সুনামগঞ্জে হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর হামলার ঘটনায় চারজন গ্রেপ্তার

সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজারে ধর্ম অবমাননার ঘটনায় হিন্দুদের বাড়ি, দোকান ও মন্দির ভাঙচুরের ঘটনায় ১৪ ডিসেম্বর চারজন গ্রেপ্তার হয়েছে। ৩ ডিসেম্বর আকাশ দাসের বিতর্কিত পোস্টের কারণে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পুলিশ ১২ জনের নামসহ ১৫০-১৭০ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে।
সুনামগঞ্জে হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর হামলার ঘটনায় চারজন গ্রেপ্তার

সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজারে ধর্ম অবমাননার ঘটনায় হিন্দুদের বাড়ি, দোকান ও মন্দির ভাঙচুরের ঘটনায় ১৪ ডিসেম্বর চারজন গ্রেপ্তার হয়েছে। ৩ ডিসেম্বর আকাশ দাসের বিতর্কিত পোস্টের কারণে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পুলিশ ১২ জনের নামসহ ১৫০-১৭০ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে।

ঢাকা, ১৪ ডিসেম্বর, ২০২৪: চলতি মাসের শুরুর দিকে সুনামগঞ্জ জেলার দোয়ারাবাজার এলাকার মংলারগাঁও গ্রামে ধর্ম অবমাননার একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের বসতবাড়ি, দোকানপাট ও লোকনাথ মন্দিরে ভাঙচুর ও ক্ষতিসাধনের ঘটনা ঘটে। ৩ ডিসেম্বর আকাশ দাস নামের এক যুবক তার ফেসবুক আইডি থেকে ইসলাম ধর্মকে কটাক্ষ করে একটি অবমাননাকর পোস্ট দেয়, যা দ্রুত সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। যদিও পোস্টটি ডিলিট করা হয়, তবে এর স্ক্রিনশট ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।

পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এ ঘটনার পর দোয়ারাবাজার থানার পুলিশ আকাশ দাসকে আটক করে, তবে স্থানীয়রা পুলিশের কাছ থেকে তাকে ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা করে। পরিস্থিতি শান্ত রাখতে এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আকাশ দাসকে দোয়ারাবাজার থানায় না নিয়ে সদর থানায় নিয়ে আসা হয়। পুলিশ ঘটনাটি জানার পর দ্রুত ব্যবস্থা নেয় এবং পুলিশের উপস্থিতি, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, সেনাবাহিনীর সদস্যদের সহযোগিতায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।

এ ঘটনার পর পুলিশ তদন্ত শুরু করে এবং সংশ্লিষ্টদের চিহ্নিত করার জন্য কাজ শুরু করে। ১৪ ডিসেম্বর পুলিশ জানায়, এ ঘটনায় মোট ১২ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ১৫০-১৭০ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ ইতোমধ্যে ৪ জনকে গ্রেপ্তার করেছে—তারা হলেন আলীম হোসেন (১৯), সুলতান আহমেদ রাজু (২০), ইমরান হোসেন (৩১) এবং শাজাহান হোসেন (২০)। পুলিশের দাবি, এ ঘটনার সঙ্গে আরও অনেকেই জড়িত রয়েছে এবং তাদের চিহ্নিত করে গ্রেপ্তার করা হবে।

পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনা সম্পর্কে পুরোপুরি তদন্ত শেষ হওয়ার আগে আরও বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হবে। সুনামগঞ্জ জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি যাতে অক্ষুণ্ণ থাকে এবং এমন ঘটনা যেন আর না ঘটে, তা নিশ্চিত করতে পুলিশ তার কার্যক্রম চালিয়ে যাবে।

এদিকে, স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে এবং এ ধরনের সহিংস ঘটনার বিরুদ্ধে আরও শক্ত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে। বিশেষ করে মন্দির ও ধর্মীয় স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা জোরদারের প্রতি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় নেতারা জানিয়েছেন, এমন ঘটনা কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না এবং এলাকার শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে প্রশাসনকে আরও সতর্ক থাকতে হবে।

এ ঘটনায় সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার জন্য পদক্ষেপ নেন। পুলিশ জানায়, তারা এই ঘটনার পেছনে থাকা মূল অপরাধীদের শনাক্ত করার চেষ্টা করছে এবং সুনামগঞ্জসহ আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।

এ ঘটনায় এলাকার জনগণের মধ্যে ক্ষোভ এবং আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লেও, পুলিশ প্রশাসন আশ্বাস দিয়েছে যে পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আসবে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এখনও পর্যন্ত এ ঘটনায় চারজন গ্রেপ্তার হলেও, পুলিশের তদন্ত চলছে এবং আরও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এছাড়া, কর্তৃপক্ষ এই ধরনের ধর্মীয় উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে আরও কার্যকর পদক্ষেপ নেবে বলে জানানো হয়েছে।

তারিখ: ১৪.১২.২০২৪