ভারতের মিডিয়ার বিরুদ্ধে বিক্ষোভ, মঞ্জুর বক্তব্যে নতুন অভিযোগ
Categories:

আমার বাংলাদেশ পার্টির সদস্যসচিব মজিবুর রহমান মঞ্জু ভারত সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে বলেন, তারা বাংলাদেশের স্বার্থ রক্ষা বা জনগণের সম্মান রক্ষা নিয়ে কখনো মনোযোগী হয়নি। তিনি দাবি করেন, ভারত আসলে আওয়ামী লীগের প্রতি মনোযোগী এবং তাদের হিন্দু প্রেম শুধুমাত্র আওয়ামী প্রেম।
ঢাকা, ১২ ডিসেম্বর, ২০২৪: আমার বাংলাদেশ পার্টির সদস্যসচিব মজিবুর রহমান মঞ্জু ১২ ডিসেম্বর, বৃহস্পতিবার ভারতের মিডিয়ায় ধারাবাহিক মিথ্যাচারের প্রতিবাদে আয়োজিত একটি বিক্ষোভ মিছিলে অংশ নিয়ে ভারত সরকারের বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন। তিনি অভিযোগ করেন, ভারত কখনো বাংলাদেশের স্বার্থ রক্ষা কিংবা জনগণের সম্মান রক্ষায় মনোযোগী হয়নি। বরং তারা আওয়ামী লীগকে ব্যবহার করে বাংলাদেশের ওপর একচ্ছত্র প্রভাব বিস্তার করতে চেয়েছে। মঞ্জু বলেন, “ভারত হিন্দু প্রেমের কথা বলে কিন্তু আসলে তাদের আসল প্রেম হলো আওয়ামী লীগ।”
মঞ্জু তার বক্তব্যে আরও বলেন, ভারত সরকার শেখ হাসিনাকে আশ্রয় দিয়ে বাংলাদেশের জনগণের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, শেখ হাসিনার শাসন আমলে বিশ্বজিতকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা করা হয়, আর বাংলাদেশের একমাত্র হিন্দু বিচারক সুরেন্দ্র কুমার সিনহাকে শারীরিকভাবে হেনস্থা করে দেশ থেকে বিতাড়িত করা হয়। তবে, মঞ্জুর দাবি, এই ঘটনায় ভারত সরকার কোনো প্রতিবাদ করেনি। তার মতে, ভারত সরকারের মুখে হিন্দু প্রেমের কথা থাকলেও, তাদের অন্তরালে আসল উদ্দেশ্য হলো আওয়ামী লীগ প্রেম।
বিক্ষোভ মিছিলে যুবপার্টির আহ্বায়ক শাহাদাতুল্লাহ টুটুলের সভাপতিত্বে এবং সদস্য সচিব হাদিউজ্জামান খোকনের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন মঞ্জু। এ সময় উপস্থিত ছিলেন এবি পার্টির যুগ্ম আহ্বায়ক লে. কর্নেল (অব.) দিদারুল আলম, ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক আলতাফ হোসাইন সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
বিক্ষোভে লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) দিদারুল আলম বলেন, “বাংলাদেশের মানুষ শান্তিপ্রিয়, তবে কারোর ইশারায় আমাদের শান্তি নষ্টের পায়তারা করা যাবে না।” তিনি আরও বলেন, “ভারত সরকার যদি মিডিয়ার নৈরাজ্যের নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হয়, তাহলে এটি হবে ভারতের সবচেয়ে বড় ব্যর্থতা।” আলমের মন্তব্যে স্পষ্ট যে, তারা ভারতীয় মিডিয়ার নৈরাজ্য এবং উস্কানির বিরুদ্ধে সোচ্চার।
এছাড়া, আলতাফ হোসাইনও ভারত সরকারের ভূমিকা নিয়ে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, “শেখ হাসিনার পতনের পর ভারত যেভাবে শেখ হাসিনার পক্ষ নিয়েছে, সেটি অত্যন্ত দুঃখজনক।” তার মতে, ভারত সরকারকে বাংলাদেশের জনগণের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করা উচিত, কোনো দলের বা ব্যক্তির সঙ্গে নয়। হোসাইন আরো বলেন, “ভারতের উচিত ছিল বাংলাদেশের জনগণের সঙ্গে সম্পর্ক করা, আওয়ামী লীগ বা শেখ হাসিনার সঙ্গে নয়।”
এছাড়া, মজিবুর রহমান মঞ্জু আরও একধাপ এগিয়ে বলেন, “ভারতীয় মিডিয়ার আগ্রাসন মোকাবিলায় আমাদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। ভারতীয় মিডিয়ার অপ্রচার ভারতকে সারা বিশ্ব থেকে আলাদা করে ফেলবে।” তিনি বাংলাদেশের ইতিহাসের অটুট হিন্দু মুসলিম ঐক্যকে তুলে ধরে বলেন, “হিন্দু মুসলিম ঐক্য বাংলাদেশের মানুষের চির ঐতিহ্য। আমরা একসঙ্গে চরছি যুগের পর যুগ। ঠুনকো অজুহাতে আমাদের ঐক্যে ফাটল ধরানো যাবে না। তারা যতবেশি অপ্রচার চালাবে, ততবেশি আমরা ঐক্যবদ্ধ হবো।”
এ সময় বিক্ষোভ মিছিলে আরও উপস্থিত ছিলেন মহানগর উত্তরের সদস্য সচিব সেলিম খান, যুগ্ম সদস্য সচিব আব্দুর রব জামিল, কেন্দ্রীয় সহকারী সদস্য সচিব আব্দুর রহমান, সফিউল বাসার, এবি যুবপার্টির দপ্তর সম্পাদক আমানুল্লাহ সরকার রাসেল, যুগ্ম সদস্য সচিব তোফাজ্জেল হোসেন রমিজ, যুবপার্টি ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক মাহমুদ আযাদ, ঢাকা মহানগর উত্তর সদস্য সচিব শাহিনুর আক্তার শীলা, যুগ্ম সদস্য রাসেদুল ইসলাম এবং পল্টন থানা আহ্বায়ক ইমরান হোসেন শিবলু প্রমুখ।
এই বিক্ষোভের মূল উদ্দেশ্য ছিল ভারতীয় মিডিয়ার দ্বারা বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ছড়ানো মিথ্যাচার এবং অপ্রচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানানো। এবি পার্টি এবং যুবপার্টির নেতারা বিভিন্ন সময়ে ভারতীয় মিডিয়ার উদ্দেশ্যপূর্ণ কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কথা বলেছেন। তাদের মতে, ভারতের মিডিয়া বাংলাদেশকে একটি অস্থিতিশীল রাষ্ট্র হিসেবে উপস্থাপন করছে এবং দেশের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির বিরুদ্ধে চক্রান্ত করছে।
এদিনের বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারী নেতারা একমত হয়ে বলেন, ভারতীয় মিডিয়ার এই আগ্রাসনকে মোকাবেলা করার জন্য বাংলাদেশের জনগণের মধ্যে ঐক্য গড়ে তুলতে হবে। তারা বলেন, “আমরা একসঙ্গে দাঁড়ালে ভারতীয় মিডিয়া তাদের উদ্দেশ্য পূরণ করতে পারবে না।” তারা আরও বলেন, “ভারত যতো বেশি মিথ্যাচার করবে, ততো বেশি আমরা একসঙ্গে দাঁড়িয়ে প্রতিরোধ গড়ে তুলব।”
এই বিক্ষোভের মধ্য দিয়ে “আমার বাংলাদেশ পার্টি” এবং যুবপার্টি তাদের অবস্থান পরিষ্কার করে দিয়েছে যে, তারা বাংলাদেশে ভারতীয় আগ্রাসন এবং রাজনৈতিক প্রভাবকে পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান করছে। এদের দাবি, ভারত যেন বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করে এবং দুই দেশের সম্পর্ক শুধুমাত্র জনগণের জন্য ভালো হয়।
এ সময় মঞ্জু বলেন, “আমরা বিশ্বাস করি যে, বাংলাদেশ এবং ভারতের সম্পর্ক গণতান্ত্রিক, সম্মানজনক এবং সমানাধিকারের ভিত্তিতে গড়ে উঠবে, তবে কোনো একটি দলের বা সরকারের সুবিধা বা প্রভাব বিস্তারের জন্য নয়।”
বিক্ষোভ শেষে মঞ্জু এবং অন্যান্য নেতারা তাদের বক্তব্যে ভারতের মিডিয়ার বিরুদ্ধে সকল কার্যকলাপ বন্ধ করার আহ্বান জানান এবং বাংলাদেশের জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে এই লড়াইয়ে অংশ নিতে উৎসাহিত করেন।
তারিখ: ১৪.১২.২০২৪