বাংলাদেশি আইনজীবী রবীন্দ্র ঘোষের সাহসিকতার প্রশংসা বিজেপি নেতার

বাংলাদেশি সংখ্যালঘু হিন্দুদের অধিকারের পক্ষে লড়াই চালানো আইনজীবী রবীন্দ্র ঘোষের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন বিজেপি নেতা অর্জুন সিং। রবীন্দ্র ঘোষের সাহসিকতার প্রশংসা করেন তিনি। প্রাণনাশের হুমকি উপেক্ষা করে রবীন্দ্র ঘোষের লড়াই মানবতার চেতনা তুলে ধরছে।
বাংলাদেশি আইনজীবী রবীন্দ্র ঘোষের সাহসিকতার প্রশংসা বিজেপি নেতার

বাংলাদেশের সংখ্যালঘু হিন্দুদের অধিকারের পক্ষে লড়াই করা আইনজীবী রবীন্দ্র ঘোষের সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের ব্যারাকপুরে সাক্ষাৎ করেন বিজেপি নেতা অর্জুন সিং। চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের পক্ষে দাঁড়ানোয় রবীন্দ্র ঘোষকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হলেও তিনি নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। বিজেপি নেতা তাঁর সাহসিকতা ও মানবতার প্রতি অঙ্গীকারের প্রশংসা করেন। উপস্থিত ছিলেন হিন্দু ধর্মীয় নেতা কার্তিক মহারাজ, যিনি রবীন্দ্র ঘোষের কাজকে মানবতার চেতনার প্রতিফলন বলে উল্লেখ করেন। রবীন্দ্র ঘোষ নিজেও অবিচারের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করেন।

কলকাতা, ১৮ ডিসেম্বর, ২০২৪: বাংলাদেশের সংখ্যালঘু হিন্দুদের অধিকারের পক্ষে লড়াই চালিয়ে যাওয়া বিশিষ্ট আইনজীবী রবীন্দ্র ঘোষের সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার ব্যারাকপুরে সাক্ষাৎ করেন বিজেপি নেতা অর্জুন সিং। মঙ্গলবার হওয়া এই সাক্ষাতে অর্জুন সিং রবীন্দ্র ঘোষের নিরলস প্রচেষ্টার জন্য তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং সাহসিকতার ভূয়সী প্রশংসা করেন। রবীন্দ্র ঘোষ বর্তমানে চিকিৎসার জন্য পশ্চিমবঙ্গে অবস্থান করছেন। তিনি বাংলাদেশ মাইনরিটি ওয়াচ নামের একটি সংগঠনের সভাপতি এবং দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের সংখ্যালঘুদের অধিকার আদায়ের জন্য সোচ্চার।

সম্প্রতি চিন্ময় কৃষ্ণ দাস নামে বাংলাদেশের একজন ধর্মীয় নেতার পক্ষে দাঁড়ানোয় রবীন্দ্র ঘোষকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে। চিন্ময় কৃষ্ণ দাস রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় গ্রেপ্তার হওয়ার পর তাঁর পক্ষে আদালতে জামিন আবেদন দাখিল করতে চট্টগ্রামে গিয়েছিলেন রবীন্দ্র ঘোষ। তবে, আইনি প্রক্রিয়ার বিভিন্ন জটিলতার কারণে তিনি ওকালতনামা দাখিল করতে পারেননি।

এই প্রসঙ্গে বিজেপি নেতা অর্জুন সিং বলেন, ‘‘বাংলাদেশের সংখ্যালঘু হিন্দুরা যেন ন্যায়বিচার পান, সে জন্য লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন রবীন্দ্র ঘোষ। তাঁর এই সাহসিকতা ও নিরলস প্রচেষ্টা আমাদের অনুপ্রাণিত করছে। প্রাণনাশের হুমকি সত্ত্বেও তিনি যেভাবে মানবতার চেতনা তুলে ধরছেন, তা প্রশংসনীয়।’’

সাক্ষাতের সময় হিন্দু ধর্মীয় নেতা কার্তিক মহারাজও উপস্থিত ছিলেন। তিনি বলেন, ‘‘ন্যায়বিচারের প্রতি রবীন্দ্র ঘোষের অঙ্গীকার মানবতার প্রকৃত চেতনাকে তুলে ধরেছে। এ কারণে তাঁকে সমর্থন করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।’’ রবীন্দ্র ঘোষ নিজেও জানান, যেকোনো অবিচারের বিরুদ্ধে তিনি লড়াই চালিয়ে যাবেন এবং সংখ্যালঘুদের অধিকার রক্ষার জন্য তাঁর সংগ্রাম অব্যাহত থাকবে।

রবীন্দ্র ঘোষের এই প্রচেষ্টাকে নিয়ে রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষত, বাংলাদেশের সংখ্যালঘু হিন্দুদের অধিকার রক্ষায় তাঁর ভূমিকা আন্তর্জাতিক পর্যায়েও আলোচিত হয়েছে। তাঁর সংগঠন বাংলাদেশ মাইনরিটি ওয়াচ দীর্ঘদিন ধরে সংখ্যালঘুদের অধিকার রক্ষার ক্ষেত্রে সক্রিয়। সংগঠনটি দেশে-বিদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতনের ঘটনা তুলে ধরে আন্তর্জাতিক মহলে সচেতনতা বাড়ানোর কাজ করে যাচ্ছে।

বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দুদের উপর নির্যাতনের ঘটনা নিয়ে ভারতের পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক পরিবেশও সরগরম। বিজেপি এবং অন্যান্য হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলো বাংলাদেশ ইস্যুতে সোচ্চার। বিশেষত, এই ইস্যুটিকে কেন্দ্র করে বাংলায় রাজনৈতিক শক্তি মজবুত করার চেষ্টাও চলছে। অর্জুন সিং-এর মতো নেতারা এই ইস্যুতে বারবার সরব হচ্ছেন এবং হিন্দুদের অধিকার রক্ষার লড়াই চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানাচ্ছেন।

রবীন্দ্র ঘোষের মতো ব্যক্তিত্বরা তাঁদের কাজের মাধ্যমে মানবতার প্রতি যে অঙ্গীকার দেখিয়েছেন, তা শুধু হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যেই নয়, বরং বৃহত্তর সমাজেও একটি বার্তা পৌঁছে দিয়েছে। তিনি জানান, ‘‘সংখ্যালঘুদের অধিকার রক্ষায় আমার সংগ্রাম কোনো হুমকিতে থামবে না। ন্যায়বিচারের জন্য আমি আমার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাব।’’

এই ঘটনাগুলো প্রমাণ করে, মানবতার জন্য লড়াই কোনো নির্দিষ্ট দেশের সীমাবদ্ধতায় আবদ্ধ নয়। রবীন্দ্র ঘোষের প্রচেষ্টা এবং বিজেপি নেতাদের সমর্থন বাংলাদেশের সংখ্যালঘুদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করছে। তাঁরা যেন এই প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যে নিজেদের অধিকার রক্ষা করতে সাহসী পদক্ষেপ নিতে পারেন, সে জন্যই এই ধরনের সমর্থন ও উদ্যোগ অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক।

তারিখ: ১৮.১২.২০২৪