ভারতের সীমান্তে ৪ বাংলাদেশি হিন্দুকে গ্রেফতার, নাবালিকা উদ্ধার
Categories:

তেঁতুলিয়া সীমান্তে ভারতে অনুপ্রবেশের চেষ্টা করার সময় ৪ বাংলাদেশি হিন্দুকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ৩ জন এক পরিবারের সদস্য। এক নাবালিকা বাংলাদেশ থেকে পালিয়ে ভারতে আসেন, তাকে বিএসএফ গ্রেফতার করে। তদন্ত চলছে, দালালদের সম্পর্কেও অনুসন্ধান।
তেঁতুলিয়া, ১২ ডিসেম্বর, ২০২৪: বাংলাদেশের তেঁতুলিয়া সীমান্তে ভারতে অনুপ্রবেশের চেষ্টা করার সময় চার বাংলাদেশি হিন্দুকে গ্রেফতার করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। রিপোর্ট অনুযায়ী, দেবনগড় ইউনিয়নের সুকানী সীমান্তের ৭৪০ নম্বর মেইন পিলারের ৩ নম্বর সাব–পিলার এলাকা থেকে একই পরিবারের তিন সদস্যসহ মোট চারজনকে গ্রেফতার করা হয়। ধৃতদের মধ্যে মণিরাম বর্মণ (৫২), তার স্ত্রী হীরা রানি বর্মণ (৩৫), মণিরামের প্রথম স্ত্রীর ছেলে রিপন বর্মণ (২১) এবং প্রতিবেশী নিমাই চন্দ্র বর্মণ রয়েছেন। এরা সবাই বাংলাদেশের ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার ধোন্দগাঁও এলাকার বাসিন্দা।
বিএসএফের নজরে আসার পর বিজিবিকে (বাংলাদেশ সীমান্তরক্ষী বাহিনী) অবহিত করা হয়, পরে বিজিবি তাদের গ্রেফতার করে। তাদের কাছ থেকে ১৪ হাজার ৭০০ বাংলাদেশি টাকা, ৪০৫ ভারতীয় রুপি, এক ভরি সোনার গয়না এবং ৭ ভরি রুপোর গয়না উদ্ধার করা হয়েছে। এ ছাড়া, ধৃতদের কাছ থেকে আরও একটি তথ্য পাওয়া যায় যে, তারা সীমান্ত পার হওয়ার জন্য স্থানীয় একটি দালালচক্রের সাহায্য নিয়েছিলেন এবং দালালকে এক লাখ টাকা ঘুষ দিয়েছিলেন।
ধৃতদের জেরা করে আরও জানা যায়, তারা ভারতে আসতে চাইছিলেন। একই সময়, এক নাবালিকা, যিনি বাংলাদেশে মৌলবাদী হুমকির মুখে ছিলেন, সীমান্ত পার করে ভারতে চলে আসেন। ১৭ বছর বয়সি ওই নাবালিকা পায়ে হেঁটে সীমান্ত পার করেছিলেন এবং ভারতীয় বিএসএফের হাতে ধরা পড়েন। পরবর্তীতে তাকে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
তদন্তকারী কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ওই তরুণী দাবি করেছেন যে, বাংলাদেশে তার পরিবারকে মৌলবাদীরা হুমকি দিচ্ছিল। বিশেষ করে, তাকে অপহরণ করার জন্যও হুমকি দেওয়া হয়। তার পরিবারও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছিল, তাই সে ভারতে আসার পরিকল্পনা করে। তার অভিযোগ, বিগত কয়েক সপ্তাহ ধরে মৌলবাদীরা তার পরিবারকে প্রতিনিয়ত হুমকি দিয়েছিল এবং কিছুদিন আগে তাকে অপহরণেরও হুমকি দেওয়া হয়। এর পরই সে ভারত আসার সিদ্ধান্ত নেয় এবং সীমান্ত পার করে।
পুলিশ জানায়, ওই তরুণী জানান যে, তার ভারতে আত্মীয়রা আছেন এবং তিনি তাদের কাছে যেতে চেয়েছিলেন। তবে পুলিশ এখনও তার দাবি যাচাই করছে এবং এ বিষয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে। পুলিশ আরও খতিয়ে দেখছে, সীমান্ত পার করতে ওই তরুণীকে কেউ সাহায্য করেছে কি না। ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনী এই ঘটনার পর পুলিশকে অবহিত করেছে এবং তারা ওই তরুণীকে চিহ্নিত করার চেষ্টা করছে।
এদিকে, ওই নাবালিকার আত্মীয়রা দাবি করেছেন যে, তারা বাংলাদেশের পঞ্চগড় জেলার বাসিন্দা। নাবালিকার বাবা একজন মেডিক্যাল রিপ্রেজেন্টেটিভ ছিলেন এবং তার মা দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ ছিলেন। তারা জানান, নাবালিকার পরিবার ইসকনের ভক্ত এবং তাদের মৌলবাদীরা বহুদিন ধরেই হুমকি দিয়ে আসছিল।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সেই তরুণী জানিয়েছে, তার পরিবারকে বাংলাদেশের মৌলবাদীরা খুন করার হুমকি দিয়েছিল। তিনি ও তার পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছিলেন, তাই পরিবারের পক্ষ থেকে তাকে ভারতে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে, কখন তাকে পাঠানো হবে তা ঠিক করা হয়নি এবং অবশেষে তাকে পায়ে হেঁটে সীমান্ত পার করতে হয়।
এই ঘটনার পর পুলিশ জানিয়েছে, তারা নাবালিকার পরিবার ও আত্মীয়দের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করছে। পাশাপাশি, নাবালিকাকে সীমান্ত পার করতে সাহায্যকারী দালালদেরও চিহ্নিত করা হচ্ছে। তদন্তকারী কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তারা বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখছেন এবং দ্রুত তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যাবেন।
এদিকে, ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে আরও জানানো হয়েছে যে, বাংলাদেশ থেকে ভারতে আসা ওই তরুণীকে বিএসএফ গ্রেফতার করার পর, পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ তাকে গ্রহণ করেছে। তারা এই বিষয়টি তদন্ত করে নিশ্চিত করবে যে, নাবালিকা সীমান্ত পার করতে সাহায্যকারী দালালরা কোথায় এবং কীভাবে কাজ করছেন।
অপরদিকে, বাংলাদেশি ৪ জনের গ্রেফতারের বিষয়েও তদন্ত চলছে। তাদের আটক করার পর, ভারতীয় কর্তৃপক্ষ তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে প্রস্তুত। বিএসএফের হাতে ধরা পড়া এই ঘটনাটি ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন প্রশ্ন উত্থাপন করেছে।
তারিখ: ১৪.১২.২০২৪