ওপারে খোঁজ নেই দুই ভাইয়ের, চিন্তায় কেঁদেই চলেছেন এপারের হিন্দু প্রৌঢ়

বাংলাদেশের বগুড়ায় সাম্প্রদায়িক হামলায় স্বপন ও তরুণ চক্রবর্তীর বাড়ি ও দোকান পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। রায়গঞ্জের সঞ্জিত চক্রবর্তী দুই দাদার সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছেন না। পরিবার উদ্বেগে আছে। রায়গঞ্জ প্রশাসন সাহায্যের পরামর্শ দিয়েছে।
ওপারে খোঁজ নেই দুই ভাইয়ের, চিন্তায় কেঁদেই চলেছেন এপারের হিন্দু প্রৌঢ়

বাংলাদেশের বগুড়ায় দত্তপাড়ায় সাম্প্রদায়িক হামলায় দাদাদের বাড়ি ও দোকান পুড়িয়ে দেওয়ায় উদ্বিগ্ন রায়গঞ্জের সঞ্জিত চক্রবর্তী। তাঁর দুই ভাই স্বপন চক্রবর্তী এবং তরুণ চক্রবর্তী বাংলাদেশে সুপ্রতিষ্ঠিত হলেও এখন পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। সঞ্জিতবাবু তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছেন না। প্রতিবেশীদের মাধ্যমে খবর এসেছে, দাদাদের বাড়িঘর এবং দোকান ভেঙে ও জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে। রায়গঞ্জের প্রশাসন জানিয়েছে, সমস্যা হলে বাংলাদেশের হাই কমিশনের সাহায্য নেওয়া যেতে পারে।

রায়গঞ্জ, ১৮ ডিসেম্বর, ২০২৪: বাংলাদেশের বগুড়ায় সাম্প্রদায়িক সহিংসতার ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত দুই হিন্দু পরিবারের কথা জানালেন রায়গঞ্জের দেবীনগরের বাসিন্দা সঞ্জিত চক্রবর্তী। তাঁর দুই দাদা, স্বপন চক্রবর্তী এবং তরুণ চক্রবর্তী, যাঁরা বাংলাদেশে সুপ্রতিষ্ঠিত ছিলেন, তাঁদের বাড়ি এবং ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান সাম্প্রদায়িক হামলায় ধ্বংস হয়ে গেছে।

সঞ্জিতবাবু কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন, তাঁর দাদা স্বপন চক্রবর্তী ছিলেন বাংলাদেশের পীরগঞ্জ থানার পুলিশ অফিসার। অপর দাদা তরুণ চক্রবর্তী বগুড়ার দত্তপাড়ায় আওয়ামী লীগের পুর কাউন্সিলর ছিলেন। দত্তপাড়ায় তাঁদের নিজস্ব বাড়ি ও ব্যবসা ছিল। সাম্প্রদায়িক হামলাকারীরা দাদাদের বাড়ি ভেঙে ফেলে এবং তাঁদের সাতমাথা মোড়ে থাকা কাপড় ও মুদির দোকানগুলো লুট করে পুড়িয়ে দেয়।

সঞ্জিতবাবু জানান, গতকাল রাত থেকে দাদাদের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন। কোনো প্রতিবেশীর সঙ্গে যোগাযোগ করে তাঁদের অবস্থার খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। শেষ খবর এসেছে একজন স্থানীয় বাসিন্দার মাধ্যমে। জানা গেছে, হামলার পর দাদারা প্রাণ বাঁচানোর জন্য কোথাও পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। তাঁদের বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে কোনো খবর নেই।

এই ঘটনায় বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর চলা অত্যাচারের বিষয়টি আরও একবার সামনে এসেছে। সাম্প্রদায়িক সহিংসতার কারণে হিন্দু সম্প্রদায় প্রতিনিয়ত তাদের বাসস্থান ও সম্পদ হারাচ্ছে। সঞ্জিতবাবু বলেন, “দাদাদের কাছে আমরা কত সাহায্য পেয়েছি। কিন্তু এখন তাঁরাই বিপদে আছেন। তাঁদের জীবন বাঁচাতে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। কোথায় আছেন, কী অবস্থায় আছেন, কিছুই জানতে পারছি না।”

এই ঘটনার প্রেক্ষিতে রায়গঞ্জের বাসিন্দারা অত্যন্ত উদ্বিগ্ন। সঞ্জিতবাবু জানান, তিনি এবং তাঁর স্ত্রী তৃপ্তি চক্রবর্তী প্রতিবেশীদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করছেন, কিন্তু কোনো ফল পাননি। রায়গঞ্জের প্রাক্তন চেয়ারম্যান অরূপ ঘোষের ছেলের সঙ্গে যোগাযোগ করে কিছু তথ্য জানা গেছে। তিনি জানিয়েছেন, দাদাদের বাড়ি ভেঙে এবং জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে।

রায়গঞ্জ মহকুমাশাসক কিংশুক মাইতি জানিয়েছেন, বাংলাদেশের সঙ্গে যোগাযোগে সমস্যা হলে, স্থানীয় প্রশাসন ও বাংলাদেশের হাই কমিশনের মাধ্যমে যোগাযোগ করা যেতে পারে। তিনি আরও বলেন, বিষয়টি আন্তর্জাতিকভাবে আলোচনায় আনা প্রয়োজন।

বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা আরও জটিল পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে। বিশেষত সংখ্যালঘুদের ওপর এই ধরনের হামলা বাংলাদেশে দীর্ঘদিনের সমস্যা। সঞ্জিতবাবু বলেন, “গত দুদিন ধরে দত্তপাড়া অগ্নিগর্ভ। দাদাদের পরিবারের কোনো খবর নেই। তাঁরা আদৌ বেঁচে আছেন কি না, তা আমরা জানি না। খুব অসহায় লাগছে।”

এই ঘটনার খবর স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমে উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ পর্যন্ত পৌঁছানো হয়েছে। তবে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ করতে আরও কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের প্রয়োজন বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। রায়গঞ্জে এপারের স্বজনরা অত্যন্ত উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছেন। তাঁদের একমাত্র চাওয়া, দাদারা নিরাপদে ফিরে আসুন।

এই ঘটনা শুধু দুই পরিবারের নয়, বরং বাংলাদেশের সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের একটি বড় সংকটকে তুলে ধরে। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির জন্য বাংলাদেশের সরকার এবং স্থানীয় প্রশাসনের আরও কার্যকর ভূমিকা প্রয়োজন। এপারের বাসিন্দারা আশা করছেন, বাংলাদেশের সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তার জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় যথাযথ ব্যবস্থা নেবে।

তারিখ: ১৮.১২.২০২৪