ভোলায় সংখ্যালঘু হিন্দু ব্যবসায়ী প্রাণকৃষ্ণ দাসের উপর হামলা

বাংলাদেশের ভোলা জেলায় সংখ্যালঘু হিন্দু ব্যবসায়ী প্রাণকৃষ্ণ দাসের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে ইসলামি মৌলবাদী মহম্মদ রিয়াজের বিরুদ্ধে। প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তা এবং সরকারের উদাসীনতায় বারবার সংখ্যালঘুরা আক্রান্ত হচ্ছেন। আন্তর্জাতিক চাপ বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তা দেখা দিচ্ছে।
ভোলায় সংখ্যালঘু হিন্দু ব্যবসায়ী প্রাণকৃষ্ণ দাসের উপর হামলা

বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দুদের ওপর নির্যাতনের ঘটনা আরও একটি মর্মান্তিক চিত্র সামনে এলো। ভোলা জেলায় হিন্দু ব্যবসায়ী প্রাণকৃষ্ণ দাসের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে ইসলামি মৌলবাদী মহম্মদ রিয়াজের বিরুদ্ধে। ইসকনের ভাইস প্রেসিডেন্ট রাধারমণ দাস এ ঘটনার নিন্দা জানিয়ে বলেছেন, বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের জীবনের নিরাপত্তা ক্রমশ সংকটাপন্ন হচ্ছে। পুলিশ ও প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তা এবং সরকারের উদাসীনতায় এই ঘটনা থামছে না। হিন্দু সন্ন্যাসী চিন্ময় কৃষ্ণ দাস এখনও কারাগারে আছেন এবং তাঁর হয়ে সওয়াল করতেও বাধা দেওয়া হচ্ছে। আন্তর্জাতিক মহলের চাপ ছাড়া পরিস্থিতি পরিবর্তনের সম্ভাবনা ক্ষীণ।

ঢাকা, ১৭ ডিসেম্বর, ২০২৪: বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতনের ধারাবাহিকতায় আরও একটি ঘটনা ঘটেছে। ভোলা জেলায় হিন্দু ব্যবসায়ী প্রাণকৃষ্ণ দাসের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের তীর ইসলামি মৌলবাদী মহম্মদ রিয়াজের দিকে। এই ঘটনার পর সংখ্যালঘুদের সুরক্ষা নিয়ে আরও একবার প্রশ্ন উঠেছে। কলকাতা ইসকনের ভাইস প্রেসিডেন্ট রাধারমণ দাস এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছেন, “আমরা প্রতিদিন এই ধরনের খবর পাচ্ছি। একজন নিরীহ ব্যবসায়ীর ওপর এই আক্রমণ খুবই নিন্দনীয়। বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টানদের জীবন ক্রমশই বিপন্ন হয়ে উঠছে।”

তিনি আরও বলেন, “পুলিশ এবং প্রশাসনের উচিত ছিল এই ধরনের হামলা প্রতিহত করা। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত, তারা যথাযথ ব্যবস্থা নিচ্ছে না। সরকারের তরফেও উদ্যোগের অভাব স্পষ্ট। বিচারবিভাগের নিষ্ক্রিয়তা আরও বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। কারাগারে আটক হিন্দু সন্ন্যাসী চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের জামিন হচ্ছে না, এমনকি তাঁর পক্ষে সওয়াল করতেও আইনজীবীদের বাধা দেওয়া হচ্ছে।”

সংখ্যালঘুদের ওপর এই ধারাবাহিক আক্রমণে আন্তর্জাতিক মহলও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। অনেকের মতে, বাংলাদেশ সরকারের মনোভাব পরিবর্তনে আন্তর্জাতিক চাপ অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে। ভারতসহ অন্যান্য দেশগুলির থেকে আরও কড়া পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে।

ইসকনের ভাইস প্রেসিডেন্ট বলেছেন, “১০০ দিন ধরে আমরা একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি দেখে যাচ্ছি। এটা শুধু দুঃখজনক নয়, ভয়াবহও। বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হওয়াটা যেন পাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ পরিস্থিতি বদলাতে হলে সরকারের সচেতনতা এবং কার্যকর পদক্ষেপ অত্যন্ত জরুরি।”

এদিকে, হিন্দু সন্ন্যাসী চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের গ্রেপ্তারি এবং বিচারপ্রক্রিয়ার স্থবিরতা আরও একটি বড় সমস্যা হিসেবে দেখা দিয়েছে। তাঁর পক্ষে সওয়াল করতে আদালতে পৌঁছানো আইনজীবী রবীন্দ্র ঘোষও বাধার সম্মুখীন হয়েছেন। এসব ঘটনায় বাংলাদেশ সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আন্তর্জাতিক মহলের চাপ ছাড়া এ পরিস্থিতির উন্নতি সম্ভব নয়। বাংলাদেশের সংখ্যালঘু নির্যাতনের বিষয়টি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলির দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। তারা এ বিষয়ে দ্রুত হস্তক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছে।

ইতিমধ্যে, কলকাতা ইসকনের পক্ষ থেকে এ ঘটনায় কঠোর প্রতিক্রিয়ার কথা জানানো হয়েছে। সংখ্যালঘুদের ওপর ধারাবাহিক হামলার প্রতিবাদে তাঁরা একটি বিবৃতিতে বলেছেন, “বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের রক্ষা করা শুধু সরকারের দায়িত্ব নয়, এটি একটি মানবিক কর্তব্য। এ ধরনের আক্রমণ বন্ধ করতে হলে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া আবশ্যক।”

বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক মহল পর্যন্ত প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছে। তবে প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তা এবং সরকারের উদাসীনতার কারণে সংখ্যালঘুদের জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

হিন্দু ব্যবসায়ী প্রাণকৃষ্ণ দাসের ওপর হামলার ঘটনা শুধু একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং এটি বাংলাদেশের সংখ্যালঘুদের ওপর চলমান নির্যাতনের ধারাবাহিক উদাহরণ। এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে সরকারের তৎপরতা এবং আন্তর্জাতিক মহলের চাপের সমন্বয় প্রয়োজন। বাংলাদেশের সংখ্যালঘুদের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য এখনই যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।

তারিখ: ১৮.১২.২০২৪