সংখ্যালঘু-নির্যাতন রুখতে ব্যবস্থার আশ্বাস ঢাকার

ঢাকা আশ্বাস দিয়েছে, বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতনে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিদেশ সচিব বিক্রম মিস্রী জানিয়েছেন, বাংলাদেশে ৬২টি মামলা দায়ের হয়েছে এবং ৭০ জন গ্রেফতার হয়েছেন। তিনি বাংলাদেশের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যে কোনোরূপ হেরফের না করতে ভারতের মনোযোগ নিশ্চিত করেছেন।
সংখ্যালঘু-নির্যাতন রুখতে ব্যবস্থার আশ্বাস ঢাকার

ঢাকা আশ্বাস দিয়েছে, বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতনে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিদেশ সচিব বিক্রম মিস্রী জানিয়েছেন, বাংলাদেশে ৬২টি মামলা দায়ের হয়েছে এবং ৭০ জন গ্রেফতার হয়েছেন। তিনি বাংলাদেশের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যে কোনোরূপ হেরফের না করতে ভারতের মনোযোগ নিশ্চিত করেছেন।

ঢাকা, ১২ ডিসেম্বর, ২০২৪: বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতনের ঘটনায় ঢাকার পক্ষ থেকে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে, এমনটি জানালেন ভারতের বিদেশ সচিব বিক্রম মিস্রী। আজ নয়াদিল্লিতে বিদেশ মন্ত্রকের সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এই কথা বলেন মিস্রী। বৈঠকে মিস্রী জানান, বাংলাদেশ সরকার ইতিমধ্যেই বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান পরিষদের করা অভিযোগের ভিত্তিতে ৬২টি মামলা দায়ের করেছে এবং ৭০ জনকে গ্রেফতার করেছে। এর আগে, ৪ থেকে ২০ অগস্ট পর্যন্ত বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা ও হিংসার ঘটনার পর এই পদক্ষেপগুলি নেওয়া হয়েছে।

সূত্রের খবর অনুযায়ী, মিস্রী বৈঠকে বলেছেন, বাংলাদেশের পক্ষ থেকে একাধিক অভিযোগের প্রেক্ষিতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, তবে এসবের মধ্যে সাম্প্রতিক সময়ে জামিনে মুক্তি পাওয়া কিছু শাস্তিপ্রাপ্ত জঙ্গি, যারা বাংলাদেশে ভারত-বিরোধী প্রচার চালাচ্ছে, তা ভারতের জন্য উদ্বেগের বিষয়। এসব জঙ্গি কর্মকাণ্ডের জন্য ভারতের পক্ষ থেকে ঢাকা সরকারের প্রতি হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে, যাতে তারা এই ধরনের কার্যকলাপ প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়।

মিস্রী আরও জানিয়েছেন, তার ঢাকা সফরের পর সম্পর্কের মধ্যে কিছু উল্লেখযোগ্য উন্নতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তিনি বলেন, “বাংলাদেশে ভারত-বিরোধী চিত্রটি বাড়িয়ে দেখানো হচ্ছে, এবং ভারত-বিরোধিতার বিষয়টিও অনেকাংশে অতিরঞ্জিত হচ্ছে। তবে, সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতন বিষয়টি যে মনগড়া নয়, তা ভারতীয় কর্মকর্তারা স্পষ্টভাবে দাবি করেছেন।” তিনি এই বিষয়ের প্রতিকার নিশ্চিত করতে বাংলাদেশের সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

ভারতীয় পক্ষের দাবি, বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতন বা সহিংসতার ঘটনা অনুপ্রবেশী বা মনগড়া নয়। এ ধরনের সহিংসতার ফলস্বরূপ, ভারতের পক্ষ থেকে বাংলাদেশ সরকারের কাছে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে। মিস্রী বলেছেন, “বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের অধিকার ও নিরাপত্তা রক্ষা করা দরকার, যা বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ শান্তি ও অখণ্ডতা বজায় রাখতে সহায়ক হবে।”

বৈঠকের সময়, মিস্রী সাংসদদের জানিয়ে দেন যে, ভারত বাংলাদেশে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সম্পর্কের মধ্যে কোনো হেরফের ঘটবে না এবং খাদ্যপণ্যসহ প্রয়োজনীয় অন্যান্য পণ্য ভারত থেকে বাংলাদেশে রফতানি অব্যাহত থাকবে। তবে, বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ভারতীয় ভিসা ব্যবস্থাকে আগের জায়গায় ফিরিয়ে আনতে বলা হয়েছে। মিস্রী এই বিষয়ে পরিষ্কারভাবে জানান, ভারত সরকারের পক্ষে খাদ্যপণ্য ও অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের রফতানি নিয়ে কোনো পরিবর্তন আসবে না, কিন্তু বাংলাদেশের দাবি অনুযায়ী ভারতীয় ভিসা ব্যবস্থা নিয়ে কোনো সিদ্ধান্তের বিষয়ে ভারত সরকার পরবর্তীতে সিদ্ধান্ত নিবে।

এদিকে, বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা ও নির্যাতনের ঘটনা প্রায়ই আন্তর্জাতিক স্তরে আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে। বিশেষত, ৪ থেকে ২০ অগস্ট পর্যন্ত ঘটিত সহিংসতার পর থেকে ভারতীয় সরকার বারবার এই বিষয়টি উত্থাপন করেছে। এসব ঘটনার মধ্যে মন্দিরে আক্রমণ, ঘর-বাড়িতে অগ্নিসংযোগ, লুটপাট এবং বিভিন্ন ধরনের সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান পরিষদও এই বিষয়গুলো সামনে এনেছে এবং বাংলাদেশ সরকারকে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য আহ্বান জানিয়েছে।

এছাড়া, মিস্রী বৈঠকে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে বাণিজ্য সম্পর্কের বিষয়ে আশ্বস্ত করেছেন। ভারত- বাংলাদেশ সম্পর্কের মূল স্তম্ভ হচ্ছে পারস্পরিক বাণিজ্য এবং সম্পর্কের উন্নতি, বিশেষ করে খাদ্যপণ্য ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় পণ্যের রফতানি। এই সম্পর্কের উন্নতির জন্য মিস্রী বিশেষভাবে বলেছেন, “এটি নিশ্চিত করতে হবে যে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য সম্পর্ক অব্যাহত থাকবে।”

বাংলাদেশের পক্ষ থেকে মিস্রীকে জানানো হয়েছে যে, তারা কোনো ধরনের ভারত-বিরোধী প্রচারণা বাড়ানোর চেষ্টা করছে না, তবে বাংলাদেশে ঘটে যাওয়া সহিংসতা এবং সংখ্যালঘু নির্যাতন বিষয়টি ব্যাপকভাবে অতিরঞ্জিত হচ্ছে। এই বিষয়ে ভারতীয় কর্তাদের পক্ষ থেকে অত্যন্ত সতর্ক বার্তা দেওয়া হয়েছে, যাতে বাংলাদেশ সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়।

বাংলাদেশের অভ্যন্তরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলেও, বৈঠক শেষে মিস্রী যে “নজরে পড়ার মতো” উন্নতির কথা বলেছেন, তা রাজনৈতিক পর্যায়ে বেশ গুরুত্ব পেয়েছে। বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের ভবিষ্যত নিয়ে মিস্রী কিছু আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন, তবে তিনি এই বিষয়টির গুরুত্বও তুলে ধরেছেন যে, বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দৃঢ় পদক্ষেপ নিতে হবে।

এছাড়া, ভারতীয় সংসদীয় কমিটি এই বিষয়ে আলোচনা করে, বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা বিষয়ে ভারতের অবস্থান পরিষ্কার করার আহ্বান জানিয়ে, বাংলাদেশ সরকারের কাছে তাদের দায়বদ্ধতা মেনে চলার জন্য পরামর্শ দিয়েছে।

তারিখ: ১৪.১২.২০২৪