সীমান্তের ওপারে হিন্দু নির্যাতন অব্যাহত, ফের প্রতিবাদ মিছিলে মুখরিত কলকাতা

কলকাতায় হিন্দু নির্যাতনের প্রতিবাদে শিয়ালদহ থেকে মিছিল শুরু হয়। মিছিলে অংশগ্রহণ করেন সাধু-সন্তরা এবং স্লোগান ওঠে “জয় শ্রীরাম” ও “ইউনুসের গালে গালে”। একই সময়ে বিএনপির “কলকাতা দখলে” হুমকির কটাক্ষও করা হয়। যানজটের সৃষ্টি হয় কলকাতায়।
সীমান্তের ওপারে হিন্দু নির্যাতন অব্যাহত, ফের প্রতিবাদ মিছিলে মুখরিত কলকাতা

কলকাতায় হিন্দু নির্যাতনের প্রতিবাদে আজ দুপুরে শিয়ালদহ থেকে মিছিল শুরু হয়। আম নাগরিকদের পাশাপাশি মিছিলে অংশ নেন সাধু-সন্তরাও। তারা হাতে গেরুয়া ধ্বজা এবং মুখে “জয় শ্রীরাম” স্লোগান উচ্চারণ করেন। মিছিল হাওড়া ব্রিজে পৌঁছানোর পর “জুতো মারো তালে তালে, ইউনুসের গালে গালে” স্লোগান ওঠে। বিএনপির কলকাতা দখলের হুমকির প্রতিবাদ জানিয়ে এক আন্দোলনকারী বলেন, “চারদিনের মধ্যে কলকাতা দখল করবে বলেছিল, কোথায় গেল? ভয়ে পেয়ে গেছে নাকি?” এ মিছিলে কলকাতায় ব্যাপক যানজট সৃষ্টি হয়, ফলে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বেড়ে যায়।

কলকাতা, ১৬ ডিসেম্বর, ২০২৪: আজ দুপুরে কলকাতার শিয়ালদহ থেকে শুরু হয় এক বিশাল প্রতিবাদ মিছিল। এই মিছিলে বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ অংশ নেন, যেখানে সাধু-সন্তরাও উপস্থিত ছিলেন। তাদের হাতে গেরুয়া ধ্বজা ছিল এবং তারা স্লোগান তুলছিলেন, “জয় শ্রীরাম”। মিছিলটি শিয়ালদহ থেকে শুরু হয়ে হাওড়া ব্রিজ পর্যন্ত পৌঁছায়। মিছিলে অংশগ্রহণকারীরা নানা ধরনের স্লোগান দেয়, যা তাদের উদ্দেশ্য এবং প্রতিবাদের বিষয়কে তুলে ধরেছিল।

মিছিলে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্লোগানগুলির মধ্যে ছিল “জুতো মারো তালে তালে, ইউনুসের গালে গালে”, যা বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপর চলমান নির্যাতনের প্রতিবাদ জানাতে দেওয়া হয়। এই স্লোগানটি বাংলাদেশের রাজনীতিবিদ ইউনুসের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ হিসেবে দেখা গেছে। এর মাধ্যমে আন্দোলনকারীরা চরম ক্ষোভ এবং বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দুদের ওপর যে নির্যাতন চলছে, তার প্রতিবাদ জানান।

এছাড়া, মিছিলে বিএনপির “কলকাতা দখলে” হুমকিরও কটাক্ষ করা হয়। এক আন্দোলনকারী বলেন, “চারদিনের মধ্যে কলকাতা দখল করবে বলেছিল, কোথায় গেল? ভয়ে পেয়ে গেছে নাকি? সীমান্তও পার করতে পারবে না, কলকাতা তো দূরে থাক।” এর মাধ্যমে আন্দোলনকারীরা বিএনপির ক্ষমতা দখলের হুমকির বিরুদ্ধে একধরণের চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেন।

বাংলাদেশে শেখ হাসিনার সরকার গদিচ্যুত হওয়ার পর থেকেই সেদেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা চলছে। এই অস্থিরতা এবং এর সঙ্গে সম্পর্কিত সহিংসতা বাংলাদেশের সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর ব্যাপক নির্যাতন এবং আক্রমণকে বাড়িয়ে তুলেছে। এমনকি আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক প্রতিবাদের পরেও, বাংলাদেশে ইসকনের সাধু চিন্ময় কৃষ্ণকে আটক করা হয়, যা আরও একবার বিশ্বব্যাপী প্রতিবাদের সঞ্চার করেছে।

কলকাতায় হওয়া এই প্রতিবাদ মিছিলও তারই অংশ হিসেবে দেখা যাচ্ছে, যেখানে সাধারণ মানুষ, ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শের লোকেরা একত্রিত হয়েছেন। তাদের দাবী, বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের ওপর যে অত্যাচার চলছে, তার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিকভাবে প্রতিবাদ জানানো এবং বাংলাদেশের সরকারকে সেই নির্যাতন বন্ধ করতে চাপ সৃষ্টি করা।

এই মিছিলের ফলে কলকাতার বিভিন্ন অঞ্চলে ব্যাপক যানজট সৃষ্টি হয়, যা সাধারণ মানুষের জন্য অনেকটা অসুবিধাজনক হয়ে দাঁড়ায়। ভোগান্তির শিকার হয় অগণিত সাধারণ মানুষ, যারা সময়মতো তাদের গন্তব্যে পৌঁছানোর চেষ্টা করছিলেন। মিছিলের কারণে কলকাতার অন্যতম ব্যস্ত সড়কগুলোতে দীর্ঘক্ষণ যানজট দেখা যায়, যা শহরের যান চলাচলে এক বড় ধরনের ব্যাঘাত সৃষ্টি করে।

এই মিছিলের আয়োজকরা মনে করেন, বাংলাদেশের রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সংখ্যালঘু নির্যাতনের প্রতিবাদ করতে হলে এমন বৃহৎ প্রতিবাদ কর্মসূচি আয়োজন করা প্রয়োজন। তারা এও দাবি করেন, যদি কেউ বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের ওপর অত্যাচার করতে থাকে, তবে তাদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করা উচিত, তাদের সহিংসতা বন্ধ করার জন্য যথাযথ পদক্ষেপ নিতে হবে।

কলকাতার এই প্রতিবাদী মিছিলের পর, বাংলাদেশের রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। প্রতিবাদীরা মনে করছেন, এমন পরিস্থিতিতে তাদের কণ্ঠস্বর আরো উচ্চকিত করতে হবে এবং প্রতিবাদ চালিয়ে যেতে হবে, যাতে সরকারের কাছে ওই অত্যাচারের বিরুদ্ধে একটা শক্তিশালী বার্তা পৌঁছানো যায়।

এই মিছিলের মাধ্যমে প্রতিবাদকারীরা যে বার্তা দিতে চেয়েছেন তা পরিষ্কার — তারা কোনো ধরনের হিংসা বা সহিংসতা সমর্থন করেন না, তবে যা কিছু অবিচার এবং নির্যাতন তা শেষ হতে হবে। কলকাতায় প্রতিবাদের এ ধরনের উদ্যোগ আরও বিভিন্ন আন্দোলনকারীদের উদ্বুদ্ধ করেছে। এই মিছিলের সাফল্য দেখিয়ে তারা আশা করছেন, ভবিষ্যতে আরো বড় আকারে এই প্রতিবাদ আন্দোলন চলবে।

তারিখ: ১৭.১২.২০২৪