‘পলায়ন’ নয় ‘পরাক্রম’, বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দুদের উদ্দেশে নয়া স্লোগান সংঘের
Categories:

বাংলাদেশের হিন্দুদের ওপর নির্যাতনের ঘটনায় আরএসএস এবং বিজেপি তাঁদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে। আরএসএসের কার্যকর্তা ড. জিষ্ণু বসু এবং মুখপাত্র বিপ্লব রায় বলেছেন, বাংলাদেশি হিন্দুদের উচিত নিজ দেশে থেকে প্রতিরোধ চালানো। বিজেপি বাংলায় রাজনৈতিক জমি মজবুত করতে বাংলাদেশ ইস্যুকে হিন্দুত্ব প্রচারের অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে। শুভেন্দু অধিকারীর মতো নেতারা ধর্মতলার প্রতিবাদ সভায় সরব হয়েছেন। আরএসএসের মতে, হিন্দুদের ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ প্রয়োজন।
ঢাকা, ১৮ ডিসেম্বর, ২০২৪: বাংলাদেশের হিন্দু সংখ্যালঘুদের উপর নির্যাতন এবং তাদের নিজভূমি ছেড়ে ভারতে আসার প্রবণতা নিয়ে আরএসএস এবং বিজেপি উভয়েই তাঁদের বক্তব্য রেখেছে। আরএসএসের কার্যকর্তা ড. জিষ্ণু বসু বলেছেন, ‘‘১৯৭১ সালের মতো এবারও হিন্দুদের বাংলাদেশ ছেড়ে আসা উচিত নয়। বরং সেখানে থেকে প্রতিরোধের দাপট, তেজ এবং বীরত্ব দেখাতে হবে।’’ তাঁর মতে, দুই বাংলার হিন্দুদের ঐক্যবদ্ধ হওয়া অত্যন্ত জরুরি।
আরএসএসের মুখপাত্র বিপ্লব রায়ের কথায়, ‘‘বাংলাদেশের হিন্দুদের তাঁদের নিজ দেশে থেকে লড়াই চালিয়ে যাওয়া উচিত। পলায়ন কোনো সমাধান নয়। বাংলাদেশের মাটিতে হিন্দুদের পূর্ণ অধিকার আছে, এবং সেটি প্রতিষ্ঠা করাই লক্ষ্য হওয়া উচিত।’’ আরএসএসের এই আহ্বান রাজনৈতিক মহলে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
বাংলায় বিজেপি নেতারাও এই ইস্যুতে সরব হয়েছেন। তাঁদের মতে, বাংলাদেশ ইস্যুটি হিন্দুত্ব প্রচারের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। শুভেন্দু অধিকারী, বিরোধী দলনেতা, ধর্মতলার রানি রাসমণি রোডে এক প্রতিবাদ সভায় বক্তব্য রেখেছেন। এই সভার মূল বিষয় ছিল বাংলাদেশের সংখ্যালঘু হিন্দুদের উপর হওয়া নির্যাতনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলা। বাঙালি হিন্দু সুরক্ষা সমিতির ডাকে এই মিছিল ও সভা হয়।
বাংলাদেশ ইস্যুতে আরএসএসের এই অবস্থান সম্পর্কে বিশ্লেষকরা মনে করেন, এটি শুধু একটি সামাজিক বা ধর্মীয় উদ্যোগ নয়, বরং এটি একটি কৌশলগত প্রচারণা। আরএসএস চায়, বাংলাদেশে হিন্দুরা প্রতিরোধ গড়ে তুলুক এবং নিজেদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করুক। তাঁদের বক্তব্যে স্পষ্ট, ‘‘যেখানে যে আছি, মৃত্যুর আগ পর্যন্ত সেখানেই লড়াই করব।’’
ধর্মতলায় হওয়া সভার মঞ্চ থেকে বারবার বলা হয়েছে, দুই বাংলার হিন্দুদের অস্তিত্বের সংকট চলছে। তথাকথিত উচ্চ-নিচ, ঘটি-বাঙাল, ধনী-দরিদ্র ভেদাভেদ ভুলে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। বাঙালি হিন্দুদের এই লড়াই একতাবদ্ধ অবস্থান থেকেই সম্ভব বলে মনে করেন আরএসএস এবং বিজেপির নেতারা।
বাংলাদেশের পরিস্থিতি এবং সেখানে সংখ্যালঘু হিন্দুদের উপর নির্যাতনের খবর পশ্চিমবঙ্গে যথেষ্ট উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। আরএসএস এবং বিজেপির এই আহ্বান কীভাবে বাস্তবায়িত হবে এবং এর রাজনৈতিক প্রভাব কী হতে পারে, তা নিয়ে বিশ্লেষণ চলছে। তবে আরএসএসের মতে, বাংলাদেশে হিন্দুদের জন্য এই লড়াই এখন সময়ের দাবি।