সংখ্যালঘু পীড়ন চিন্তার, ইউনূসকে বার্তা আমেরিকার
Categories:

বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতনের বাড়তে থাকা ঘটনায় আমেরিকা উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। বাইডেন প্রশাসন পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারকে নিরাপত্তা পরিস্থিতি উন্নত করার পরামর্শ দিচ্ছে। ট্রাম্পের মন্তব্যও পরিস্থিতিকে আরো জটিল করেছে।
যুক্তরাষ্ট্র, ১৪ ডিসেম্বর, ২০২৪: বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় এবার উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আমেরিকা। এর আগে, ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রার্থী হিসেবে ডোনাল্ড ট্রাম্প দীপাবলির শুভেচ্ছাবার্তায় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ইউনূস সরকারের আমলে সংখ্যালঘু হিন্দু, বৌদ্ধ এবং খ্রিস্টানদের ওপর নির্যাতন নিয়ে মন্তব্য করেন। তিনি অভিযোগ করেন যে, ইউনূস সরকারের অধীনে বাংলাদেশের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর অত্যাচারের ঘটনা বাড়ছে এবং এটি বাইডেন সরকারের ব্যর্থতার একটি দৃষ্টান্ত। তবে, ট্রাম্প নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পরে, কূটনীতিকদের ধারণা, তিনি ২০ জানুয়ারি ক্ষমতায় আসলে বাংলাদেশের প্রতি আমেরিকার নীতি পরিবর্তন হতে পারে। এর আগেই শুক্রবার, আমেরিকার বিদেশ মন্ত্রকের সাংবাদিক বৈঠকে উপস্থিত জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের স্ট্র্যাটেজিক কমিউনিকেশন কোঅর্ডিনেটর জন কার্বি জানিয়েছেন, “আমরা বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের পরিস্থিতি খুব, খুব নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছি। প্রেসিডেন্ট বাইডেনও এই বিষয়ে গভীরভাবে নজর দিচ্ছেন।”
কার্বি আরও জানান, বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর দেশটির নিরাপত্তা পরিস্থিতি অত্যন্ত সংকটাপন্ন হয়ে উঠেছে এবং এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং নিরাপত্তা বাহিনীগুলোর দক্ষতা বাড়ানোর জন্য আমেরিকা বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে কাজ করছে। তিনি বলেন, “আমরা স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছি যে, বাংলাদেশের ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।” এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের নেতারা সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
বাংলাদেশের ইউনূস সরকারের মুখপাত্রেরা তাদের আমলে সংখ্যালঘু নির্যাতনের ঘটনার কথা অস্বীকার করে দাবি করেন যে, “এগুলো ভারতের অপপ্রচার।” তাদের যুক্তি ছিল, “ধর্মীয় কারণে নয়, রাজনৈতিক কারণে সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা হচ্ছে। তারা আওয়ামী লীগের সমর্থক হওয়ায় আক্রমণের শিকার হচ্ছে।” তবে, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নেতাদের পাল্টা প্রশ্ন ছিল, “যদি ধর্মীয় কারণে হামলা না হয়, তবে ইউনূস কি হামলাকারীদের প্রশ্রয় দিচ্ছেন না?”
বাংলাদেশের শহিদ বুদ্ধিজীবী দিবসের অনুষ্ঠান নিয়ে এক বিতর্কও তৈরি হয়েছে। আগামী ১৬ ডিসেম্বর শহিদ বুদ্ধিজীবী দিবস পালিত হবে। ওই দিন পাকিস্তানি সেনারা ঢাকায় স্বাধীনতাপন্থী শিক্ষাবিদ, সাংবাদিক, চিকিৎসক, বিজ্ঞানী, আইনজীবী, শিল্পী, দার্শনিক ও রাজনৈতিক চিন্তাবিদদের হত্যা করেছিল। তাদের বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে গুম করা হয়েছিল। এর উদ্দেশ্য ছিল বাঙালিদের মেধাশূন্য করা। বাংলাদেশের জামায়াতে ইসলামের নেতা শফিকুর রহমান এ বার জামায়াত কর্মীদের যথাযোগ্য মর্যাদায় ‘শহিদ বুদ্ধিজীবী দিবস’ এবং ‘বিজয় দিবস’ পালনের পরামর্শ দিয়েছেন।
এ বছর বিজয় দিবসের উদযাপন নিয়ে নানা বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। ইউনূস সরকার এই বছর সেনাদের কুচকাওয়াজ এবং শোভাযাত্রা বাদ দিয়েছে, তবে সব স্কুল-কলেজে দিবসটি পালনের নির্দেশ দিয়েছে। কিন্তু, বিজয় দিবসের সরকারি পোস্টার এবং ফেস্টুনে মুক্তিযুদ্ধের বদলে হাসিনা-বিরোধী আন্দোলনের ছবি দেখা যাচ্ছে। একটি ফেস্টুনে ‘বিজয় দিবস’ লেখার নীচে দু’হাত ছড়ানো আবু সাইদের ছবি রয়েছে, যাকে পুলিশ গুলিতে হত্যা করা হয়েছিল বলে দাবি করা হয়। তবে, ময়না তদন্তের রিপোর্টে বলা হয়েছে, আবু সাইদ গুলিতে নয়, মাথায় রহস্যজনক আঘাতের কারণে মারা গেছেন।
এছাড়া, ইউনূস সরকারের পক্ষ থেকে বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতনের বিষয়টি ভারতের অপপ্রচার বলে দাবী করা হলেও, পররাষ্ট্র মন্ত্রকের বক্তব্যে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়টি আমেরিকার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমেরিকার বাইডেন প্রশাসন বাংলাদেশের সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে আলোচনা করছে এবং তাদের লক্ষ্য হচ্ছে, বাংলাদেশের শান্তি এবং স্থিতিশীলতা বজায় রাখা।
এদিকে, ট্রাম্পের আমেরিকার ক্ষমতায় আসার সম্ভাবনার মধ্যে, কূটনীতিকদের ধারণা, বাংলাদেশ-আমেরিকা সম্পর্কের নীতি পরিবর্তন হতে পারে। আমেরিকার তৎকালীন প্রশাসন আরও বেশি নজর দিতে পারে বাংলাদেশের সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার ঘটনাগুলির প্রতি এবং এই সম্পর্ক আরও কঠোর হতে পারে।
এছাড়া, ট্রাম্পের মন্তব্যের পর, বাইডেন প্রশাসনও তাদের উদ্বেগ স্পষ্ট করেছে এবং বাংলাদেশের পরিস্থিতির প্রতি তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। তাদের মতে, বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি এমন যে, সেখানকার সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।
তারিখ: ১৪.১২.২০২৪