কাটা হয়েছে মায়ের আঙুল, বোনের গলায় কোপ, আতঙ্কে কাঁপছেন হিন্দু আওয়ামি লিগ নেত্রী
Categories:

বাংলাদেশে রাজনৈতিক ও ধর্মীয় কারণে সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতনের মর্মান্তিক ঘটনা সামনে এসেছে। আওয়ামি লিগ সমর্থক হিন্দু নেতা মণি কর্মকারের পরিবার ভয়াবহ হামলার শিকার হয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, বঙ্গবন্ধুর আদর্শে অনুপ্রাণিত হওয়াই যেন তাঁর অপরাধ। হামলাকারীরা তাঁর সন্তান, মা এবং বোনের ওপরও নৃশংস নির্যাতন চালিয়েছে। এর আগে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক কুশলবরণ চক্রবর্তীকেও কট্টরপন্থীদের হামলার শিকার হতে হয়েছে। শেখ হাসিনার বিদায়ের পর সংখ্যালঘু নির্যাতনের ঘটনাগুলি আরও বেড়ে চলেছে। এ ধরনের হামলার নেপথ্যে মানবাধিকার ও আইনের শাসন লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠছে।
ঢাকা, ১৭ ডিসেম্বর, ২০২৪: বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতনের ঘটনার মধ্যে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে আওয়ামি লিগ সমর্থক এক হিন্দু নেতার পরিবারের ওপর নৃশংস হামলায়। মণি কর্মকার, যিনি নিজেকে বঙ্গবন্ধুর আদর্শে অনুপ্রাণিত এবং আওয়ামি লিগের সক্রিয় কর্মী হিসেবে পরিচিত করেন, এক সোশ্যাল মিডিয়া ভিডিওতে নিজের ওপর হওয়া এই আক্রমণের কথা বর্ণনা করেছেন। তাঁর অভিযোগ, একজন হিন্দু এবং আওয়ামি লিগের সঙ্গে জড়িত থাকাই যেন তাঁর অপরাধ।
ভিডিওটি প্রথম পোস্ট করেছে @ATeam_1971 নামে একটি গ্রুপ, যারা এই আক্রমণকে ধর্মীয় ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত আখ্যা দিয়েছে। মণি কর্মকার জানিয়েছেন, তাঁর পরিবারের সদস্যদের ওপর বর্বরোচিত হামলা চালানো হয়েছে। তিনি বলেন, “আমার সন্তানরা স্কুলে পড়ে। তাদের কী অপরাধ? আমার মায়ের আঙুল কেটে ফেলা হয়েছে। আমার বোনের গলা কেটে হত্যার চেষ্টা হয়েছে। আমি এর সুবিচার চাই।”
শেখ হাসিনার বিদায়ের পর বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার পরিচালনার দায়িত্বভার নিয়েছেন মহম্মদ ইউনূস। তাঁর শাসনামলে সংখ্যালঘু বিশেষত হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর নির্যাতনের একের পর এক ঘটনা প্রকাশ্যে আসছে। বুধবার আওয়ামি লিগের এক বিবৃতিতে জানানো হয়, শুধু দেওয়ালে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান লেখার কারণে চাঁপাই নবাবগঞ্জ জেলায় আওয়ামি ছাত্র লীগের দুই সদস্যকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে।
এর আগে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক কুশলবরণ চক্রবর্তীর ওপরও হামলা চালানো হয়। তিনি সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতনের বিরুদ্ধে কথা বলেছিলেন। বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সংখ্যালঘুদের বাড়িঘর, মন্দির এবং সম্পত্তির ওপর ধারাবাহিক হামলার ঘটনা ঘটছে। এসব হামলার নেপথ্যে মানবাধিকার লঙ্ঘনের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক মহলেও এই বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। মণি কর্মকারের ঘটনার মতো ঘটনাগুলি বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ওপর আঘাত বলেই মনে করা হচ্ছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, ইউনূস আমলে এ ধরনের হিংসা আদৌ থামবে কি না।
মণি কর্মকার সোশ্যাল মিডিয়ায় সরাসরি প্রশ্ন করেন, “হিন্দু এবং আওয়ামি লিগের সদস্য হওয়াই যদি অপরাধ হয়, তাহলে আমিই অপরাধী। কিন্তু আমার সন্তান, মা, এবং বোনের কী অপরাধ? তাদের ওপর এভাবে আক্রমণ চালানো হলো কেন?”
মানবাধিকার কর্মীরা এ ঘটনার দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, এ ধরনের ঘটনা বাংলাদেশের বিচারব্যবস্থা এবং আইনশৃঙ্খলার জন্য গভীর সংকট তৈরি করছে। একইসঙ্গে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করার জন্য তারা সরকার এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
সাম্প্রতিককালে বাংলাদেশের হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর ক্রমবর্ধমান হিংসার ঘটনাগুলি উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে। শেখ হাসিনার বিদায়ের পর থেকে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী হাসিনার সময় সংখ্যালঘু সম্প্রদায় কিছুটা হলেও নিরাপদ ছিল, কিন্তু বর্তমানে তারা চরম সঙ্কটের মুখোমুখি।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এসব হামলার পেছনে রাজনৈতিক মেরুকরণ এবং চরমপন্থী শক্তির উত্থান কাজ করছে। সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা বন্ধ করতে হলে সরকারের সক্রিয় পদক্ষেপ প্রয়োজন। মণি কর্মকার এবং তাঁর পরিবারের ওপর হওয়া হামলা এই পরিস্থিতির এক করুণ উদাহরণ হয়ে রইল।
এ পরিস্থিতিতে প্রয়োজন মানবাধিকার এবং আইনের শাসনের প্রতি সম্মান জানিয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত এবং কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ। বাংলাদেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষা এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ বজায় রাখতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।