বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিয়ে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর উদ্বেগ প্রকাশ

ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের ওপর আক্রমণ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি সংসদে বলেন, বাংলাদেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর হামলার ঘটনা ভারতের জন্য উদ্বেগের বিষয়। ভারত আশা করে, বাংলাদেশ সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিয়ে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর উদ্বেগ প্রকাশ

ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের ওপর আক্রমণ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি সংসদে বলেন, বাংলাদেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর হামলার ঘটনা ভারতের জন্য উদ্বেগের বিষয়। ভারত আশা করে, বাংলাদেশ সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে।

ঢাকা, ১৩ ডিসেম্বর, ২০২৪: ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর গত শুক্রবার বাংলাদেশের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়, বিশেষ করে হিন্দুদের ওপর হামলার বিষয় নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রীর মতে, বাংলাদেশের সংখ্যালঘুদের প্রতি আচরণ গত কিছু সময়ে ভারতের জন্য উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি সংসদে এক প্রশ্নোত্তর পর্বে এ উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং এ বিষয়ে ভারতের অবস্থান পরিষ্কার করেন।

লোকসভার সদস্য আসাদউদ্দিন ওয়াইসির প্রশ্নের জবাবে, জয়শঙ্কর বলেন, “বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের ওপর আক্রমণ একাধিকবার ঘটেছে, যা আমাদের উদ্বেগের কারণ। আমরা তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছি। সম্প্রতি আমাদের পররাষ্ট্র সচিব ঢাকা সফর করেছেন, সেখানেও এই বিষয়টি উত্থাপিত হয়েছে।” তিনি আরও বলেন, ভারত আশা করে, বাংলাদেশ নিজস্ব স্বার্থে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যবস্থা নেবে।

ওয়াইসি সংসদে প্রশ্ন করেন, “আমরা বাংলাদেশে ১০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ভারত সরকার কী পদক্ষেপ নিচ্ছে যাতে বাংলাদেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের এবং মন্দিরগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়?” এই প্রশ্নের জবাবে, জয়শঙ্কর বলেন, “ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক একটি দীর্ঘস্থায়ী, পারস্পরিক উপকারী সম্পর্ক হিসেবে গড়ে উঠবে বলে আমরা আশা করি। বর্তমান বাংলাদেশ সরকারও এ বিষয়টির প্রতি গুরুত্ব দিচ্ছে এবং তারা সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে বলে আশ্বস্ত করেছে।”

ভারতের পররাষ্ট্র সচিব বিক্রম মিশ্রি ঢাকা সফরকালে, তিনি বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে আলোচনা করেছেন এবং সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার ঘটনার প্রতি ভারতের উদ্বেগের কথা তুলে ধরেন। মিশ্রি সাংবাদিকদের বলেন, “আমরা বাংলাদেশের সংস্কৃতি ও ধর্মীয় সম্পত্তির ওপর হামলার ঘটনাগুলো নিয়ে দুঃখ প্রকাশ করেছি। ভারত বাংলাদেশের সরকারের সঙ্গে মিলিতভাবে কাজ করতে আগ্রহী।” তিনি আরও বলেন, “ভারত এই আশাবাদ ব্যক্ত করছে যে বাংলাদেশ ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের প্রতি একটি ইতিবাচক, নির্মাণমূলক এবং পারস্পরিক সুবিধাজনক দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করবে।”

ভারতের পররাষ্ট্র সচিব তার সফরের সময় বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি এবং সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা নিয়ে বাংলাদেশের সরকারের অবস্থান জানাতে চেয়েছিলেন। তিনি মন্ত্রীপরিষদে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে জানান, বাংলাদেশ সরকার হামলাকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। “এটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এবং আমরা আশা করি যে, বাংলাদেশের নতুন প্রশাসন দেশের জনগণের স্বার্থে সহিংসতা রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেবে,” বলেন মিশ্রি।

এছাড়া, মিশ্রি জানিয়েছেন যে বাংলাদেশে ভারতের বিনিয়োগ এবং সংযোগ প্রকল্পগুলোর মধ্যে ভালো সম্পর্ক রয়েছে। তিনি বাংলাদেশকে দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতের প্রধান বাণিজ্যিক অংশীদার হিসেবে উল্লেখ করেন এবং দুই দেশের মধ্যে রেলপথ, বাস সার্ভিস এবং অভ্যন্তরীণ জলপথের সংযোগের উন্নতি হয়েছে বলে জানান। তবে, বাংলাদেশ-ভারত মধ্যে যাত্রীবাহী রেল পরিষেবা এখনো বন্ধ রয়েছে।

ভারতের পররাষ্ট্র সচিব এও জানান, “বাংলাদেশের সহিংসতার বিষয়টি নিয়ে আমাদের উদ্বেগ প্রকাশের পাশাপাশি, আমরা দেখতে পাচ্ছি যে বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের ওপর আক্রমণের ঘটনাগুলি বেশ কিছুবার ঘটেছে, এবং আমাদের আশা যে বাংলাদেশ সরকার এই সহিংসতা রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেবে।” তিনি আরও যোগ করেন, ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের ভবিষ্যত সম্পর্কে উভয় পক্ষের উদ্বেগের বিষয়গুলো মিটমাট হয়েছে এবং সম্পর্কের উন্নতি হয়েছে।

এদিকে, মিশ্রি জানান, “বাংলাদেশের একাধিক সন্ত্রাসী যাদের বিরুদ্ধে ভারত বিরোধী বক্তব্য রয়েছে, তারা জামিনে মুক্তি পেয়েছে, এটি ভারতের জন্য গভীর উদ্বেগের বিষয়।” তিনি জানান, ভারত বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের কাছে এ বিষয়ে কথা বলেছে এবং সন্ত্রাসী কার্যকলাপের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আহ্বান জানানো হয়েছে।

বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে প্রচারিত ‘ভুল তথ্য’ এবং ঘটনার ‘অতিরঞ্জন’ বিষয়ে উদ্বেগের কথা জানানো হয়েছে। তবে, মিশ্রি জানিয়েছেন, “আমরা নিশ্চিত যে, বাংলাদেশে যে কিছু ঘটনা ঘটেছে, তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং সেই ঘটনাগুলির প্রতিকার প্রয়োজন।”

এছাড়া, মিশ্রি বলেন, ঢাকা সফরের সময় তিনি বাংলাদেশের বিদেশনীতি উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন, পররাষ্ট্র সচিব মোহাম্মদ জশিম উদ্দিন এবং প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনুসের সঙ্গে আলোচনা করেছেন এবং বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক, শান্তিপূর্ণ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের পরামর্শ দিয়েছেন।

জয়শঙ্কর ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের ভবিষ্যত নিয়ে আশাবাদী। তিনি সংসদে বলেন, “আমরা আশা করি, বাংলাদেশে নতুন প্রশাসন তার জনগণের স্বার্থে একটি স্থিতিশীল, উপকারী সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা করবে।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, ২০২৩ সালে ভারত বাংলাদেশে ১৬ লাখ ভিসা প্রদান করেছে, যা কোনো একক দেশ থেকে ভারত প্রদত্ত সর্বোচ্চ ভিসা সংখ্যা।

এছাড়া, মিশ্রি জানান, ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক উন্নত করার জন্য ভারতীয় সরকার বিভিন্ন ধরণের উদ্যোগ নিয়েছে এবং এই সম্পর্কের ভিত্তি একেবারে পারস্পরিক সম্পর্কের উপর দাঁড়িয়ে রয়েছে।

তারিখ: ১৪.১২.২০২৪