অপহরণের হুমকি বাংলাদেশে, হিন্দু নাবালিকা পালিয়ে ভারতে
Categories:

বাংলাদেশ থেকে পালিয়ে ভারতে আসা ১৭ বছর বয়সি নাবালিকা বিএসএফের হাতে ধরা পড়েন। তিনি দাবি করেছেন, মৌলবাদীরা তাকে এবং তার পরিবারকে অপহরণের হুমকি দিচ্ছিল। আইনি পথে ভারতে আসতে সময় অনিশ্চিত ছিল, তাই পায়ে হেঁটে সীমান্ত পার করেন তিনি।
ঢাকা, ১২ ডিসেম্বর, ২০২৪: বাংলাদেশের ১৭ বছর বয়সি এক নাবালিকা, যিনি ইসকন ধর্মাবলম্বী, সম্প্রতি ভারতে পালিয়ে এসেছেন। উত্তর দিনাজপুরে বিএসএফের হাতে ধরা পড়ার পর, তার দাবি অনুযায়ী, মৌলবাদী গোষ্ঠী তাকে এবং তার পরিবারকে একাধিকবার হুমকি দিয়েছে। পরিস্থিতি এতটাই খারাপ হয়ে ওঠে যে, তাকে অপহরণের হুমকিও দেওয়া হয়। এই পরিস্থিতি থেকে রক্ষা পেতে, তিনি বাংলাদেশ ছেড়ে ভারতে আসার সিদ্ধান্ত নেন। তবে ভারতীয় ভিসার জন্য আইনি প্রক্রিয়া যথেষ্ট সময়সাপেক্ষ হওয়ায়, নাবালিকা সীমান্ত পাড়ি দিতে পায়ে হেঁটেই ভারতের দিকে রওনা হন।
বিএসএফের কাছে ধরা পড়ার পর, তরুণী জানিয়ে দেন যে তার ভারতে আত্মীয়রা আছেন এবং তাদের কাছে যেতে চেয়েছিলেন। পরে তাকে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশে হস্তান্তর করা হয়। ভারতীয় পুলিশ তার বক্তব্য যাচাই করার চেষ্টা করছে। তদন্তকারী অফিসাররা জানিয়েছেন, তারা মেয়েটির দাবি অনুসারে তার আত্মীয়দের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করছেন, বিশেষ করে জলপাইগুড়ি জেলায় যাদের বাস রয়েছে। এছাড়া, ওই তরুণী সীমান্ত পার করতে কোনো দালালের সাহায্য নিয়েছিলেন কি না, তা খতিয়ে দেখার জন্য তদন্ত চলছে।
এদিকে, পুলিশ জানিয়েছে, ধৃত নাবালিকা বাংলাদেশের পঞ্চগড় জেলার বাসিন্দা। তিনি পায়ে হেঁটেই সীমান্ত পার করে ভারতে প্রবেশ করেন। বিএসএফ তার গতিবিধি লক্ষ্য করে তাকে আটক করে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম পিটিআইয়ের কাছে, তরুণীর ভারতীয় এক আত্মীয় জানিয়েছেন যে, তার পরিবার ইসকন ধর্মাবলম্বী। তারা জানান, মৌলবাদীরা তাদের পরিবারকে অত্যন্ত রূঢ়ভাবে হুমকি দিচ্ছিল এবং সম্প্রতি তরুণীকে অপহরণের হুমকি দেওয়া হয়। এই কারণে, তার পরিবার তাকে ভারতে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয়। তবে তার পাঠানো সময় নির্দিষ্ট ছিল না, সেক্ষেত্রে পায়ে হেঁটেই তিনি সীমান্ত পার করেন।
তরুণী জানান, তার পরিবার কিছুদিন ধরেই মৌলবাদীদের হুমকির মুখে ছিল। একদিকে তার বাবা, যিনি বাংলাদেশে মেডিক্যাল রিপ্রেজেন্টেটিভের কাজ করতেন, দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ ছিলেন, অন্যদিকে তার পরিবার মৌলবাদী হুমকির শিকার হয়ে একেবারে আতঙ্কে ছিল। তার দাবি, মৌলবাদী গোষ্ঠী তাকে এবং তার পরিবারকে খুনের হুমকি দেয়। এই পরিস্থিতির মধ্যে, তার পরিবার তার নিরাপত্তার জন্য ভারতে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয়।
এদিকে, পুলিশ ও বিএসএফ এই ঘটনায় তদন্ত শুরু করেছে। তারা মীমাংসা করতে চাইছে যে, ওই তরুণীকে সীমান্ত পার করতে কোনো দালাল সাহায্য করেছে কি না, এবং তার দাবি সত্যি কি না। পুলিশ তার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করার চেষ্টা করছে এবং বিষয়টি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে। বিএসএফ জানায়, ওই তরুণীকে সীমান্ত পার করতে দেখা যাওয়ার পর তারা তাকে আটক করে এবং তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তদন্তকারী কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তারা ভারতে আসার পর তরুণীর আত্মীয়দের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করছেন। এই ঘটনায় পুলিশ আরও জানায়, তারা ওই তরুণীকে আটক করার পরে তার সত্যতা যাচাই করতে চাইছে, যাতে সীমান্ত পার করার সময় যদি কোনো দালালের সাহায্য নেয়া হয়ে থাকে, তা নিশ্চিত করা যায়।
অন্যদিকে, ওই তরুণী যে আত্মীয়দের কাছে যেতে চেয়েছিলেন, তাদের মধ্যে যারা জলপাইগুড়ি এলাকায় থাকেন, তাদের সঙ্গেও যোগাযোগ করা হচ্ছে। ভারতে অবস্থিত তার আত্মীয়রা জানিয়েছেন, তরুণী এবং তার পরিবার দীর্ঘদিন ধরে মৌলবাদী হুমকির শিকার হচ্ছিলেন এবং তার পরিবার ইসকনের অনুসারী হওয়ায় বিশেষভাবে লক্ষ্যবস্তু হয়ে উঠেছিল। তারা জানান, বাংলাদেশে তার বাবা দীর্ঘদিন অসুস্থ ছিলেন, এবং পরিস্থিতির অবনতি ঘটলে পরিবারের সদস্যরা তাকে ভারতে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয়।
এই ঘটনাটি বাংলাদেশ এবং ভারতের সীমান্ত নিরাপত্তা নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে। একদিকে, নাবালিকা ও তার পরিবারকে মৌলবাদীদের হুমকির কারণে বিপদে পড়তে হয়েছে, অন্যদিকে তারা নিরাপত্তা পেতে ভারতে আসার চেষ্টা করেন। তবে এই সীমান্ত পার হওয়ার ক্ষেত্রে আইনি পথে অনিশ্চয়তার কারণে তরুণীকে পায়ে হেঁটে সীমান্ত পার হতে হয়েছে, যার ফলে বিএসএফ তাকে আটক করেছে।
এদিকে, এই ঘটনা নিয়ে পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনী একযোগে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে এবং পরবর্তী পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত। তাদের কাছে এখন প্রশ্ন হচ্ছে, ওই তরুণীকে সীমান্ত পার করতে সাহায্যকারী দালালরা কে বা কারা এবং তাদের কোন ভূমিকা ছিল।
তারিখ: ১৪.১২.২০২৪