বাংলাদেশে ‘সংখ্যালঘু নির্যাতনের’ নিন্দা ভারতে নিযুক্ত ইসরায়েলি কূটনীতিকের
Categories:

মুম্বাইয়ে অনুষ্ঠিত ওয়্যার্ল্ড হিন্দু ইকোনমিক ফোরামের (ডব্লিউএইচইএফ) প্লেনারি সেশনে ইসরায়েলের কনসাল জেনারেল কোব্বি শোশানি বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর চলমান নির্যাতনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “সেখানে যা ঘটছে, তা গ্রহণযোগ্য নয়।” শোশানি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, ইসরায়েল ও বাংলাদেশের হিন্দুদের প্রতি সমর্থন জানানোয় তিনি বিশেষভাবে কৃতজ্ঞ। তিনি বাংলাদেশের হিন্দুদের যেসব চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হচ্ছে, সেগুলো মোকাবিলায় গুরুত্ব আরোপ করেন এবং হিন্দু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তার প্রতি জোর দেন।
মুম্বাই, ১৭ ডিসেম্বর, ২০২৪: ভারতের মুম্বাইয়ে গত শুক্র থেকে রোববার পর্যন্ত অনুষ্ঠিত ওয়াল্ড হিন্দু ইকোনমিক ফোরামের (ডব্লিউএইচইএফ) প্লেনারি সেশনে অংশগ্রহণ করেন ইসরায়েলের কনসাল জেনারেল কোব্বি শোশানি। এই সম্মেলনে ইসরায়েলের কনসাল জেনারেল বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর নির্যাতন এবং তাদের প্রতি চলমান বৈষম্যের বিরুদ্ধে তার গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “সেখানে যা ঘটছে, তা গ্রহণযোগ্য নয়।” শোশানি এই ধরনের ঘটনাকে নিন্দনীয় হিসেবে চিহ্নিত করেন এবং বাংলাদেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের যেসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার প্রয়োজন, সেগুলোকে সামনে এনে তা সমাধানের জন্য আহ্বান জানান।
ইসরায়েলি কনসাল জেনারেল কোব্বি শোশানি তার বক্তব্যে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। তিনি বলেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে ইসরায়েল এবং বাংলাদেশে বসবাসরত হিন্দুদের প্রতি সহানুভূতির যে সমর্থন প্রদর্শিত হচ্ছে, সেটি বিশেষভাবে প্রশংসনীয়। শোশানি আরও বলেন, ইসরায়েল সরকারের পক্ষ থেকে বাংলাদেশে হিন্দুদের মানবাধিকার রক্ষার প্রতি পূর্ণ সমর্থন দেওয়া হয়েছে এবং তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
উল্লেখযোগ্য যে, বাংলাদেশে হিন্দু সম্প্রদায় সংখ্যালঘু হিসেবে দীর্ঘদিন ধরেই নানা ধরনের সামাজিক ও রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হয়ে আসছে। বিশেষত, সম্প্রতি কয়েক বছর ধরে হিন্দুদের ওপর চলমান আক্রমণ ও নির্যাতন বিশ্বব্যাপী আলোচনা সৃষ্টি করেছে। বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে তাদের ধর্মীয় স্থাপনাগুলি হামলার শিকার হয়েছে এবং কিছু জায়গায় হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষের ওপর শারীরিক এবং মানসিক নির্যাতন বৃদ্ধি পেয়েছে।
কনসাল জেনারেল শোশানি এই বিষয়ে বলেন, “আমরা বিশ্বাস করি, প্রতিটি জনগণের অধিকার রয়েছে তাদের নিজস্ব ধর্ম পালনের এবং শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করার। কোনো ধরনের ধর্মীয় বৈষম্য কিংবা নির্যাতন একদমই গ্রহণযোগ্য নয়।” তিনি বাংলাদেশের সরকারের কাছে দাবি করেন যে, তারা যেন সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের অধিকার নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেন।
এছাড়া, তিনি বাংলাদেশের হিন্দু সম্প্রদায়কে তাদের ন্যায্য অধিকার আদায়ে দৃঢ় থাকতে এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও সমর্থন গ্রহণ করতে উৎসাহিত করেন। শোশানি এই বিষয়ে আরও বলেন, “বাংলাদেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রতি চলমান বৈষম্য এবং অত্যাচার শুধু বাংলাদেশের অভ্যন্তরে সীমাবদ্ধ নয়, এটি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার প্রশ্নে গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। ইসরায়েল সরকার এই ব্যাপারে বাংলাদেশ সরকারকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের চাপে আনতে সহায়তা করবে।”
শোশানি বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতন ও বৈষম্যের এই পরিস্থিতির বিরুদ্ধে বিশ্বের অন্যান্য দেশগুলোর তৎপরতা এবং সহানুভূতির প্রতি আরও গুরুত্বারোপ করেন। তার মতে, আন্তর্জাতিকভাবে একত্রিত হয়ে বাংলাদেশের সংখ্যালঘুদের অধিকার রক্ষায় সোচ্চার হতে হবে। তিনি ভারতসহ অন্যান্য দেশগুলোর নেতৃবৃন্দকে এই বিষয়ে আরও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে আহ্বান জানান।
এই ঘটনাটি বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে আরও জটিলতা সৃষ্টি করেছে, বিশেষত যখন আন্তর্জাতিক মহল থেকে এই ধরনের নিন্দা ও সমর্থন প্রদর্শিত হচ্ছে। ভারতীয় মিডিয়ায় এ ধরনের প্রতিবেদন এবং আন্তর্জাতিক সহানুভূতির বিষয়টি বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন এক বিতর্ক উত্থাপন করেছে, যেখানে বাংলাদেশের সরকারের মানবাধিকার পরিস্থিতি এবং সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তার ব্যাপারে প্রশ্ন উঠেছে।
বাংলাদেশে হিন্দু সম্প্রদায় দীর্ঘদিন ধরেই নানা ধরনের সংকটে রয়েছে, তবে সাম্প্রতিক সময়ে তাদের উপর শারীরিক নির্যাতন, ধর্মীয় স্থান ও উপাসনালয়ে হামলার ঘটনা বেড়েছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের চোখে এটি একটি বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে এবং এর প্রতিবাদে বিশ্বের বিভিন্ন জায়গায় সেমিনার, সেশন এবং কর্মসূচি আয়োজন করা হয়েছে।
এরই মধ্যে ইসরায়েলি কনসাল জেনারেল কোব্বি শোশানি তার বক্তব্যে এই নির্যাতনের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছেন এবং বাংলাদেশের হিন্দু সম্প্রদায়ের জন্য আন্তর্জাতিক সমর্থন নিশ্চিত করতে আগ্রহী হয়েছেন। তিনি তার বক্তব্যের মাধ্যমে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিয়েছেন, যা ইসরায়েলের এবং ভারতের সম্পর্কের দৃষ্টিতে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।
এই ধরনের আন্তর্জাতিক সমর্থন ও প্রতিবাদ বাংলাদেশের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে, কারণ তা আন্তর্জাতিক মহলে একটি দৃশ্যমান চাপ সৃষ্টি করবে। তবে, বাংলাদেশের সরকারের তরফ থেকে এ বিষয়ে কী পদক্ষেপ নেওয়া হবে তা সময়ের সঙ্গে সঙ্গেই জানা যাবে।