বাংলাদেশি শিল্পীদের বয়কটের ডাক কলকাতায়
Categories:

বিজেপি নেতা ও রাজ্যসভার সংসদ সদস্য শমীক ভট্টাচার্য সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশি মুসলিম শিল্পীদের পশ্চিমবঙ্গে কাজ বয়কটের ডাক দিয়েছেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের হিন্দু নির্যাতনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ না করলে তাদের এখানে সিনেমা করা উচিত নয়। জয়া আহসান ও চঞ্চল চৌধুরীসহ ওপার বাংলার শিল্পীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, হিন্দু নির্যাতনের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করা আবশ্যক। টালিপাড়ার প্রভাবশালী নেতা অরূপ বিশ্বাসকেও তিনি বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখার অনুরোধ করেছেন। শমীক বলেন, ধর্মের মোড়কে কোনো শিল্পীকে বিচ্ছিন্ন করতে চান না, তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রতিবাদই সঠিক সিদ্ধান্ত।
কলকাতা, ১৬ ডিসেম্বর, ২০২৪: ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) নেতা ও রাজ্যসভার সংসদ সদস্য শমীক ভট্টাচার্য সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশি মুসলিম শিল্পীদের বয়কটের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশে হিন্দু নির্যাতনের বিরুদ্ধে সরব না হলে এসব শিল্পীর পশ্চিমবঙ্গে কাজ করা উচিত নয়। শমীক ভট্টাচার্য মন্তব্য করেন, “কোনো শিল্পীসত্তা বা প্রতিভাকে আমরা ধর্ম বা উপাসনার মোড়কে সীমাবদ্ধ করতে চাই না। তবে বর্তমানে ওপার বাংলার মুসলিম শিল্পীদের উচিত হিন্দু নির্যাতনের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করা। তার আগে তাদের কাজের অনুমতি দেওয়া উচিত নয়।”
জয়া আহসান, চঞ্চল চৌধুরীসহ বাংলাদেশের প্রখ্যাত অভিনেতাদের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “জয়া আহসান কেন কলকাতায় থাকবেন না? অবশ্যই তিনি এখানে কাজ করতে পারেন। কিন্তু তিনি যদি ওপার বাংলার হিন্দু নির্যাতনের বিরুদ্ধে কোনো কথা না বলেন, তবে তা গ্রহণযোগ্য নয়। তার ওপার বাংলাতেও হিন্দু দর্শক রয়েছে। তাই তাকে এই বিষয়টি নিয়ে স্পষ্ট অবস্থান নিতে হবে।”
শমীক ভট্টাচার্য আরও বলেন, “চঞ্চল চৌধুরী আজ গৃহবন্দি। তার মতো প্রতিভাবান শিল্পীরা ওপার বাংলায় নিপীড়নের শিকার হচ্ছেন। কিন্তু এপারে এসে যদি তারা মুখ বন্ধ রাখেন, তবে সেটা ঠিক নয়। বাংলাদেশের অন্যান্য অভিনেতা-অভিনেত্রীদের বিষয়েও একই নীতি প্রযোজ্য।”
কলকাতার টালিপাড়ার প্রসঙ্গেও শমীক সরব হন। তিনি বলেন, “টালিপাড়ার দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের উচিত বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা। অরূপ বিশ্বাস তো ওপার বাংলার মানুষ, টালিউডের অনেক কিছু তার নিয়ন্ত্রণে। শুধু খেলাধুলার বিষয় নয়, টালিউডের শিল্পী ও চলচ্চিত্রের ওপরও তার দায়িত্ব থাকা উচিত। যাঁরা ওপারে অত্যাচার করেন, তাঁরা এপারে এসে সিনেমা করবেন এবং প্রতিবাদ করবেন না, এটা হতে পারে না। প্রসেনজিতের মতো প্রখ্যাত অভিনেতা বা গৌতম ঘোষের মতো পরিচালককে এমন পরিস্থিতিতে সোচ্চার হতে হবে।”
তিনি উল্লেখ করেন যে, “এ ধরনের নিষেধাজ্ঞা শুধুমাত্র একটি বার্তা দেওয়ার জন্য। বাংলাদেশের হিন্দুদের ওপর চলমান অত্যাচার অমানবিক এবং নিন্দনীয়। ওপার বাংলার শিল্পীরা যদি এই ইস্যুতে নীরব থাকেন, তবে তাদের কাজ বর্জন করা উচিত।”
এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “ধর্মের ভিত্তিতে আমরা কখনোই শিল্পীদের বিচার করি না। কিন্তু বাংলাদেশের সংখ্যালঘু হিন্দুদের নিরাপত্তার বিষয়টি নিয়ে এখন সবাইকে সরব হতে হবে। এটি মানবাধিকারের প্রশ্ন এবং এটি উপেক্ষা করা যায় না।”
শমীক ভট্টাচার্য তার বক্তব্যে বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের প্রতি সহিংসতার ঘটনাগুলোরও বিস্তারিত তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “ধর্মীয় নির্যাতন ও অত্যাচারের ঘটনা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করছে। এমন অবস্থায় ওপার বাংলার শিল্পীদেরও দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে। তাদের উচিত হবে নির্যাতনের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে বক্তব্য রাখা এবং সংখ্যালঘুদের পাশে দাঁড়ানো।”
বাংলাদেশি শিল্পীদের পশ্চিমবঙ্গে কাজ করা নিয়ে বিতর্ক নতুন নয়। তবে শমীক ভট্টাচার্যের এই মন্তব্য পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। তার মতে, ওপার বাংলার শিল্পীরা পশ্চিমবঙ্গে কাজ চালিয়ে যেতে চাইলে তাদের ওপারের ধর্মীয় সহিংসতার বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে অবস্থান নিতে হবে। তার বক্তব্যে রাজনৈতিক এবং সামাজিক অঙ্গনে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।
এই বিতর্কে টালিউডের প্রভাবশালী ব্যক্তিরা কী অবস্থান নেন এবং ওপার বাংলার শিল্পীরা কী প্রতিক্রিয়া জানান, সেটাই এখন দেখার বিষয়। তবে শমীক ভট্টাচার্যের বক্তব্য যে ভারত-বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়কে প্রভাবিত করতে পারে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।
তারিখ: ১৭.১২.২০২৪