চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের জামিনে পুলিশের ওপর হামলায় ৮ আসামি রিমান্ডে

চট্টগ্রামে চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের জামিন শুনানি কেন্দ্র করে পুলিশের ওপর হামলার মামলায় ৮ জনকে পাঁচ দিন রিমান্ডে পাঠিয়েছে আদালত। গত ২৬ নভেম্বর আদালত প্রাঙ্গণে সংঘর্ষের সময় আইনজীবী সাইফুল ইসলাম হত্যা হন। এই ঘটনায় ৩১ জনের নাম উল্লেখসহ ছয়টি মামলা দায়ের হয়েছে।
চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের জামিনে পুলিশের ওপর হামলায় ৮ আসামি রিমান্ডে

চট্টগ্রামে চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের জামিন শুনানি কেন্দ্র করে পুলিশের ওপর হামলার মামলায় ৮ জনকে পাঁচ দিন রিমান্ডে পাঠিয়েছে আদালত। গত ২৬ নভেম্বর আদালত প্রাঙ্গণে সংঘর্ষের সময় আইনজীবী সাইফুল ইসলাম হত্যা হন। এই ঘটনায় ৩১ জনের নাম উল্লেখসহ ছয়টি মামলা দায়ের হয়েছে।

চট্টগ্রাম, ১০ ডিসেম্বর, ২০২৪: চট্টগ্রামে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের জামিনের শুনানি নিয়ে পুলিশের ওপর হামলার ঘটনার তদন্তে পুলিশ আটজনকে গ্রেপ্তার করেছে। আদালত তাদের পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে। চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. আলমগীর হোসেন মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে এই আদেশ দেন। এই আট আসামি হলেন ইমন চক্রবর্তী, সুজন চন্দ্র দাস, সৌরভ দাস, মোহাম্মদ রফিক, সুমন দাস, রুপন দাস, আহমেদ হোসেন, এবং সাকিবুল আলম।

নগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (প্রসিকিউশন) মফিজ উদ্দিন প্রথম আলোকে জানান, পুলিশ এই আট আসামিকে সাত দিনের রিমান্ডে নিতে আবেদন করেছিল। তবে আদালত পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে আদালতে হাজির করা হয় এবং পরে তাদের ফের কারাগারে পাঠানো হয়।

চিন্ময় কৃষ্ণ দাস, যিনি সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র, রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় গ্রেপ্তার হন। তার জামিন শুনানিকে কেন্দ্র করে ২৬ নভেম্বর আদালত প্রাঙ্গণে সহিংস ঘটনা ঘটে। ওই দিন আইনজীবী সাইফুল ইসলামকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করা হয়, এবং সংঘর্ষের মধ্যে পুলিশের ওপর হামলা চালানো হয়।

ঘটনার পর সাইফুল ইসলাম হত্যার বিষয়ে তার বাবা জামাল উদ্দিন বাদী হয়ে ৩১ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন। এই মামলার পাশাপাশি আরও পাঁচটি মামলা দায়ের করা হয়, যার মধ্যে পুলিশের ওপর হামলা, কাজে বাধা দেওয়া, আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থীদের ওপর হামলা এবং ককটেল বিস্ফোরণের অভিযোগ রয়েছে। ছয়টি মামলায় মোট ৪০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে হত্যাকাণ্ডে জড়িত বলে অভিযোগে ১০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

এছাড়াও, গতকাল সোমবার পুলিশি হামলা ও কাজে বাধাদানের ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া দুই আসামির ওকালতনামা দিলে চট্টগ্রাম মহানগর সরকারি কৌঁসুলি নেজাম উদ্দিন বিক্ষোভের মুখে পদত্যাগ করেন।

চট্টগ্রামের আইনজীবী সাইফুল ইসলামের হত্যার ঘটনা নিয়ে তদন্তকারী কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ৫২ সেকেন্ডের একটি ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে, যেখানে দেখা যায়, ধারালো অস্ত্র দিয়ে সাইফুল ইসলামকে কোপাচ্ছে ওম দাশ, চন্দন এবং রনব। অন্যরা তাকে পেটাচ্ছে, আর সেখানে আরও ২৫-৩০ জন উপস্থিত ছিলেন। অধিকাংশ উপস্থিতি ছিলেন পরিচ্ছন্নতাকর্মী।

এদিকে, গ্রেপ্তার হওয়া আসামি চন্দন দাস আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন, যেখানে তিনি আইনজীবী সাইফুল ইসলামকে হত্যার ঘটনা বর্ণনা করেন।

এই সহিংস ঘটনাটি চট্টগ্রামের আদালত প্রাঙ্গণে বাংলাদেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। আইনজীবীদের ওপর হামলার ঘটনায় সরকারের প্রতি ক্ষোভ ও প্রতিবাদ প্রকাশ করা হয়েছে, পাশাপাশি ঘটনার তীব্র নিন্দাও জানানো হয়েছে।

তারিখ: ১০.১২.২০২৪