বাংলাদেশে ৪৮ ঘণ্টায় তিনটি মন্দিরে ভাঙচুর, এক গ্রেপ্তার

বাংলাদেশে গত ৪৮ ঘণ্টায় তিনটি মন্দিরে হামলা চালানো হয়েছে। ময়মনসিংহ ও দিনাজপুরে ভাঙচুরের ঘটনায় স্থানীয় হিন্দুদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। ময়মনসিংহে আলাউদ্দিন নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ভারত ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে।
বাংলাদেশে ৪৮ ঘণ্টায় তিনটি মন্দিরে ভাঙচুর, এক গ্রেপ্তার

বাংলাদেশের ময়মনসিংহ ও দিনাজপুর জেলায় তিনটি মন্দিরে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। ময়মনসিংহের হালুয়াঘাটে দুটি মন্দিরে হামলা চালিয়ে মূর্তি ভেঙেছে দুষ্কৃতীরা। দিনাজপুরে কালী মন্দিরে পাঁচটি মূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, হামলাকারীরা ইসকন বিরোধী স্লোগান দেয়। পুলিশ ময়মনসিংহের ঘটনায় আলাউদ্দিন নামে একজনকে গ্রেপ্তার করেছে। হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। ভারত সরকার বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারকে কঠোর বার্তা পাঠিয়েছে এবং ভারত বিরোধী উসকানিমূলক মন্তব্য বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে।

ঢাকা, ২১ ডিসেম্বর, ২০২৪: বাংলাদেশের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উপর সাম্প্রতিক আক্রমণ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। গত ৪৮ ঘণ্টায় বাংলাদেশের ময়মনসিংহ ও দিনাজপুর জেলায় তিনটি মন্দিরে হামলা চালানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার, ময়মনসিংহ জেলার হালুয়াঘাট উপজেলার শাকুয়াই এলাকার বন্দেরপাড়া মন্দির এবং বিলডোরা এলাকার পলাশকান্দা কালী মন্দিরে হামলা হয়। ভাঙচুর করা হয় দুটি মন্দিরের মূর্তি। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বন্দেরপাড়া মন্দিরের ঘটনায় থানায় অভিযোগ দায়ের করেন মন্দিরের প্রধান সুভাষচন্দ্র সরকার। পুলিশ দ্রুত তদন্ত শুরু করে এবং আলাউদ্দিন নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে।

দিনাজপুর জেলার বীরগঞ্জ উপজেলার ঝাড়বাড়ি শ্মশান কালী মন্দিরেও হামলা হয়। সেখানে পাঁচটি মূর্তি ভাঙচুর করা হয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। মন্দির কমিটির সভাপতি জনার্দন রায় জানিয়েছেন, মন্দিরে এমন হামলা এর আগে কখনও হয়নি। স্থানীয়দের অভিযোগ, হামলাকারীরা ইসকন বিরোধী স্লোগান দিচ্ছিল। এই ঘটনার ফলে স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের উপর হামলার ঘটনা সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। নভেম্বর মাস থেকে সংখ্যালঘুদের বাড়ি-দোকানেও হামলা চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ। ইসকনের সন্ন্যাসী চিন্ময় প্রভুকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং ইসকনের মন্দিরেও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এ নিয়ে ভারত সরকার বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারকে কঠোর বার্তা দিয়েছে।

ভারতের বিদেশ প্রতিমন্ত্রী কীর্তিবর্ধন সিং সংসদে জানিয়েছেন, ২০২৪ সালের অক্টোবর পর্যন্ত বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের উপর ২২০০টি আক্রমণের ঘটনা ঘটেছে। পাকিস্তানের তুলনায় বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের উপর হামলার সংখ্যা কয়েকগুণ বেশি। ২০২২ সালে বাংলাদেশে ৪৭টি হামলার ঘটনা ঘটলেও ২০২৩ সালে সেই সংখ্যা বেড়ে ৩০২-এ পৌঁছেছে। ২০২৪ সালে তা আরও বৃদ্ধি পেয়ে অক্টোবর পর্যন্ত ২২০০-এ পৌঁছেছে।

এই পরিস্থিতিতে সম্প্রতি ঢাকা সফরে গিয়েছিলেন ভারতের বিদেশ সচিব বিক্রম মিসরি। তবে, বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের উপর হামলা বন্ধে কোনও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনুসের ঘনিষ্ঠ মাহফুজ আলম সম্প্রতি ফেসবুকে ‘অখণ্ড বাংলাদেশ’ গড়ার ডাক দেন এবং ভারতের বিভিন্ন রাজ্যকে বাংলাদেশের অধীনে আনার উসকানিমূলক পোস্ট করেন। ভারত সরকার এই ধরনের মন্তব্যের বিরুদ্ধে কড়া বার্তা দিয়েছে এবং বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারকে এই ধরনের মন্তব্য থেকে বিরত থাকতে বলেছে।

ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল স্পষ্টভাবে বলেছেন, ‘এই ধরনের মন্তব্য দায়িত্বজ্ঞানহীন এবং তা ভারত সহ্য করবে না।’ তিনি আরও বলেন, ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্ক উন্নয়নের লক্ষ্যে ভারত সবসময় এগিয়ে এসেছে, কিন্তু এই ধরনের মন্তব্য দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

হিন্দু সম্প্রদায়ের উপর সাম্প্রতিক হামলার পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ সরকার তদন্ত শুরু করেছে এবং হামলাকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ৪ আগস্ট থেকে ১০ ডিসেম্বর পর্যন্ত সংখ্যালঘুদের উপর হামলার ঘটনায় ৯৭টি মামলা রুজু করা হয়েছে এবং ৭৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

তারিখ: ২২.১২.২০২৪