বাংলাদেশে হিন্দু নির্যাতন, নোবেল শান্তিজয়ী ইউনূসকে 'সতর্ক' করলেন নোবেলজয়ী কৈলাসও

নোবেলজয়ী কৈলাশ সত্যার্থী বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা ও মন্দির ভাঙচুরের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেছেন, এই ধরনের আক্রমণ সংখ্যালঘুদের মৌলিক অধিকারকে অবরুদ্ধ করছে এবং দক্ষিণ এশিয়ার শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি হতে পারে। তিনি পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
বাংলাদেশে হিন্দু নির্যাতন, নোবেল শান্তিজয়ী ইউনূসকে 'সতর্ক' করলেন নোবেলজয়ী কৈলাসও

নোবেলজয়ী কৈলাশ সত্যার্থী বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা ও মন্দির ভাঙচুরের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেছেন, এই ধরনের আক্রমণ সংখ্যালঘুদের মৌলিক অধিকারকে অবরুদ্ধ করছে এবং দক্ষিণ এশিয়ার শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি হতে পারে। তিনি পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

ঢাকা, ১০ ডিসেম্বর, ২০২৪: নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী কৈলাশ সত্যার্থী বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা এবং মন্দির ভাঙচুরের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। কৈলাশ সত্যাত্রী, যিনি গত চার দশক ধরে বাংলাদেশে শিশু অধিকার এবং শিক্ষা নিয়ে কাজ করছেন, বলেছেন, তিনি সবসময় মানুষের মধ্যে আস্থা এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। তবে, সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের ওপর আক্রমণ এবং ধর্মীয় স্থানগুলির ওপর হামলা, বিশেষত মন্দির ভাঙচুরের ঘটনাগুলো তাকে দুশ্চিন্তায় ফেলেছে।

তিনি বলেন, “মানুষের মৌলিক অধিকার অবরুদ্ধ হচ্ছে, এবং তারা আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।” তার মতে, এই ধরনের ঘটনা শুধুমাত্র বাংলাদেশের অভ্যন্তরেই নয়, বরং পুরো দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের স্থিতিশীলতা ও শান্তির জন্য হুমকির কারণ হতে পারে। তিনি সতর্ক করে দেন যে, যদি এই সমস্যার সমাধান না করা হয়, তবে এর প্রভাব বাংলাদেশ ছাড়িয়ে পুরো অঞ্চলে পড়বে।

বিভিন্ন জায়গায় সংখ্যালঘুদের ঘর-বাড়ি এবং মন্দিরে হামলার ঘটনা ঘটেছে। ২৫ অক্টোবর চট্টগ্রামে সন্ন্যাসী চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে গ্রেপ্তার করার পর সেখানে ব্যাপক বিক্ষোভ হয়। ২৬ নভেম্বর ভারতের পক্ষ থেকেও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয় এবং চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের জামিন অস্বীকারের ঘটনাটি উল্লেখ করা হয়, যিনি বাংলাদেশ সম্মিলিত সনাতন জাগরণ জোটের মুখপাত্র ছিলেন।

এরপর ৬ ডিসেম্বর ঢাকার উপকণ্ঠে মহাভাগ্য লক্ষ্মীনারায়ণ মন্দিরে হামলা করা হয়। মন্দিরের তত্ত্বাবধায়ক বাবুল ঘোষ জানান, দুর্বৃত্তরা পেট্রোল ঢেলে মন্দিরের প্রতিমা পুড়িয়ে দিয়েছে। এ ঘটনায় একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। এছাড়া, চট্টগ্রাম ও অন্যান্য অঞ্চলেও সংখ্যালঘুদের ওপর আক্রমণের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে হিন্দু মন্দিরে আগুন দেওয়া এবং সংখ্যালঘুদের ঘর-বাড়িতে হামলা, লুটপাট, ভাঙচুরের ঘটনা অন্যতম।

বিগত মাসগুলিতে এসব ঘটনার পর, ভারত ও বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের কাছে হিন্দু এবং অন্যান্য সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি উঠেছে। ভারত সরকার সংখ্যালঘুদের শান্তিপূর্ণ সমাবেশ ও মত প্রকাশের স্বাধীনতার অধিকার নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে।

এই ঘটনায়, নোবেলজয়ী কৈলাশ সত্যার্থী ভারতের পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য মহম্মদ ইউনূসকে বার্তা পাঠিয়েছেন। তিনি বলেছেন, “এই ধরনের হামলা সংখ্যালঘুদের মৌলিক অধিকারকে খর্ব করছে, এবং এটি মানবাধিকার লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য হতে পারে।” তিনি আরও বলেন, “যে কোনও জায়গায় মানবাধিকার লঙ্ঘন মানুষের বিবেকের উপর আক্রমণ, এবং এ ধরনের কর্মকাণ্ড কোনওভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।”

বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের প্রতি আক্রমণের ঘটনাগুলি নতুন নয়, তবে সাম্প্রতিক সময়ে এসব হামলার মাত্রা বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষত হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের ওপর হামলা ও মন্দিরে আক্রমণ উদ্বেগজনকভাবে বেড়ে গেছে। এসব ঘটনায় স্থানীয় প্রশাসনও তৎপর হয়েছে, তবে অনেকেই অভিযোগ করেছেন যে, যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণে বিলম্ব হচ্ছে।

বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে আশা করা হচ্ছে যে, তারা দ্রুত এসব ঘটনার বিচার কার্যক্রম সম্পন্ন করবে এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে। বিশেষত সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মধ্যে ভয় এবং অনিরাপত্তা কাটানোর জন্য কার্যকরী পদক্ষেপ নিতে হবে।

কৈলাশ সত্যার্থী বলেন, “এই ধরনের আক্রমণ, বিশেষ করে ধর্মীয় স্থানগুলোতে হামলা, মানুষের আস্থা এবং সামাজিক সম্পর্কের ওপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলছে। এটি শুধু বাংলাদেশে নয়, বরং পুরো দক্ষিণ এশিয়ার শান্তি ও সমঝোতার জন্য হুমকির কারণ হতে পারে।”

তিনি আরও বলেন, “মানবাধিকার লঙ্ঘন, বিশেষত সংখ্যালঘুদের ওপর আক্রমণ, সব ধরনের সহিংসতা এবং সাম্প্রদায়িক বিভেদ আমাদের সমাজের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক।” তাঁর মতে, এ ধরনের ঘটনা দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

অন্যদিকে, বাংলাদেশের স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারাও এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং সরকারের প্রতি তাদের আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। তারা জানিয়েছেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আনা হলে দেশের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বিঘ্নিত হতে পারে এবং আন্তর্জাতিকভাবে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাবিদরা এবং সমাজকর্মীরা বলেছেন, “এ ধরনের ঘটনায় দেশের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির উপর বড় ধরনের আঘাত পড়ছে। এর ফলে সংখ্যালঘুদের মধ্যে এক ধরনের অবিশ্বাস ও অস্থিরতা তৈরি হচ্ছে, যা দেশের উন্নয়ন ও সামাজিক শান্তির পক্ষে ভালো কিছু নয়।”

এছাড়া, মানবাধিকার সংগঠনগুলি এই ধরনের সহিংসতার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং বাংলাদেশ সরকারের কাছে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। তারা জানিয়েছে, “যতদিন না সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হচ্ছে, ততদিন পর্যন্ত এই ধরনের সহিংসতা থামানো সম্ভব নয়।”

তবে, বাংলাদেশের সরকার এবং প্রশাসন আশ্বাস দিয়েছে যে, তারা দ্রুত পরিস্থিতি মোকাবিলা করবে এবং সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে। তারা দাবি করেছে, সরকারের প্রচেষ্টায় শান্তি এবং স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে।

তারিখ: ১০.১২.২০২৪