হিন্দু ‘দ্বেষে’ জ্বলছে বাংলাদেশ, হতাশ নৈহাটির ‘বড়মা’র ভক্তরা
Categories:

বড় কালীপুজো সমিতি চালু করেছে ‘জয় বড় মা’ অ্যাপ, যার মাধ্যমে দেশে এবং বিদেশে বসবাসকারী ভক্তরা পুজো দিতে পারছেন। বাংলাদেশ থেকে পুজো দেওয়া ভক্তরা বড়মার কাছে শান্তি ফিরিয়ে আনার প্রার্থনা জানাচ্ছেন। সম্প্রতি, বাংলাদেশ পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বিগ্ন পুজো সমিতি।
নৈহাটি, ১২ ডিসেম্বর, ২০২৪: বড় কালীপুজো সমিতি গত ১০১ তম বর্ষে পদার্পণ করেছে এবং সেই উপলক্ষে একটি অভিনব উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। তারা ‘জয় বড় মা’ নামের একটি অ্যাপ চালু করেছে, যার মাধ্যমে দেশ-বিদেশের ভক্তরা বাড়িতে বসেই বড়মার পুজো দিতে পারছেন। এই অ্যাপের মাধ্যমে ভক্তরা তাদের নাম, গোত্র, ঠিকানা, ফোন নম্বর এবং মনস্কামনা পূরণ করে পুজো দিতে পারবেন। অ্যাপটি চালু হওয়ার পর থেকেই ভক্তদের সংখ্যা দ্রুত বেড়েছে এবং এটি চলতি বছরে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হিসেবে দেখা যাচ্ছে।
যেহেতু এই অ্যাপের মাধ্যমে পুজো দেওয়ার সুযোগ সহজতর হয়েছে, তাই ভক্তরা শুধু রাজ্য নয়, দেশের বিভিন্ন প্রান্তসহ বিদেশ থেকেও পুজো দিচ্ছেন। বিশেষ করে, বিদেশে বসবাসরত প্রবাসী বাঙালি এবং অন্যান্য দেশের ভক্তরা এই অ্যাপের মাধ্যমে বড়মার কাছে তাদের প্রার্থনা পৌঁছে দিচ্ছেন। গত অমাবস্যা থেকেই সমিতি এই অনলাইন পুজো দেবার মাধ্যমে প্রসাদ পাঠানো শুরু করেছে। তবে, প্রসাদ পাঠানোর জন্য সমিতি খুবই কম খরচে পোস্ট অফিসের মাধ্যমে ‘ড্রাই ফ্রুট’ প্রসাদ পাঠাচ্ছে এবং সমিতি নিজেই এই খরচ বহন করছে।
এছাড়াও, সমিতির এই পুজো দেয়ার উদ্যোগে বাংলাদেশ থেকেও ভক্তরা বড়মার কাছে পুজো দিচ্ছেন। যদিও, গত কিছুদিন ধরেই বাংলাদেশে হিন্দুদের উপর মৌলবাদীদের হামলা এবং সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে সহিংসতা নিয়ে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে, এর ফলে ওপার বাংলার হিন্দুরা বিশেষভাবে চিন্তিত। এই পরিস্থিতির মধ্যে বড়মার কাছে পুজো দিয়ে তারা দেশের শান্তি ফিরিয়ে আনার প্রার্থনা জানাচ্ছেন।
বৃহস্পতিবার বড়মার মন্দিরে দান বস্ত্র বিতরণের পুজো সমিতির সম্পাদক তাপস ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, “প্রতিদিনই বাংলাদেশ থেকে ভক্তরা অ্যাপে পুজো দিয়ে লিখছেন, ‘আমরা ভালো নেই। বড়মা, দেশে শান্তি ফেরান।’ এখনও পর্যন্ত প্রায় শতাধিক পুজো এসেছে।” তিনি আরো জানিয়েছেন যে, দেশে এবং বিদেশে যারা পুজো দিচ্ছেন তাদের প্রতি সমিতির পক্ষ থেকে প্রসাদ পাঠানোর চেষ্টা করা হচ্ছে, কিন্তু বাংলাদেশ থেকে আসা পুজোদের প্রসাদ পাঠানোর ক্ষেত্রে সমস্যা হতে পারে। কারণ, বাংলাদেশে প্রসাদ পৌঁছানোর ব্যাপারে সন্দেহ রয়েছে, তবে সে বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেয়া সম্ভব হয়নি।
এই পরিস্থিতির মধ্যে, বড়মা মন্দিরে বৃহস্পতিবার এক বিশেষ বস্ত্রদান অনুষ্ঠানও অনুষ্ঠিত হয়। এখানে প্রায় আট হাজার শাড়ি বিতরণ করা হয়েছে। এর পাশাপাশি, দুর্গাপূজা ও অন্যান্য সামাজিক প্রকল্পগুলির মাধ্যমে সারা বছর প্রায় ৩৫ হাজার শাড়ি এবং প্রায় এক হাজার বেনারসি দুস্থ মেয়েদের জন্য বিতরণ করা হয়েছে। এসব কাজ চললেও, সমিতির সদস্যরা এখনো বাংলাদেশের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বিগ্ন। তারা বারবার শান্তি কামনায় প্রার্থনা করছেন।
তাদের মনে রয়েছে একটি আশা, ওপার বাংলার ভক্তদের প্রার্থনা একদিন সফল হবে এবং সেখানে শান্তি ফিরে আসবে। সমিতির সদস্যরা আশা করছেন, এই ধরণের প্রচেষ্টা আরও সবার মধ্যে একতা এবং শান্তি প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে এক নতুন দিশা দেখাবে।
অ্যাকটির মাধ্যমে শুধু ধর্মীয় অনুষ্ঠানেরই উন্নতি ঘটেনি, এটি সামাজিক কাজেও সহায়ক ভূমিকা পালন করেছে। এর মাধ্যমে একটি বৃহৎ পরিসরে নানা সামাজিক প্রকল্পের কাজ চলমান রয়েছে এবং এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে একটা ভালোবাসার সম্পর্ক গড়ে উঠেছে।
এভাবে, ‘জয় বড় মা’ অ্যাপটি শুধু ধর্মীয় উদ্দেশ্যে নয়, সামাজিক এবং মানবিক উদ্দেশ্যেও কার্যকরী হয়েছে এবং ভবিষ্যতে এর মাধ্যমে আরো বৃহত্তর পরিসরে সাহায্যের হাত বাড়ানো হবে বলে আশাবাদী সমিতির সদস্যরা।
তারিখ: ১৪.১২.২০২৪