বাংলাদেশের সংখ্যালঘু পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে ভারত
Categories:

বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের ওপর সহিংসতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ভারত সরকার। রাজ্যসভায় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী কীর্তি বর্ধন সিং জানান, বাংলাদেশের সংখ্যালঘু পরিস্থিতির ওপর ভারত গভীর নজর রাখছে। এ পর্যন্ত ৮৮টি মামলা করা হয়েছে এবং ৭০ জন গ্রেপ্তার হয়েছে বলে বাংলাদেশ সরকার জানিয়েছে। পররাষ্ট্রসচিব বিক্রম মিশ্রি ঢাকায় সফরে গিয়ে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিয়ে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে আলোচনা করেছেন। ভারতের হাইকমিশন সংখ্যালঘুদের কল্যাণে নিয়মিত বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে।
নয়াদিল্লি, ২০ ডিসেম্বর, ২০২৪: বাংলাদেশে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর সহিংসতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ভারত সরকার। সম্প্রতি রাজ্যসভায় ভারতের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী কীর্তি বর্ধন সিং জানান, বাংলাদেশে হিন্দুসহ অন্যান্য সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর সহিংসতার ঘটনায় ভারত গভীরভাবে নজর রাখছে। সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা ও স্বাধীনতা নিশ্চিত করার দায়িত্ব বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের বলে তিনি মন্তব্য করেন।
গত ৯ ডিসেম্বর বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে ঢাকায় সফর করেন ভারতের পররাষ্ট্রসচিব বিক্রম মিশ্রি। ওই বৈঠকে সংখ্যালঘুদের সুরক্ষা ও সহিংসতার ঘটনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন মিশ্রি। তিনি বাংলাদেশের নেতাদের কাছে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তার বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব সহকারে বিবেচনার আহ্বান জানান।
রাজ্যসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে কীর্তি বর্ধন সিং বলেন, ভারত সরকার নিয়মিতভাবে বাংলাদেশের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর সহিংসতার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ সরকার ইতিমধ্যে ৮৮টি মামলা দায়ের করেছে এবং সহিংসতার সঙ্গে জড়িত ৭০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে।
কীর্তি বর্ধন সিং বলেন, ভারতের সরকার সংখ্যালঘুদের কল্যাণ নিশ্চিত করতে ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনের মাধ্যমে বাংলাদেশের সরকারের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে। তিনি আরও জানান, বিভিন্ন সময়ে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা এবং সুরক্ষার বিষয়ে ভারতের উদ্বেগের কথা জানানো হয়েছে।
বাংলাদেশের সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা ইস্যুতে ভারতের এই উদ্বেগের পেছনে সাম্প্রতিক সহিংসতা ও হামলার ঘটনার পরিপ্রেক্ষিত রয়েছে। বিভিন্ন সময়ে বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা ও সম্পত্তি লুণ্ঠনের ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বহু মানুষ, ধ্বংস করা হয়েছে ঘরবাড়ি ও মন্দির।
বাংলাদেশ সরকার সংখ্যালঘুদের সুরক্ষা নিশ্চিতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিলেও ভারত মনে করছে, পরিস্থিতি আরও নিবিড় নজরদারির প্রয়োজন রয়েছে।
কীর্তি বর্ধন সিং বলেন, ভারতের নীতিগত অবস্থান হলো, প্রতিবেশী রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশে হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টানসহ সকল সংখ্যালঘুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। তিনি জানান, বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের ওপর যেকোনো ধরনের সহিংসতা বা নির্যাতন ভারত সহ্য করবে না এবং বিষয়টি নিয়ে সর্বোচ্চ পর্যায়ে আলোচনা অব্যাহত থাকবে।
এর আগে, বাংলাদেশের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর সহিংসতা নিয়ে একাধিকবার ভারতের বিভিন্ন মন্ত্রী ও কর্মকর্তারা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তারা বাংলাদেশের সরকারের কাছে আহ্বান জানিয়েছেন, সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের।
ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, সংখ্যালঘুদের জীবনযাত্রা, ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভারত-বাংলাদেশ যৌথ উদ্যোগ গ্রহণের পরিকল্পনা চলছে। সংখ্যালঘুদের জন্য নির্ধারিত উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে ভারত সরকার সহায়তা করতে আগ্রহী বলেও জানিয়েছেন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা।
এদিকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের বিভিন্ন সংস্থা সক্রিয়ভাবে কাজ করছে এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। বাংলাদেশ সরকার জানিয়েছে, সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা এবং ধর্মীয় সহাবস্থানের সংস্কৃতি বজায় রাখতে তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তার ইস্যুতে ভারত সরকারের এই কঠোর অবস্থান দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আগামীতে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা ও কল্যাণের জন্য ভারত এবং বাংলাদেশ যৌথভাবে কাজ করবে এমন আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন ভারতীয় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী কীর্তি বর্ধন সিং।