প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর টোটব্যাগের রাজনীতিতে মিশলো বাংলাদেশের হিন্দু ইস্যু

ভারতে প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর টোটব্যাগে ফিলিস্তিন সমর্থন ও বাংলাদেশি সংখ্যালঘুদের সুরক্ষা ইস্যুতে প্রবল রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। কংগ্রেস এমপিদের বিক্ষোভ ও বিজেপির অভিযোগে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। পার্লামেন্ট অধিবেশনে এই ইস্যুতে দুই দলের তর্ক চলছে।
প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর টোটব্যাগের রাজনীতিতে মিশলো বাংলাদেশের হিন্দু ইস্যু

ফিলিস্তিন লেখা টোটব্যাগ নিয়ে পার্লামেন্টে প্রবেশের পর কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়াঙ্কা গান্ধী প্রবল বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন। ফিলিস্তিন ও বাংলাদেশি সংখ্যালঘুদের পাশে দাঁড়ানোর বার্তা দিয়ে টোটব্যাগে প্রতীকী সমর্থন দেখান তিনি। বিজেপি এই পদক্ষেপকে মুসলিম তোষণের রাজনীতি বলে কটাক্ষ করেছে। মঙ্গলবার কংগ্রেস এমপিরা বাংলাদেশের সংখ্যালঘু সুরক্ষার দাবিতে বিক্ষোভ করেন। প্রিয়াঙ্কা গান্ধী সরকারের কাছে বাংলাদেশের হিন্দু ও খ্রিস্টানদের সুরক্ষা নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছেন। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা এটিকে কংগ্রেসের সাম্প্রতিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন, যা ফিলিস্তিন ও বাংলাদেশের সংখ্যালঘুদের প্রতি সহানুভূতির বার্তা দেয়। (সূত্রঃ বিবিসি)

নয়াদিল্লি, ১৭ ডিসেম্বর, ২০২৪: ভারতে কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর একটি টোটব্যাগ নিয়ে দেশজুড়ে বিতর্কের ঝড় উঠেছে। পার্লামেন্টে ফিলিস্তিন লেখা টোটব্যাগ বহন করে প্রবেশ করার পর থেকেই বিষয়টি তীব্র রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়। টোটব্যাগটিতে একটি তরমুজের ছবি ছিল, যা ফিলিস্তিনিদের প্রতি সমর্থনের একটি আন্তর্জাতিক প্রতীক।

কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়াঙ্কা গান্ধী কিছুদিন আগেই কেরালার ওয়েনাড আসন থেকে নির্বাচিত হয়ে সংসদে প্রবেশ করেছেন। এর আগে ফিলিস্তিনি শার্জ-দ্য-অ্যাফেয়ার্স আবেদ এলরাজেগ আবু জাজের তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং টোটব্যাগটি তাকে উপহার দেওয়া হয় বলে জানা গেছে।

প্রিয়াঙ্কার এই পদক্ষেপ নিয়ে বিজেপি কঠোর সমালোচনা করেছে। বিজেপি নেতা মনোজ তিওয়ারি অভিযোগ করেন, এটি মুসলিম তোষণের রাজনীতির আরেকটি উদাহরণ। কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী এস পি সিং বাগেল দাবি করেন, এটি একটি পূর্বপরিকল্পিত পদক্ষেপ, যা ভারতের বিশেষ একটি ভোটব্যাংককে টার্গেট করে করা হয়েছে।

এই বিতর্কের মধ্যেই কংগ্রেস পাল্টা আক্রমণ করে বাংলাদেশের সংখ্যালঘুদের সুরক্ষার ইস্যু সামনে আনে। মঙ্গলবার সকালে কংগ্রেস এমপিরা নতুন একটি টোটব্যাগ নিয়ে পার্লামেন্টে প্রবেশ করেন, যেখানে লেখা ছিল “স্ট্যান্ড উইথ মাইনরিটিস অব বাংলাদেশ”। কংগ্রেস এমপিরা দাবি তোলেন, ভারত সরকারকে বাংলাদেশের হিন্দু ও খ্রিস্টান সংখ্যালঘুদের সুরক্ষার বিষয়ে সরাসরি পদক্ষেপ নিতে হবে এবং এ বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে আলোচনা করতে হবে।

প্রিয়াঙ্কা গান্ধী পার্লামেন্ট অধিবেশনের জিরো আওয়ারে বাংলাদেশের সংখ্যালঘুদের সুরক্ষার ইস্যু উত্থাপন করেন। তার মতে, সরকারের উচিত অপ্রয়োজনীয় বিতর্কে সময় নষ্ট না করে বাংলাদেশের হিন্দু ও খ্রিস্টানদের সুরক্ষার বিষয়ে মনোযোগ দেওয়া।

প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর টোটব্যাগকে বিজেপি “ভোটব্যাগ” বলে বিদ্রূপ করেছে। বিজেপি নেতারা প্রশ্ন তুলেছেন, কেন তিনি বাংলাদেশের নির্যাতিত সংখ্যালঘুদের আগে মধ্যপ্রাচ্যের মুসলিমদের প্রতি সহানুভূতি দেখিয়েছেন। তবে প্রিয়াঙ্কা এই প্রশ্নের জবাবে বলেন, “আমি কী পরব বা আমার হাতে কী থাকবে, সেটা সম্পূর্ণ আমার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। অন্য কেউ আমার পোশাক ঠিক করে দিতে পারে না। এটি একটি পিতৃতান্ত্রিক মানসিকতার পরিচয়।”

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, কংগ্রেস এই পদক্ষেপের মাধ্যমে দেখাতে চেয়েছে যে তারা শুধুমাত্র ফিলিস্তিনের মুসলিমদেরই নয়, বাংলাদেশের হিন্দু ও খ্রিস্টান সংখ্যালঘুদেরও পাশে আছে। নতুন পার্লামেন্ট ভবনের সামনে কংগ্রেসের এই বিক্ষোভ অনেকটা কৌশলগত পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ভারত দীর্ঘদিন ধরে ফিলিস্তিন ইস্যুতে দ্বি-রাষ্ট্র সমাধানের পক্ষে কথা বলে আসছে। এই নীতির অধীনে একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের স্বীকৃতির পাশাপাশি ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক রাখার ভারসাম্য বজায় রেখেছে ভারত। পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শংকর সম্প্রতি পার্লামেন্টে উল্লেখ করেছেন যে, ভারত জাতিসংঘে ফিলিস্তিনিদের পক্ষে বেশ কয়েকটি প্রস্তাবে সমর্থন দিয়েছে।

অন্যদিকে, বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক ঐতিহাসিক। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে ভারতের ভূমিকা সুপরিচিত। তবে সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের হিন্দু সংখ্যালঘুদের সুরক্ষার ইস্যুতে দিল্লি এবং ঢাকার মধ্যে কূটনৈতিক অস্বস্তি তৈরি হয়েছে।

প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর নেতৃত্বে কংগ্রেস বাংলাদেশের সংখ্যালঘুদের সুরক্ষার দাবিতে সরব হয়েছে। তবে বিজেপি এই পদক্ষেপকে একটি রাজনৈতিক কৌশল বলে উল্লেখ করেছে। উভয় পক্ষের এই বিতর্কে দেশের রাজনৈতিক পরিবেশ উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।

তারিখ: ১৮.১২.২০২৪