প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর লোকসভায় বাংলাদেশ ইস্যুতে বক্তব্য, দাবি পদক্ষেপের

লোকসভায় বিজয় দিবস স্মরণে প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নিপীড়ন বন্ধে ভারতের হস্তক্ষেপের দাবি তুলেছেন। তিনি ইন্দিরা গান্ধীর নেতৃত্বে ১৯৭১-এর ভূমিকার প্রশংসা করেন এবং বর্তমান প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তায় সমালোচনা করেন।
প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর লোকসভায় বাংলাদেশ ইস্যুতে বক্তব্য, দাবি পদক্ষেপের

বিজয় দিবস স্মরণে লোকসভায় দাঁড়িয়ে সাংসদ প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে ভারতের ঐতিহাসিক ভূমিকার প্রশংসা করেন। তিনি ইন্দিরা গান্ধীর নেতৃত্বে ভারতীয় সেনা ও সাধারণ মানুষের অবদানের কথা উল্লেখ করেন। প্রিয়াঙ্কা বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নিপীড়নের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে ভারতের হস্তক্ষেপের দাবি তোলেন। তিনি ভারত সরকারকে বর্তমান প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করে সমস্যার সমাধান করতে আহ্বান জানান। বাংলাদেশে কট্টরপন্থীদের হিংসা বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বিজয় দিবস ভাষণে বিষয়টি উল্লেখ না করায় প্রশ্নও তোলেন প্রিয়াঙ্কা।

নয়াদিল্লি, ১৬ ডিসেম্বর, ২০২৪: লোকসভায় বিজয় দিবস উপলক্ষে দাঁড়িয়ে প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে ভারতের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা স্মরণ করেন। তিনি জানান, সেই ঐতিহাসিক বিজয় সম্ভব হয়েছিল ভারতীয় সেনাদের অসীম সাহসিকতা ও দেশের মানুষের অঙ্গীকারের জন্য। বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনে ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর সাহসী নেতৃত্বের প্রশংসা করেন তিনি। তাঁর মতে, যখন বিশ্ব নীরব ছিল, তখন ইন্দিরা গান্ধীর নেতৃত্বে ভারত বাংলাদেশকে রক্ষা করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল।

প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, আজকের বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতন বেড়েই চলেছে। হিন্দু, খ্রিস্টান, ও অন্যান্য সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষরা কট্টরপন্থীদের আক্রমণের শিকার হচ্ছেন। এই অবস্থায় ভারত সরকারকে অবিলম্বে হস্তক্ষেপ করার এবং বাংলাদেশের প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করে সংখ্যালঘু নিপীড়ন বন্ধে পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

প্রিয়াঙ্কা আরও বলেন, ১৯৭১ সালে ভারতীয় সেনার কাছে পাকিস্তানি বাহিনীর আত্মসমর্পণের সেই ঐতিহাসিক ছবিটি আজকের বাংলাদেশে অবহেলিত। তিনি বলেন, এই ছবি সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, যা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। বাংলাদেশের বর্তমান প্রশাসন বিজয় দিবসে ভারতের অবদানের উল্লেখ না করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।

অন্যদিকে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বিজয় দিবস উপলক্ষে ভাষণ দেন। তবে তাঁর ভাষণে বাংলাদেশে বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে তেমন কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। মোদী শুধু বিজয় দিবসকে ভারতের জয় হিসেবে উল্লেখ করেন। এই বিষয়ে প্রিয়াঙ্কা গান্ধী প্রশ্ন তোলেন, কেন ভারত সরকার বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের রক্ষায় আরও দৃঢ় পদক্ষেপ নিচ্ছে না।

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশের বর্তমান প্রশাসনের তদারকি প্রধানমন্ত্রী মহম্মদ ইউনুস বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানে যোগ দেন। তবে সেখানে ভারতের অবদানের বিষয়ে কিছুই উল্লেখ করেননি। প্রিয়াঙ্কা গান্ধী এই বিষয়েরও সমালোচনা করেন এবং মনে করিয়ে দেন, ভারতের জনগণ ও সেনাবাহিনীর অবদান ছাড়া ১৯৭১ সালের বাংলাদেশ স্বাধীনতা অর্জন করা সম্ভব হতো না।

বাংলাদেশ ইস্যুতে প্রিয়াঙ্কা দুটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি তোলেন। প্রথমত, ভারত সরকারকে অবিলম্বে এই বিষয়ে হস্তক্ষেপ করতে হবে। দ্বিতীয়ত, ভারতের উচিত বাংলাদেশের প্রশাসনের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা করে সংখ্যালঘু নিপীড়ন বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া। তিনি মনে করেন, এটি শুধু মানবিক দায়িত্ব নয়, বরং দুই দেশের ঐতিহাসিক সম্পর্ক রক্ষার জন্যও প্রয়োজন।

বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে ভারতের বিদেশ সচিব ইতোমধ্যেই সফর করেছেন এবং সংখ্যালঘু নিপীড়নের সমালোচনা করেছেন। তবে প্রিয়াঙ্কার মতে, এতেও পরিস্থিতির বিশেষ কোনো পরিবর্তন আসেনি। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভারত সরকার দ্রুত এই বিষয়ে কঠোর পদক্ষেপ নেবে।

লোকসভায় দাঁড়িয়ে প্রিয়াঙ্কা বলেন, বিজয় দিবস শুধুমাত্র বাংলাদেশের নয়, এটি ভারত এবং বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয়। এই দিনটি আমাদের স্মরণ করায়, দুই দেশের জনগণের মধ্যকার গভীর সম্পর্ক এবং ঐক্যের কথা। তিনি আশা করেন, ভবিষ্যতে ভারত এবং বাংলাদেশ একসঙ্গে কাজ করে এই সম্পর্ক আরও মজবুত করবে।

তারিখ: ১৭.১২.২০২৪