বাংলাদেশে হিন্দু নির্যাতন চলছেই, এপার বাংলায় প্রতিবাদ মিছিল
Categories:

বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দুদের উপর নির্যাতন ক্রমশ ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। মন্দিরে ভাঙচুর, বাড়িঘরে আগুন, এবং সনাতনী নেতাদের উপর ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলার খবর উঠে এসেছে। ভয়েস অফ বাংলাদেশি হিন্দুজের দাবি, কক্সবাজারের জয়দেব নন্দীর উপর কট্টরপন্থীরা হামলা চালিয়েছে। এছাড়া চট্টগ্রামে এক বেকারির মালিকের বাড়িতে আগুন লাগানোর অভিযোগ উঠেছে। ওপার বাংলার হিন্দু নারীদের ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং জীবনযাপন নিয়েও গুরুতর সমস্যা দেখা দিচ্ছে। এদিকে, এপার বাংলার বনগাঁ ও নীলগঞ্জে প্রতিবাদ মিছিল হয়েছে। বিধায়ক স্বপন মজুমদার ও অসীম সরকার মিছিলে উপস্থিত ছিলেন। এই নির্যাতনের শেষ কোথায় তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।(সূত্রঃ এবিপি লাইভ)
কলকাতা, ১৬ ডিসেম্বর, ২০২৪: বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দুদের উপর হামলা ও নির্যাতনের ঘটনা অব্যাহত রয়েছে। বিশেষত, ইউনুস সরকার ক্ষমতায় আসার পর পরিস্থিতি আরও গুরুতর হয়েছে। মন্দির ভাঙচুর, হিন্দুদের বাড়ি-দোকান জ্বালিয়ে দেওয়া এবং ধর্মীয় বিশ্বাসের উপর আঘাত করার ঘটনা একের পর এক উঠে আসছে। ওপার বাংলার হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ এখন ভয় আর আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।
মছলন্দপুরের সাধনা দে ও রিনা দাস, যাঁরা ব্যবসার কাজে বাংলাদেশে গিয়েছিলেন, তাঁদের অভিজ্ঞতা ছিল ভয়ঙ্কর। রিনাদেবী জানিয়েছেন, কীভাবে হিন্দু নারীদের উপর চাপ সৃষ্টি করে তাদের ধর্মান্তরিত করার চেষ্টা চলছে। তিনি অভিযোগ করেন, হিন্দু নারীদের সিঁদুর পরার স্বাধীনতা পর্যন্ত নেই। অনেক ক্ষেত্রে ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে হেনস্থা ও নির্যাতনের শিকার হতে হচ্ছে।
মাদারিপুরের বাসিন্দা লিপিকা বিশ্বাস আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছেন। তিনি জানান, ধর্মীয় প্রতীক কণ্ঠি ধারণ করায় তাঁর কণ্ঠি ছিঁড়ে ফেলা হয়েছে। এমনকি, সন্ন্যাসী চিন্ময়কৃষ্ণ দাস বিনা বিচারে দিনের পর দিন জেলে আটকে রয়েছেন। তাঁর আইনজীবীরাও হামলার শিকার হয়েছেন। বাংলাদেশে কট্টরপন্থীদের অত্যাচারের হাত থেকে রেহাই পাচ্ছেন না সাংবাদিক, অধ্যাপক বা সাধারণ ইসকন ভক্তরাও।
ভয়েস অফ বাংলাদেশি হিন্দুজের তরফে কক্সবাজারে সনাতনী জাগরণ জোটের সদস্য জয়দেব নন্দীর উপর ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলার ঘটনা প্রকাশ্যে আনা হয়েছে। তাঁদের দাবি, কট্টরপন্থী মৌলবাদীরা নৃশংসভাবে জয়দেব নন্দীর উপর হামলা চালিয়েছে। চট্টগ্রামে এক বেকারির মালিকের বাড়িতে আগুন লাগানোর ঘটনাও আলোচিত হয়েছে। সোশাল মিডিয়ায় পোস্ট করা ছবিগুলো এই ঘটনাগুলোর ভয়াবহতা তুলে ধরে।
বাংলাদেশের সংখ্যালঘু হিন্দুদের এই করুণ অবস্থায় প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে এপার বাংলায়। রবিবার বনগাঁর নহাটায় সনাতনী সম্প্রদায় মিছিল করেছে। মিছিলে অংশ নেন বনগাঁ দক্ষিণের বিধায়ক স্বপন মজুমদার ও হরিণঘাটার বিধায়ক অসীম সরকার। মতুয়া সম্প্রদায়ও নীলগঞ্জে প্রতিবাদ মিছিলে সামিল হয়। তাঁদের দাবি, বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দুদের নিরাপত্তা ও ধর্মীয় স্বাধীনতা রক্ষায় অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
বাংলাদেশের সংখ্যালঘু হিন্দুদের উপর এই লাগাতার নির্যাতনের শেষ কোথায়, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। ওপার বাংলার অনেক হিন্দু ভারতের দিকে তাকিয়ে রয়েছেন। তাঁদের আশা, ভারত সরকার এই বিষয়ে আরও জোরালো ভূমিকা নেবে। অন্যদিকে, বাংলাদেশ সরকারের তরফে এই নির্যাতন রোধে কোনও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলেই অভিযোগ উঠেছে।
এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ঐতিহাসিক সম্পর্কের ভিত্তি নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে ভারত যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিল, তা আজও স্মরণীয়। কিন্তু বর্তমান প্রেক্ষাপটে সেই সম্পর্ক কতটা অটুট থাকবে, তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। সংখ্যালঘু হিন্দুদের অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।
তারিখ: ১৭.১২.২০২৪