮। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং দাবি করেছে, ভারতের পরিসংখ্যান অতিরঞ্জিত ও বিভ্রান্তিকর। তারা জানিয়েছে, জানুয়ারি থেকে নভেম্বরের মধ্যে ৩৬৮টি ঘরবাড়িতে হামলা এবং ৮২ জন আহত হয়েছে। এছাড়া ৯৭টি মামলা হয়েছে এবং ৭৫ জন গ্রেফতার হয়েছে। বেশিরভাগ হামলা রাজনৈতিক কারণে ঘটেছে।

ঢাকা, ২১ ডিসেম্বর, ২০২৪: বাংলাদেশে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উপর সহিংসতা নিয়ে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে পরিসংখ্যানগত মতবিরোধ প্রকাশ্যে এসেছে। ভারতের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী কীর্তিবর্ধন সিংহ লোকসভায় দাবি করেছেন, ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়, বিশেষ করে হিন্দুদের উপর ২২০০টি হামলার ঘটনা ঘটেছে।

এদিকে, বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে এই পরিসংখ্যানকে অতিরঞ্জিত ও বিভ্রান্তিকর বলে দাবি করা হয়েছে। বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে জানানো হয়েছে, ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে নভেম্বর পর্যন্ত দেশে সংখ্যালঘুদের উপর হামলার সংখ্যা ১৩৮টি।

প্রেস উইংয়ের তথ্য অনুযায়ী, এই সময়ের মধ্যে ৩৬৮টি ঘরবাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটেছে এবং ৮২ জন আহত হয়েছেন। একই সময়ে বাংলাদেশের বিভিন্ন থানায় ৯৭টি মামলা দায়ের হয়েছে এবং পুলিশের পক্ষ থেকে ৭৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বেশিরভাগ হামলার ঘটনা ৫ আগস্ট থেকে ৮ আগস্টের মধ্যে ঘটেছে, যখন দেশে কোনো সরকার কার্যকর ছিল না। এই সময়ে রাজনৈতিক কারণে সহিংসতা বেড়ে যায় বলে দাবি করেছে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার।

অন্যদিকে, ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় লোকসভায় উপস্থাপন করা পরিসংখ্যানে উল্লেখ করেছে, ২০২২ সালে বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের উপর ৪৭টি হামলার ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছিল। ২০২৩ সালে এই সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়ে ৩০২-এ পৌঁছায়। তবে ২০২৪ সালের ৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত এই সংখ্যা ২২০০-তে দাঁড়িয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, বাংলাদেশ এবং পাকিস্তান ছাড়া ভারতের অন্য কোনো প্রতিবেশী দেশে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উপর হামলার ঘটনা ঘটেনি।

বাংলাদেশের সরকারি সংবাদ সংস্থা বাসস-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সরকার প্রতিটি ঘটনার তদন্ত করছে এবং অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।

সরকারের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকায় সংখ্যালঘুদের উপর হামলার ঘটনা ঘটেছে, তবে বেশিরভাগ ঘটনাই স্থানীয় রাজনৈতিক বিরোধের ফলাফল।

এ বিষয়ে বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে জানানো হয়েছে, “আমরা ভারতের পরিসংখ্যানকে বিভ্রান্তিকর বলে মনে করি। প্রকৃত ঘটনা অনুসারে, বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের উপর সহিংসতার ঘটনা তুলনামূলকভাবে কম। সরকার প্রতিটি ঘটনা গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করছে এবং সংখ্যালঘুদের সুরক্ষার জন্য সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালাচ্ছে।”

ভারতের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী কীর্তিবর্ধন সিংহ লোকসভায় বলেন, “বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের উপর সহিংসতার ঘটনা আমাদের জন্য উদ্বেগের বিষয়। ভারত এ বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে।”

এদিকে, বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, “আমরা প্রতিবেশী দেশের উদ্বেগকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করি। তবে প্রকৃত ঘটনা তুলে ধরার দায়িত্ব আমাদের। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমরা সর্বদা সচেষ্ট।”

এই বিষয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের উপর হামলা বাড়ার বিষয়টি ভারতীয় সংসদে উত্থাপন করা হয়েছে এবং ভারতের পক্ষ থেকে বাংলাদেশ সরকারের কাছে এই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

তারিখ: ২২.১২.২০২৪